অন্তর্সত্তার জাগরণ

ফাহিমা রহমান ফেরদৌসী

ভোরের হিমশীতল হাওয়ায়
শালিকের কিচিরমিচির শব্দে
ঘুম ভাঙত কখনো,
কিন্তু শান্ত-স্নিগ্ধ সকালটা
দেখা হতো না,
চিংড়ি মাছের মতো করে
নিশ্চুপ শুয়ে থাকতাম
মা এসে ডাকত রোজ-
ফাহিমা উঠ, উঠ
ওঠা হতো না,
দীর্ঘক্ষণ রাতজাগা
উঠতে দিত না আমাকে
চলছিল এভাবেই জীবন,
কারো অনুভবের রাজ্যে
এভাবেই সওয়ার ছিলাম
আমি।
হঠাৎ করেই ছন্দপতন
কালবৈশাখীর ঝড়ে
প্রাচীন বটবৃক্ষটি
ভেঙে যাওয়ার মতো
জীবনের ডালপালা
হলো এলোমেলো,
অনুভবের বাতায়নে
তখনই উঁকি দিলে তুমি
আড়ালে-আবডালে একটু-আধটুকু
কিংবা তার চেয়ে বেশি করে
দেখতে লাগলাম তোমাকে
পাড়ার অবুঝ বালিকা যেমন করে
দেখে নেয় দূরগামী কোনো ট্রেনকে।
ভাবিনি কোনো দিন
ধরা দেবে আমার চেতনার রাজ্যে
নিজেও ছিলাম কিছুটা সংশয়াপন্ন
অতীত কিংবা বর্তমান ভেবে
অবশেষে কেটে গেল সংশয়
দূর হয়ে গেল দোলাচলতার মেঘ,
বরণ করে নিলাম তোমায়
হৃদয়ের অন্তঃকোণে অতিসন্তর্পণে,
বৈশাখের দাবদাহ শেষে
কোমল-শীতল হাওয়াকে
যেমন বরণ করে নেয় পৃথিবী
তার মতো করে।
তোমাকে নিয়ে বেশি ভাবিনি
কোনো দিন,
ভাবতেও চাইনি,
না চাওয়ার মধ্যেও হয়ে গেলে ভাবনার অধিক।
সময় গড়িয়ে চলে
ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যায়
তাদেরই মতো করে,
ভাবনার গবাক্ষতলে
জড়িয়ে তোমায়
পার হয়ে গেল
দুই বছর কিংবা তারও অধিক সময়,
ঘোর অমাবস্যায়
এখন তোমাতেই খুঁজে পাই
পূর্ণিমার আলো
শান্তি, আশ্বাস কিংবা নির্ভরতা,
কোনো প্রতারণা কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার ছেঁড়া
জাল দিয়ে নয়,
তোমাকে পেতে চাই
বিশ্বাস আর পবিত্রতার
যুগল বন্ধনে।