অন্তঃপুরের বাসিন্দা

সাবিকুন্নাহার
মনে পড়ে-?
চৈত্র দহনে পোড়া মধ্যদুপুরের সেই বিষাদ স্মৃতি?
আমি, বড্ড ক্লান্ত-শ্রান্ত-আর তৃষিতচিত্তে মুক্তির প্রহর গুনছি।
হঠাৎ অজানা আগন্তুকের পদধ্বনি আমায় শিহরিত করে।

দৃষ্টির সীমানায় ঝলসে ওঠে,
পাত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমার হৃদয়ের পিদিম।
অস্ফুট কণ্ঠে শুধালে আমায়!
এসো না নীলকণ্ঠ জলে তৃষা মিটাই।

আমি না থ-বনে গেছি।
অপলক নয়ন,
বৃষ্টিভেজা তন্দ্রাচ্ছলে ঠোঁটের প্রাচীরভেদা আর্তনাদ!
কে তুমি? কী তোমার পরিচয়?

কেন জড়ালে মায়াজালের রন্ধ্রহীন গিঁটের মায়ায়?
দীপ্তমাখা ঠোঁটের অম্লান হাসিতে শুধালে আমায়,
চিনলে না তুমি?
আমি যে তোমার অনন্তপুর বাসিন্দা!

ও! তা-ই বুঝি?
কেন এলে জীবনসায়াহ্নের অবেলায়?
এখনই চলে যাবে? এলেই যখন থেকে যাও না কিছুক্ষণ!!
তোমার উষ্ণ আভায় রাঙিয়ে দাও বিদগ্ধ দহনের গ্লানি।

আমার সেকি-আকুতি!
নিষ্ফল আবেদন অগ্রাহ্য হলো তোমার প্রস্থানে।
কারণ!
বেলা শেষে তোমাকে যে যেতেই হবে দূর গগনে ফোটা তারার মেলায়।

হে অবিদিত!
যাবেই যখন! আমার শেষ প্রশ্নের জবাব দেবে কি?
যদি ফিরে আসে কখনো চৈত্র আলাপনের এমন সোনালি দুপুর!
হবে কি দেখা পিজরের গহ্বরে গচ্ছিত স্মৃতির আয়না!