অগ্নিগর্ভা মা আমার

আহম্মদ হোসেন বাবু :

আমি আর আমার মা যেই গ্রামে থাকি
সেই গ্রাম নিয়ে লেখা, এখনো যে বাকি।
প্রতিদিন ভাবি আমি কিছু কিছু লিখি
লিখতে বসেই মাকে, কেন যেন দেখি।

মায়ের চাঁদমুখ দেখে হই আনমনা
কেটে গেছে কত রাত, লেখা তো হয় না!
অরণ্য মাঝে আছে ছোট ছোট বাড়ি
সেইখানে আছে পোঁতা জন্মের নাড়ি।

যদি তুমি সবুজকে খুব ভালোবাসো
আনন্দ হবে সাথি, যদি তুমি আসো।
সারা দিন কেটে যাবে শুনে পাখি-গান
পদ্মের লাল ফুলে, জুড়াবে যে প্রাণ!

মাঝিদের ভাটিয়ালি আরো যাবে শোনা
এই গ্রামে কত গাছ? যাবে না তা গোনা।
মনবাড়ি যদি তুমি খুঁজে পেতে চাও
দেরি কেন? যাও, মামুদপুরেই যাও।

এই গ্রামে মা তোমার পথ চেয়ে আছে
যুদ্ধের শেষে খোকা, ফিরবেই কাছে!
স্বাধীনতা পেতে কত প্রাণ বলিদান
কত নারী, কত ঘর ভেঙে খানখান!

প্রতিদিন মরুঝড় বহে মার বুকে!
অগ্নিগর্ভা ভেবে হাসি ফোটে মুখে।
উর্বর মাটি আর মানুষের ভিড়ে
সূর্যের মতো মাকে, রয়েছি যে ঘিরে।

আত্রাই নদীতীরে আমাদের গ্রাম
সকলের কাছে এটাই মোক্ষধাম।
মুক্তির চেতনায়, মাকে গিয়ে ধরি
এই মাটি বুকে নিয়ে, আমি যেন মরি ॥