অবৈধদের স্টিমুলাস চেক দেওয়ার আন্দোলন জোরদার

আমেরিকায় ১২ মিলিয়ন মানুষ বঞ্চিত

ঠিকানা রিপোর্ট : আমেরিকায় এখনো করোনাভাইরাসের মহাতান্ডব এখনো চলছে। নিউইয়র্কে করোনা সংক্রামণ এবং মৃত্যুর হার কিছুটা কমলেও অন্য ২২টি স্টেটে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। অনেক স্টেটে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি অবৈধদের স্টিমুলাস করা হয়েছে। সেই স্টেটে নিউইয়র্ক এখন রোলমডেল। সবাই বলছে নিউইয়র্ককে ফলো করতে। করোনা বিশেষজ্ঞ এ্যান্থনি ফাউচিও করোনা সংক্রামণ কমাতে নিউইয়র্ক সিটিকে অনুসরণ করতে বলেছেন। বিশ্বের মধ্যে এখনো করোনায় আক্রান্তে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। করোনা নিয়ে আমেরিকায় রাজনীতি চললেও করোনার কারণে আমেরিকার আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা থমকে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাঝেমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও ডেমক্র্যাটিক প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখনো তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেননি।

আমেরিকায় করোনা মহামারি আকার ধারণ করলে নিউইয়র্কসহ অনেক স্টেট লকডাউন ঘোষণা করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতসহ সমস্ত কাজকর্ম। ২৪ ঘন্টা জেগে থাকা নিউইয়র্ক থমকে দাঁড়ায়। ঘরবন্দী হয়ে পড়ে মানুষজন। অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা। তারা মানুষের জন্য সরকারি অর্থের ব্যবস্থা করেন। প্রত্যেক আমেরিকানকে দেয়া হয় স্টিমুলাস চেক এবং সেই সাথে সরকারি প্রণোদনা। আরো ব্যবস্থা করা হয় আনএমপ্লয়মেন্টের।
বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, ১৫৯ মিলিয়ন আমেরিকানকে স্টিমুলাস চেক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার মধ্যে ৮ জুলাই পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এখনো স্টিমুলাস চেক পাননি। অন্যদিকে আমেরিকায় বসবাসরত প্রায় ১২ মিলিয়ন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট সরকারি কোন সাহায্য পাননি। করোনাকালে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে অবৈধ ইমিগ্র্যান্টরা। চাকরি হারানোর ক্ষেত্রেও তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আমেরিকায় যারা অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট রয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রতি ৬জনের মধ্যে একজন চাকরি হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউই আনএপ্লয়মেন্টও পাননি। তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যদিকে, করোনার আঘাতে তারাই বেশি জীবন দিয়েছেন এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
২০০৭ সালের ফিসক্যাল পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রায় ৪.৪৭ মিলিয়ন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট রয়েছে। শুধু নিউইয়র্ক সিটিতেই রয়েছে ৪.০৮ মিলিয়ন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট।
এসব অসহায় মানুষ যেনো সরকারি অনুদানের অর্থ পায় সেজন্য নিউইয়র্কের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বিল পাশের জন্য আন্দোলন করছে। এ আন্দোলন শুধু অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের জন্য নয়, আন্দোলনে আরো রয়েছে নিউইয়র্কে করোনাকালে যেন বাড়ি ভাড়া মওকুফ করা হয়, বাড়ির মালিকদের মর্গেজের অর্থ দেয়া হয় এবং জুলাইয়ের ৩১ তারিখে অনুদানের অর্থ বন্ধ না করে তা যেন ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এসব দাবি নিয়ে মেড দ্যা রোড, ড্রাম, স্ট্রিট ভেন্ডার প্রজেক্ট, লন্ড্রিং ওয়ার্কার্স সেন্টার, ট্যাক্সি এলায়েন্স, কম্যুনিটি ভয়েস হার্টসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গত ১১ ও ১২ জুলাই আন্দোলন করে। গত ১১ জুলাই ম্যানহাটানের মেডিসন স্কয়ার পার্কে আমাজনের মালিক জেফ ভেজাজের বাড়ির সামনে ২৪ ঘন্টা অনশন করে। এ অনশনে প্রায় দু’শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি- আমাজন নিউইয়র্কে ব্যবসা করছে, কিন্তু নিউইয়র্কের গরিব মানুষের পাশে তারা নেই কেন। যারা ২৪ ঘন্টা অনশন করেছেন, তারা সারাদিন-রাত ঐ পার্কেই ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই খাওয়া দাওয়া করেননি।
২৪ ঘন্টা অনশন শেষে প্রায় ২ হাজার মানুষ ১২ জুলাই নিউইয়র্কের গভর্নর এন্ড্রু কুমোর ম্যানহাটনের ল্যাক্সিটন অফিসের সামনে অবস্থান নেয় এবং সেখানে বিক্ষোভ শেষে তারা সমাবেশ সমাপ্তি ঘোষণা করেন।