অন্তহীন শঙ্কা ৩ বিকল্প নিয়ে

আবদুর রহিম : ভোটের মাঠে তিন গুঞ্জন! প্রথমত, মাঠ দখল রাখতে পারলে ফের আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদল শেষ মুহূর্তে ভোট বিপ্লবের টার্গেট পূর্ণ করতে পারলে শেখ হাসিনার হ্যাটট্রিকও ঠেকে যেতে পারে। তৃতীয়ত, সহিংসতার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে যদি রক্তাক্তময় পরিবেশ তৈরি হয়, তাহলে বিকল্প কিছুও ঘটে যেতে পারে মাঠে সেনা। উত্তপ্ত ভোটের মাঠে কিছুটা আস্থা ফিরেছে। তবে নিরাপত্তা আর শঙ্কা কমেনি। এখনো বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা হামলায় রক্তাক্তের শিকার হচ্ছেন। মাঠে শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। হাতে মাত্র কয়েকদিন, এরপরই প্রত্যাশার নির্বাচন। দেশের চোখ এখন আগামী ৩০ তারিখে দিকে। কী ঘটছে? কে আসছে ক্ষমতায়? আওয়ামী লীগ কী হ্যাটট্রিক করবে, নাকি ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসবে? চায়ের দোকান থেকে রাজনীতিপাড়ায় সবখানেই মানুষের এমন জানার আবেগ। তবে ভোটের আগে তিনদিন দেশে সহিংসতার বড় আভাস দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রচার হচ্ছে। সরকার বিরোধীরা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পুলিশ, বিজিবি, বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের দাবি জনগণের অধিকারকে সরকার হরণ করছে। বিরোধীদলকে ঠেকাতে ষড়যন্ত্রের ছকের আলোকেই সরকারের লোকজন এমন গুজব প্রচার করছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ভোটের মাঠে নানা হিসেব-নিকেশ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। এরই মাঝে রাজনীতি পাড়ায় তিনটি গুঞ্জন উঠেছে। প্রথমত, এবার ভোটের মাঠ দখল রাখতে পারলে ফের আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসতে পারে। দ্বিতীয়ত, বিরোধীদল শেষ মুহূর্তে ভোট বিপ্লবের টার্গেট পূর্ণ করতে পারলে শেখ হাসিনার হ্যাটট্রিকও ঠেকে যেতে পারে। তৃতীয়ত, সহিংসতার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে যদি রক্তাক্তময় পরিবেশ তৈরি হয়ে যায় বিকল্প কিছুও ঘটে যেতে পারে।
মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ক্ষমতার হ্যাটট্রিক জয় নিশ্চিত রাখতে আওয়ামী লীগ মাঠ ছাড়বে না। অন্যদিকে বিএনপিও শেষ তিন দিন আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে প্রস্তুতি রেখেছে। আতঙ্কে আছে সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ঢাকা ছেড়ে গেছেন। সিংহভাগ আবাসিক সিট খালি। ব্যবসায়ীরাও বড় আকারে বিনিয়োগ করছে না। অন্যদিকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরাও বড় আকারের সহিংসতার খবর জানতে পেরেছেন। পুলিশ, বিজিবি, বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, বিদেশি কূটনীতিক ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম হামলার ছকে রয়েছে। নির্বাচনি মাঠে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করবে একটি মহল। ২৭ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে। ওই সমাবেশের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা চলবে এবং ২৮ ডিসেম্বরকে শেষ টার্গেট হিসেবে রাখা হয়েছে। সহিংসতার পরিকল্পনা রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতেও রয়েছে। তবে ঢাকাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এই পরিকল্পনায়। সমাবেশের পর তাদের বড় একটা অংশ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বেন। যারা ২৮ ডিসেম্বর সকাল থেকে জড়ো হবেন পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখান থেকে বড় আকারের শো-ডাউনের পর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে। যাত্রার সময়কালেই নাশকতার চেষ্টা চালানো হবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা সাংবাদিকদের বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশদের আমরা প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন দিয়েছি। জান-মালের রক্ষা ও নিজের নিরাপত্তার জন্য ফায়ারিংসহ সব ধরনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাশকতা করতে পারে এমন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর তালিকা ধরে কাজ চলছে।