অক্ষম না হলে কারোই সরকারি সুবিধা নেওয়া উচিত নয়

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : কোনো ব্যক্তি যদি অক্ষম ও অসমর্থ হন তাহলে তিনি বেঁচে থাকার জন্য, সন্তানের জন্য ও নিজের জন্য সরকারি সুবিধা নিতে পারেন। কিন্তু যারা সক্ষম ও যারা চেষ্টা করলে নিজেদের ও পরিবারের খরচ চালাতে পারেন ও প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারেন, তাদের কখনোই সরকারি সুবিধা নেওয়া উচিত নয়। সেই সঙ্গে সরকারের ওপর ও আমেরিকান জনগণের ওপর বোঝা হওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের কখনোই মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের কোনো সুবিধা নেওয়া উচিত নয়। যারা নিয়েছেন, এখনো নিচ্ছেন তারা যেকোনো সময়ে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। ধরা পড়লে জরিমানা প্রদান করাসহ আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে পারেন। এ জন্য সাবধান ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিরুপায় না হলে কারোরই সরকারি কোনো সুবিধাই নেওয়া উচিত নয়। নিজেরা সাবলম্বী ও সামর্থ্যবান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে যে নতুন পাবলিক চার্জ রুল কার্যকর হতে যাচ্ছে, এর পরপরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে আরো কঠোর হতে পারে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও খতিয়ে দেখবে কেউ পাবলিক চার্জে উল্লেখিত সুবিধাগুলো নিয়েছেন কি না? বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ যেন কোনো তথ্য গোপন করে ও তার আয় গোপন করে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা না নেন। যা আয় করেন সেই অনুযায়ী ট্যাক্স প্রদান করেন। যদি কেউ তা না করেন, তাদের জন্য আগামীতে সমস্যা হবে। তারা বলেছেন, নতুন রুলটি ঘোষণা করার পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে এর স্থগিত চেয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার আদেশ কী দেন বিচারকেরা সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তার পরও তারা বলেছেন, সরকারি সুবিধাগুলো না নেওয়ার জন্য। তবে জরুরি অবস্থায় কী কী সুবিধা নেওয়া যাবে, তা রুলে উল্লেখ থাকার কারণে ওই সব সুবিধা নিতে সমস্যা নেই বলেও তারা মনে করছেন। সেই সঙ্গে এটাও মনে করছেন, ১৫ অক্টোবরের আগেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। নতুন রুল নিয়ে বাঙালি কমিউনিটির মানুষের অনেকের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।
অ্যাটর্নি অ্যাট ল (নিউইয়র্ক), বার অ্যাট ল (লন্ডন) ব্যারিস্টার ইসরাত সামী বলেন, আমেরিকা দেশটি ইমিগ্র্যান্টদের দ্বারা বিল্ড হয়েছে। এখানে ইমিগ্র্যান্টদের অবদান অনেক। এই দেশে দেখা যায় অনেকের বাড়িঘর আছে, কেউ কেউ একাধিক বাড়ির মালিক, এর পরও তারা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। যাদের কোনো উপায় নেই তারা নিতে পারেন। কিন্তু যারা সামর্থ্যবান তারা যে নেন সেটা বেআইনি ও অন্যায়। এটা যারা করছেন তাদের এসব সুবিধা নেওয়া পরিহার করা উচিত। তিনি বলেন, যারা সুবিধা না নিলেও পারেন, তাদেরও কেউ কেউ নিচ্ছেন বলে শোনা যায়। যেমন প্রেগন্যান্সিতে কেউ মেডিকেড সুবিধা নিলে, ২১ বছরের নিচের কোনো সন্তানের জন্য মেডিকেড নিলে, মেডিকেলে জরুরি অবস্থায় কেউ সেবা নিলে ও চিকিৎসা নিলে সেটা পাবলিক চার্জের আওতায় পড়বে না। তবে এসেনশিয়াল প্ল্যান আর মেডিকেড এক নয় বলে আমার জানা নেই। এটা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবেন। নতুন রুলে কিন্তু বলা আছে, কোনটা কোন পাবলিক চার্জের আওতায় পড়বে আর কোনটা পড়বে না। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা পাবলিক চার্জের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তারা নানাভাবেই উদ্বিগ্ন। আসলে এটা উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়ই বটে। তবে যারা প্রমাণ দিতে পারবেন তাদের সামনে আর কোনো অপশন ছিল না তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যাদের বেলায় প্রমাণ হবে তার সামর্থ্য থাকার পরও তিনি সরকারি সুবিধা নিয়েছেন, তিনি বিপদে পড়তে পারেন। এই রুল ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হলে তখন আসলে এ বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট ধারণা মানুষ পাবে। আগামীতে কেস বাই কেস হিসেবে বিবেচনা করেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তাই আমরা বলতে পারব না কোনটিতে সমস্যা হবে আর কোনটিতে হবে না। তিনি বলেন, নতুন যে রুল কার্যকর করতে যাচ্ছে প্রশাসন, এটা আসলে আমেরিকার নাগরিকদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
অ্যাটর্নি অ্যাট ল (নিউইয়র্ক) ও জুরিস ডক্টর মীর এম এম রহমান বলেন, বাঙালি কমিউনিটিকে বলব এখনই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কিছু নেই। যাদের গ্রিন কার্ড আছে, যারা সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করবেন এবং গ্রিন কার্ড নবায়ন করবেন, তাদের জন্য নতুন রুল সমস্যা তৈরি করবে না। যেমন ইউ ভিসা, টি ভিসা, প্রেগন্যান্ট নারী, ২১ বছরের নিচে যারা জরুরি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেবেন তাদের সমস্যা হবে না। এপ্লয়মেন্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা ও ডাকাওয়ালাদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে না। কেবল সমস্যা তৈরি করবে পারিবারিক ভিসা। নতুন নিয়ম কার্যকর করার পর পারিবারিকভাবে যারা এ দেশে ইমিগ্র্যান্ট হতেন কিংবা এ দেশের সিটিজেনরা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য আবেদন করতেন, তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়তে পারেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটির কেউ কেউ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন ও তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন এমন কথা শোনা যায়। যারা এমনটা করছেন তাদের জন্য আগামীতে যেকোনো সময়ে সমস্যা হতেই পারে। আমরা বলব, যারা এ দেশে আছেন তারা কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য দেবেন না ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সরকারের কোনো সুবিধা নেবেন না। যারা এটা করেছেন তারা আগামীতে ওই সুবিধা আর কন্টিনিউ করবেন না। তিনি বলেন, যারা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সুবিধা নিয়েছেন, তারা অন্যায় করেছেন। এটা তাদের বোঝা দরকার। এমন কেউ যদি থেকে থাকেন তারা বিষয়গুলো বুঝে নিজেই নিজের ভুল সংশোধন করবেন।
তবে সরকার চাইছে যারা এ দেশে আসছেন ও আগামী দিনে আসবেন তারা অবশ্যই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবেন। তারা সামর্থ্যবান সেটাও প্রমাণ করবেন। আগে পারিবারিক ভিসার জন্য আই ৮৬৪ ফরম পূরণ করতে হতো, তথ্য দিতে হতো। এখন ফরম আই-৯৪৪ এর প্রচলন হবে। যদিও এখনই এই ফরম আসেনি। তবে পারিবারিক ভিসার ক্ষেত্রে একজনকে তার সম্পদের বিবরণী দেওয়া ও ব্যাংকের তথ্য প্রদান করার পাশাপাশি তার আয়-ব্যয়ের সব তথ্যই দিতে হতো। আগামীতে এটা আরও বৃহৎ পরিসরে দিতে হবে। আমি মনে করি, সেটাও কঠিন কিছু হবে না। যারা সৎ থাকবেন ও সব তথ্য সঠিক দেবেন তাদের কোনো সমস্যা হবে না। মিথ্যা তথ্য দিলেই সমস্যার উদ্রেক হবে এবং একটার পর একটা সমস্যা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, যাদের গ্রিন কার্ড রয়েছে কিন্তু এই দেশে নিয়মিত বসবাস করেন না, তারা সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ যাদের গ্রিন কার্ড আছে, তারা যদি বছরে একবার বা দুবার ১০-৩০ দিনের জন্য আসা-যাওয়া করেন তাদের জন্য সমস্যা নেই। কিন্তু যারা ছয় মাস পর পর আসেন তারা সমস্যায় পড়তে পারেন কারণ এসব এন্ট্রি প্রতিবারই নতুন এন্ট্রি হিসেবে কাউন্ট হয়। ওই সব ব্যক্তির বেলায় এটা কর্তৃপক্ষ দেখতে পারে যে একটা মানুষের গ্রিন কার্ড আছে। তিনি এ দেশে থাকেন না। আবার এখানে এসে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সেবা নেন। তারা আগামী দিনে সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করলে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই পারেন। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তিনি এ দেশে নিয়মিত থাকছেন না। আবার সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন। কম টাকায় ট্যাক্স ফাইল করে বেনিফিট নিচ্ছেন, এগুলো ঠিক নয়। কারণ তারা এ দেশে তাদের থাকার সামর্থ্য প্রমাণ দিতে পারবেন না।
মোহম্মদ এন মজুমদার, এলএলএম বলেছেন, আমি মনে করি, বিনা মূল্যে সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করাই হলো পাবলিক চার্জ। মেডিকেড ছাড়াও ইন্স্যুরেন্সে বিভিন্ন প্ল্যান দিচ্ছে। মানুষ বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন এটা ঠিক করছেন না। নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সরকারের কোনো সুবিধা নেওয়াটা ঠিক নয়। কারণ যতক্ষণ নিজে কিছু করা সম্ভব ততক্ষণ চেষ্টা করে যাওয়া ও সরকারি সুবিধা না নেওয়া। কেউ কেউ প্রতারণা করেন কিংবা ভুল তথ্য দেন এ দেশে সরল বিশ্বাসে একজন যে তথ্য দেন। সেই তথ্য দেওয়ার ভিত্তিতে সুবিধাগুলো দিয়ে থাকে। এমনও আমরা দেখছি এখানে বাড়ি আছে একটি কিংবা ২-৩টি। তাদের বাড়ি থেকে ইনকাম আছে। আবার তারা নিজের দোকানে কিংবা ফলের দোকানে কাজ করে অর্থ উপার্জন করে। কিন্তু দেখায় যে তার ইনকাম নেই। আবার বলে যে তিনি চলতে-ফিরতে পারেন না। তার স্বাস্থ্য পরিচর্যা করা ও গোসল করানোসহ বিভিন্ন কাজের জন্য সাহায্যকারী প্রয়োজন। এ জন্য স্টেটের ও সরকারের সহায়তা নেন। এটা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করছে ইমিগ্রেশনের ওপর। সরকারের ওপর বোঝা কমাতে চাইছে। যারা প্রকৃতপক্ষে সাহায্য পাওয়ার উপযোগী তারা সাহায্য নিলে মনে হয় সমস্যা হবে না। তবে আমেরিকার স্বার্থবিরোধী কোনো কিছুই তারা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, নতুন রুল ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। আর সেটা কার্যকর হলে তখন অফিসাররা কেস বাই কেস মূল্যায়ন করবেন। হাউজিং সুবিধা ও ফুড স্ট্যাম্প যারা নিয়েছেন সেগুলো অবশ্যই পাবলিক চার্জের আওতায় পড়বে। তাদের জন্য সমস্যা হবে।
এখন তো এমন নিয়ম রয়েছে, যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কিংবা বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন তাদের কিছু কিছু কেস ধরাও পড়ছে। তারা যে পরিমাণ অর্থের সেবা নিয়েছেন, সেই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যদিও এখানে দুই ধরনের অপরাধ আছে। এক হলো সিভিল লায়াবিলিটি অন্যটি ক্রিমিনাল লায়াবিলিটি। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে সাধারণ যে পরিমাণ অর্থের সেবা নিয়েছেন ওই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। যারা অর্থ দিয়ে দিচ্ছেন তাদের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত যাচ্ছে না। বলা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা সিটির সঙ্গে কাজ করছি তাই এই বিষয়গুলো জানি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা মেডিকেড না নিয়ে মানুষ প্রাইভেট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ইন্স্যুরেন্স নিতে পারেন। এতে তার মাসে মাসে যে কিস্তি আসে, সেটা তিনি প্লে করতে পারেন। স্বল্পমূল্যে প্রাইভেট কোম্পানির কাছ থেকে ইন্স্যুরেন্স কিনে নিতে পারেন।
তিনি বলেন, বাঙালি কমিউনিটির জন্য সাজেশন হচ্ছে যারা সামর্থ্যবান তারা যদি কেউ ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের পাবলিক সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে তারা অনতিবিলম্বে তা সারেন্ডার করুন। আর যাদের প্রকৃতই কোনো উপায় নেই, তারা নিতে পারেন। তা ছাড়া নতুন রুলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকানরাই জয়ী হয়, তাহলে এই রুল তো কার্যকর হবে, সেই সঙ্গে নতুন নতুন আরও অনেক কঠিন নিয়মকানুন চালু হবে ও পুরনো অনেক আইনও কার্যকর হবে। আর ডেমক্রেটরা এলে তারা কিছুুটা লিবারেল হবে।
তিনি বলেন, যাদের পাবলিক চার্জ গ্রহণ করার মতো অতীত নজির রয়েছে ও এখনো সুবিধা নিচ্ছেন তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, এখনই ভয় পেয়ে সব সারেন্ডার না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোনো অ্যাটর্নির সঙ্গে কথা বলুন।
ব্যারিস্টার সৈয়দ আফতাব আহমেদ বলেন, নতুন পাবলিক চার্জ রুল জারি হওয়ার পর অনেকেই ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছেন। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। নিজ নিজ সমস্যা নিয়ে অ্যাটর্নি, চিকিৎসক কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদর সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।
তিনি বলেন, বাঙালি কমিউনিটির মানুষকে আমি বলব, ইতিমধ্যে যারা পাবলিক চার্জের সুবিধা নিয়ে ফেলেছেন তা ১৫ অক্টোবরের পর কোনোভাবেই কন্টিনিউ করা ঠিক হবে না। তবে কেউ যদি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর ফুড স্ট্যাম্প নেন, হাউজিং সুবিধাসহ পাবলিক চার্জের অন্যান্য সুবিধা নেন, তাহলে তার জন্য সমস্যা হবে।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, একটি পরিবারের যাদের মাসে ইনকাম ২২০০ ডলারের নিচে তারা মেডিকেড সুবিধা পাবেন আর যাদের ২২০১ এর বেশি তারা মেডিকেড নয় এসেনশিয়াল প্ল্যানের জন্য উপযুক্ত হবেন। তবে ইতিমধ্যে যারা এ দেশে সিটিজেন হয়ে গেছেন তাদের জন্য নতুন রুল কোনো সমস্যা হবে না, যদি না তার আয় বেশি থাকে। তবে কম আয়ের মানুষেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের এখানে আনতে গেলে পাবলিক চার্জের সুবিধা নিয়ে থাকলে সমস্যায় পড়তে পারেন। কিন্তু যারা এখনো সিটিজেন হননি, গ্রিন কার্ডধারী, সরকারের বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন তারা আগামী দিনে সমস্যায় পড়বেন। এ ছাড়া বিষয়টি এমন হলো যারা এ দেশে নতুন আসবেন তারা এসেই ভালো চাকরি ও ভালো বেতন পাবেন না। তাদের আয় থাকবে কম সেটা হলে তারা দেখা যাবে যে অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে কিংবা মেডিকেলে যেতে পারবেন না সরকারি সুবিধা ছাড়া। আবার সরকারি সুবিধা নিলে পাবলিক চার্জ হবে। আগামীতে সিটিজেনশিপ পেতে সমস্যা হবে। তাই বলা যায়, নতুন আসা ইমিগ্র্যান্টদের জন্য এটা সমস্যা সৃষ্টি করবে।
উল্লেখ্য, যদিও পাবলিক চার্জ রুলটির বিরোধিতা করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেটে মামলা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। সিটি থেকেও এই নতুন রুলের ব্যাপারে মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে কথা বলার জন্য আলাদা করে টেলিফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেখানে কথা বলে পরামর্শ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।