অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট-বিরোধী ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ আটকে গেল

মঈনুদ্দীন নাসের : অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য আশ্রয় লাভ বা এসাইলাম কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈধ ভিসাধারীদের জন্য এসাইলাম প্রক্রিয়ায় অবশ্য কোন ছেদ পড়েনি। আমেরিকার সীমান্তে মেক্সিকো অতিক্রম করে আসা মাইগ্রেন্ট মিছিলের লোকদের আশ্রয় প্রদানের ব্যবস্থা বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তার ফ্রান্স যাওয়ার পূর্বে। গত ৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে এই নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে এবং ৯ নভেম্বর শুক্রবার সকালে সব এসাইলাম অফিসার তা হাতে পেয়েছেন। গত কয়েক সপ্তাহ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশের পরিকল্পনা নেন। বিভিন্ন মধ্য আমেরিকার রাষ্ট্রযন্ত্রের নিপীড়নের শিকার হয়ে এই মাইগ্রেন্ট মিছিল স্বদেশ ছেড়েছে। এক সময় প্রচার করা হয় এই মিছিলে আইএস জঙ্গি ও অপরাধ চক্র যোগ দিয়েছে। কিন্তু তার কোন চিহ্ন না থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী আদেশ বস্তুত এসাইলাম চাওয়ায় সকল মানুষকে ঢালাও বহিষ্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই নির্বাহী আদেশ ৯ নভেম্বর শুক্রবার সর্ব সমক্ষে প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। বিষয়টা এত তাড়াতাড়ি এগিয়েছে যে, এর সবকিছু এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তর ডিস্ট্রিক্টসমূহ এই পলিসি এখন স্থগিত রাখতে পারে। আমেরিকার প্রবেশের দুই বন্দরের মাঝখানে সীমান্তে শত শত লোক প্রতিদিন প্রবেশ করে এসাইলাম চায়। যে কেউ বর্ডারে আসবে এই পলিসি কার্যকর থাকলে তাকে কয়েক সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি সময় ধরে কোর্ট অব এন্ট্রিতে যেখানে বহু লোক অপেক্ষা করছে, সেখানে অপেক্ষা করতে হবে। তারা সেখানে যথা শিগগিরই ডিপোর্টেশনের জন্য প্রস্তুত হবে এবং স্বেচ্ছায় নিজেদের বর্ডার পেট্রোলের হাতে তুলে দেবে। অবৈধভাবে দুই বন্দরের মাঝখানে প্রবেশ করলে অন্তত তারা কিছুদিন এখানে থাকতে পারে। তবে তাদের এখানে অবস্থানকাল অনেক বাধা-নিষেধের মধ্যে। আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এদেশে প্রবেশের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ দীর্ঘ মাসাধিককাল ধরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর এসাইলাম সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই এর ফসল। কিন্তু আইনগতভাবে ফ্যাকাসে। ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাত থেকে এই আইন কার্যকর হোক বা না হোক এই সংক্রান্ত বৈধতা-অবৈধতার মোকাবেলা চলতে থাকবে। বহু বাংলাদেশিও সাধারণত আমেরিকা দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা টেক্সাস বা আরিজোনা হয়ে এদেশে প্রবেশ করে থাকে। তাদের জন্য এই নির্বাহী আদেশ সমস্যার সৃষ্টি করবে।
(১) ট্রাম্প প্রশাসন কী করেছেন?
আমেরিকার আইন অনুসারে কোনো ভিসা কিংবা এন্ট্রি পারমিট ছাড়া কেউ যদি আমেরিকায় প্রবেশ করে তারা স্বদেশে নির্যাতন এড়ানোর জন্য বৈধভাবে এদেশে আশ্রয়ের অনুমতি চাইতে পারে। আর স্বদেশে জাতিগত, গোত্রগত, ধর্মীয় রাজনৈতিক মতামত অথবা কোন সামাজিক গ্রুপে মেম্বারশীপের জন্য ঝুঁকি আছে প্রমাণ করতে পারলে আমেরিকায় তাদের এসাইলাম মঞ্জুর হতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে কেউ যদি মেক্সিকো থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আমেরিকায় প্রবেশ করে তারা কোনভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় পাবে না। আর তারা তা যদি করে তাহলে তাদের এদেশের গুরুতর অন্যায়কারীদের যেভাবে ডিপোর্ট করা হয় সেভাবে ডিপোর্ট করা হবে।
(২) কীভাবে ইতিপূর্বে অন্যরা কাগজপত্রবিহীন অবস্থায় এদেশে আসলে আশ্রয় পেত?
ইতিপূর্বে সীমান্তে কেউ আসলে তাদের গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হতো। তারা যদি দেশে যথেষ্ট ভয়ের মধ্যে আছে প্রমাণ করতে পারলে তাদের শুনানির পর এসাইলাম দাবি কর তাদের কোন এসাইলাম অফিসারের সাক্ষাৎ পেত। যদি এসাইলাম অফিসার নির্ধারণ করতো যে, তারা দেশে নির্যাতনের ভয়ে ভীত তাহলে তাদের বন্ড নিয়ে বা কোন বন্ড না নিয়ে ছেড়ে দিত এবং তারা ইমিগ্রেশন জাজের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেত। আর সেখানে তারা মামলা পেশের সুযোগ পেত। এদেশে প্রবেশের ৬ মাসের মধ্যে তারা ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগ পেত।
(৩) নতুন ট্রাম্প পলিসিতে তা কীভাবে কাজ করবে?
নতুন ট্রাম্প পলিসিতে দুই পোর্ট অব এন্ট্রির মাঝখানে কেউ যদি প্রবেশ করে তারা এসাইলাম অফিসারের সাক্ষাৎ পাবে। তবে সেক্ষেত্রে এসাইলাম অফিসার ‘বিশ্বাসযোগ্য নির্যাতনের ভয়’ এর জন্য সাক্ষাৎকার নিবে। অর্থাৎ নির্যাতনের বিষয়টার সম্ভাব্যতা নিশ্চিত হতে হবে। কিন্তু ‘রিজনেবল নির্যাতনের’ বিষয়টা নির্ধারণ করা হয় কেউ ডিপোর্ট হয়ে গেলে যদি তাকে বিশেষ কারণে থাকার অনুমোদন দেয়া হয়। বিশ্বাসযোগ্য ভয়ের কারণে ৭৫ শতাংশ এসাইলাম প্রার্থী পাস করে কিন্তু রিজনেবল বা গ্রহণযোগ্য ভয়ের কারণ বিশ্লেষণে পাস করে ২৫ শতাংশ তার চেয়ে কিছু বেশি জন। ট্রাম্প নীতিতে যে সব ইমিগ্রান্ট রিজনেবল টেস্ট পাস করবে না তাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হবে, যারা রিজনেবল টেস্ট পাস করবে তাদের ইমিগ্রেশন জাজের কাছে যেতে দেয়া হবে, কিন্তু তারপরও তারা এসাইলাম নয়-তারা টর্চার কনভেনশনের আওতায় এদেশে থাকতে পারবে।
‘উইথহোল্ডিং অব রিমুভেল’ ক্যাটাগরিতে তারা এসাইলাম পাবে না। আর তাতে আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ল’ এর যে দায়ভার তা পূরণ হবে কিন্তু এদেশে থাকার সুযোগ লাভকারী গ্রিনকার্ড পাবে না। আর তাতে পুরো পরিবার এই সুযোগ বঞ্চিত হবে। মা যদি এ সুযোগ পায় ছেলে পাবে না। তাদের উভয়কে নির্যাতনের রিজনেবল গ্রাউন্ড প্রমাণ করতে হবে।
(৪) তারা কি সমস্যার সমাধান চায় এর মাধ্যমে?
এখন এদেশে এসে যারা কোর্ট এর তারিখ পেয়েছে তাদের মাত্র ৪০ শতাংশ লোক লিখিত আবেদন করে এসাইলামের বাকিরা বিভিন্ন কারণে বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা কোর্টের জন্য উকিলের অর্থায়নের জটিলতা বা অন্যান্য কারণে কোর্টে হাজির হতে পারে না। বিভিন্ন সংগঠনের জরিপে এসব তথ্য দেখা গেছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে তারা নির্যাতনের বিশ্বাসযোগ্য বাছাই করার পদ্ধতিকে এদেশে প্রবেশের সুযোগ হিসেবে মনে করছে, তারা তা বন্ধ করতে চায়।
(৫) তা এখন কেন ঘটছে?
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্ব থেকে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে কয়েক হাজার এসাইলাম প্রার্থীর ক্যারাভান বা মিছিল হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও দক্ষিণ মেক্সিকো থেকে ধেয়ে আসছে ধীরে ধীরে। প্রশাসন ক্রমাগত বর্ধিতহারে, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। গত বসন্তকালে তারা এই ধরনের ক্যারাভানের উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিশু সন্তানদের পিতা-মাতার কাছ থেকে পৃথক করে। তারা সমাগত পরিবার পৃথকীকরণকে উৎসাহিত করে। ক্যারাভান এখনও হাজার মাইল দূরে, কিন্তু পলিসি ঘোষিত হয়ে গেছে ক্যারাভানের নামে। অর্থাৎ এখন যারা সীমান্ত অতিক্রম করে আসছে তাদেরকেও ঠেকাতে হবে। অনেক প্রশাসনিক অফিসার মনে করেন আশ্রয় প্রার্থীরাও অনেক সময় বিদ্যমান ব্যবস্থার অপব্যবহার করে। অনেকে দোষ চাপায় কংগ্রেসের ওপর-প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না করার জন্য। এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয়ভাবে এসাইলাম চাওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছে অনেকে।
(৬) এ ব্যবস্থা কী কাজ করবে?
ট্রাম্প প্রশাসন চায় এই পলিসির বাস্তবায়ন। তা যত তাড়াতাড়ি কার্যকর হয়। তবে তা কাজ করবে কিনা বলা মুশকিল।
আমেরিকা মেক্সিকো হয়ে আসা সকল এসাইলাম প্রার্থীকে না করতে চায়। কিন্তু মেক্সিকো তা ৯০ দিনে করতে সম্মত না। ৯০ দিন বন্ধ রেখে ট্রাম্প চায় মেক্সিকোর ওপর তৃতীয় পক্ষের দেশের হয়ে চুক্তি করতে, আমেরিকার সাথে। তাতে আমেরিকা সকল এসাইলাম প্রার্থীকে ফেরত পাঠাতে পারবে। এখন কানাডার সাথে আমেরিকার সে ধরনের চুক্তি আছে। আর এ চুক্তি হলে মধ্য আমেরিকা থেকে আসা সকল শরণার্থীকে দমানোর ভার এককভাবে মেক্সিকোর ওপর বর্তায়। কিন্তু মেক্সিকোর নয়া প্রেসিডেন্ট ডিসেম্বর এর ১ তারিখে ক্ষমতায় আসছে। তিনি এ ধরনের কোন চুক্তি স্বাক্ষরে কোন আগ্রহই প্রকাশ করছেন না।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এ ব্যবস্থা করে সকল এসাইলাম প্রার্থীকে পোর্ট অব এন্ট্রিতে পাঠাতে চায়। কিন্তু পোর্ট অব এন্ট্রি এসাইলাম প্রার্থীদের নিয়ে টইটুম্বুর।
ট্রাম্প এ ব্যবস্থায় দ্রুত অনেককে ডিপোর্ট করতে পারবেন, কিন্তু কত ডিপোর্ট করবেন তা পরিষ্কার নয়।
(৭) এটা কি বৈধ? এই পলিসির বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয়েছে ৬ ঘণ্টার মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই পলিসি সাহসের কাজ। নির্বাহী ক্ষমতায় সাহসী পদক্ষেপ। আমেরিকায় ইমিগ্রেশন বন্ধকরণ, এসাইলামের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনের কারণে। কিন্তু কনভেনশন এগেইনস্ট টর্চারের মাধ্যমে যদি কোন ব্যক্তিকে আমেরিকায় রাখা হয় তাতে আন্তর্জাতিক আইন মানা হলো। তা ট্রাম্পের জন্য সমস্যা নয়।
সমস্যা হচ্ছে আমেরিকান আইন
ইমিগ্রেশন ও ন্যাশনাললিটি অ্যাক্ট (্আইএনএ) মোতাবেক কোন লোক পোর্ট অব এন্ট্রিতে আসুক না আসুক সে এসাইলামের আবেদন করতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসন সে সব বিধিকে মৃত ঠাউরেছে। অন্তত যতদিন তার আদেশ বহাল আছে। প্রশাসন এটাকে সঠিক মনে করছে এই বলে যে, এই আইন এটর্নি জেনারেলকে এসাইলামের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে বড় ধরনের ক্ষমতা দেবে। আর প্রেসিডেন্টকে দেবে প্রবেশের ক্ষমতা রহিত করার ক্ষমতা।
সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ও অন্যান্য আইনি সংগঠনগুলো ও ইমিগ্রেশন সার্ভিস প্রোভাইডাররা যারা পলিসির সাথে একমত নয় তারা মামলা করেছে। তারা বলে নির্বাহী আদেশ কংগ্রেসের লিখিত আইন বাদ দিয়েছে। তা নির্বাহী বিভাগ পাবে না। আর যে তাড়াতাড়ি প্রশাসন এই আইন করেছে তা প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগত আইনের বিরোধী। রেগুলেটরি রিভিউ প্রসেস বাদ দেয়ার বড় ধরনের বাধা রয়েছে আইনে।
এক ফেডারেল জাজ সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সাথে একমত আর তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিধি প্রয়োগ করবেন। ইউনিয়ন ক্যালিফোর্নিয়ায় নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট এই মামলা দায়ের করেছে, তা ট্রাম্পের জন্য মোটেও সুবিধাজনক নয়। প্রশ্ন হচ্ছে তা শুক্রবারের আগে না পরে। এর মধ্যে অনেকেই বাধাগ্রস্ত হবে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে সবশেষে বিচার যদি সুপ্রীম কোর্টে যায় সেখানে ৫ জন রিপাবলিকান জাজ রয়েছেন তাদের বদোলতে তা পাস হয়ে যাবে। কিন্তু সবসময় এরকম ফল হয় না। কাজেই সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন অবশেষে জিতে যেতে পারে।
কাজী ইবনে শাকুর : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে দেয়াল বানাতে চান। কিন্তু তার অত্যন্ত প্রিয় বিষয় ইমিগ্রেশনের অন্যতম দুর্ধর্ষ এটর্নি জেনারেল জেফ সেশনকে বহিষ্কার করার পর তিনি ইমিগ্রেশন ক্রাইসিস নিয়ে প্রক্লেমেশন দিয়েছেন। জেফ সেশন তার আলাবামা স্টেট থেকে সিনেটে বসে বহুকাল ধরে যে সব বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে করতে এসেছেন তা বাস্তবায়নের জন্য হেন কোন পথ নেই যা তিনি দেখেননি। কিন্তু রবার্ট মুলারের রাশিয়া সংক্রান্ত অনুসন্ধান থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে জেফ সেশন শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছেন। কিন্তু ধূর্ত এ খেকশিয়ালসম এটর্নি জেনারেল দু’বছর ধরে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে বসে যেভাবে ইমিগ্র্যান্ট নীতির পোকা বেছেছেন ও বিভিন্ন বিধি-বিধান জারি করেছেন তা ট্রাম্পের মাথায় কখনও আসবে মনে হয় না। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, আমার কোন এটর্নি জেনারেল নেই। তারপর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরাজয়ের ঝাল ঝাড়ার মতো জেফ সেশনকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু সেশন ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়নে ছিল পোপের চাইতেও বেশি ট্রাম্পভক্ত। গত ৭ নভেম্বর বুধবার বিতাড়নের পূর্বেও জেফ সেশন ছিল এটর্নি জেনারেল হিসেবে অনেকে বেশি তৎপর। তিনি তার শক্তি প্রয়োগ করে ইমিগ্রেশন কোর্টকে চালনা করেছেন। এসাইলাম সিস্টেম মাইগ্রেন্টের প্রবেশ কঠিন করেছেন এবং ফেডারেশন কোর্টকে ইমিগ্রেশন নীতি বাস্তবায়নের উদ্দেশে নিয়োগ করেছেন।
আমেরিকান আইন অনুসারে ইমিগ্রেশন কোর্টের ওপর এটর্নি জেনারেলের রয়েছে ব্যাপক ক্ষমতা। ইমিগ্রেশন কোর্ট বিচার বিভাগের অধীনে, স্বাধীন ফেডারেল জুডিসিয়ারির অধীনে নয়। সেশন দুই দশক ধরে আলাবামার সিনেটর। রিপাবলিকান তার দল। আর ইমিগ্রেশন সিস্টেমে তিনি তার সব ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।
জেফ সেশন সম্পর্কে ট্রাম্প অভিযোগ করার পরও তিনি নির্ভুল বশংবদ সেনা হিসেবে কাজ করেছেন ট্রাম্পের জন্য। আর ধূর্ততার সাথে একনিষ্ঠভাবে ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন বাধাগ্রস্ত নীতি বাস্তবায়ন করেছেন।
সেশন একনিষ্ঠভাবে মনে করে যে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই সিস্টেমে কোন শৃঙ্খলা আনতে পারেনি। অথচ ডেমক্রেটরা কংগ্রেসে অবৈধভাবে বর্ডার ক্রসিং। কমিয়েছে এবং আগের প্রশাসনে রেকর্ড পরিমাণ লোক ডিপোর্টেড হয়েছে। সেশন এক সমাবেশে সেশন বলেন, কোন মহান জাতি একসাথে ‘দিল দরিয়ায়’ কল্যাণ ব্যবস্থা ও খোলা সীমান্ত নীতি চালাতে পারে না। তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে ইমিগ্রেশন জাজদের নিয়োগের সময় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের নীতি কট্টর ও ভয়ানক। আর তা প্রথম চোটেই বাতিল করা দরকার।
ইমিগ্রেশন কোর্টেও প্রাথমিক কাজ ব্যাপক মামলার জমাট কমানো। কিন্তু ‘ট্রাঞ্জেকশনাল রেকর্ডস একসেস ক্লিয়ারিং হাউস’ এর রিপোর্টে দেখা যায় তার সময়ে ব্যাকলগ বেড়েছে ৪৯ শতাংশ। আর মামলার পরিমাণ ৭৬৮,০০০। তাতে আরও রয়েছে ৩৩০,০০০ সাসপেন্ডেড মামলা। যা বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা নতুন করে একটিভ করে দিয়েছে।
টেন্ডার ইমিগ্রেশন নামে লায়ারদের দ্বারা ব্যবহৃত এক বুলেটিনের সম্পাদক ডানিয়েল কেয়োলস্কী বলেন, এ রকম একটিভ একজন এটর্নি জেনারেল কখনও দেখা যায়নি। কেয়োলাস্কি ৩৩ বছর ধরে ইমিগ্রেশন আইন প্র্যাকটিস করেন।
পরবর্তী এটর্নি জেনারেল যে সব ব্যবস্থা জেফ সেশন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবেন তার মধ্যে রয়েছে: তিনি ইমিগ্রেশন জাজের ওপর মামলার কোটা ইমপোজ করেছেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর হয়েছে। প্রত্যেক জাজকে বছরে ৭০০ মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। ইমিগ্রেশন জাজরা বলেন, এই ধরনের কোটা আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
তিনি প্রায় সময় কোর্ট থেকে আসা সিদ্ধান্ত পছন্দ না করলে তার জন্য এটর্নি জেনারেলের কর্তৃত্ব খাটাতেন। আর তা করে তিনি বিচারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সীমিত করতেন। তিনি তাদের জন্য এটর্নিদের সময় দেয়াকে নিরুৎসাহিত করতেন। আর বিচারকদের কেস ক্লোজ করার ক্ষমতা রহিত করতেন। যাতে ওভার লোডেড কোর্ট ডকেট কমে যায় সে ব্যবস্থা জাজরা করতে পারতেন যা তার সময়।
সেশন ইমিগ্রেশন জাজরা যাতে কোন পরিবার একত্রীকরণের সুবাধে এদেশে ইমিগ্রেন্টদের কেস সেট এসাইড করতে না পারেন সে জন্য প্রসিকিউটরদের ক্ষমতা দেয়াকে পছন্দ করতেন না। তিনি এমন সিদ্ধান্ত দিতেন যা মাইগ্রেন্টদের জন্য আরও কঠোর হয়। যাতে সেন্ট্রাল আমেরিকা থেকে এখন যারা আসছেন তাদের এসাইলাম মামলা, ক্রিমিনাল গ্যাং ভায়োলেন্স, সেক্সুয়াল নিউজ, অন্যান্য বেসরকারি কারণে নাকচ হয়ে যায়। জিরো টলারেন্স নামে এক নীতির আওতায় গত এপ্রিল মাসে সেশন ফেডারেল প্রসিকিউটরকে আদেশ দেন যাতে সীমান্ত অতিক্রমকারী মাইগ্রেন্টদের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনে বিচার করা হয়। আর এই নীতি পিতা-মাতা থেকে শিশুকে বিচ্ছিন্নকরণ করার দিকে যায়। গত গ্রীষ্মে তা হৈ হুল্লোড় সৃষ্টি করে। পরে ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ দিয়ে পৃথকীকরণ বন্ধ করে। কিন্তু শিশুদের সাথে যারা মাতাপিতা নন তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের মামলা চলতে থাকে। আর তাতে ফেডারেল কোর্টে মামলা বাড়তে থাকে।
টি আর এসি মোতাবেক টেক্সাসের দক্ষিণ ডিস্ট্রিক্টসমূহে ৮৮ শতাংশ মামলা সাধারণ অবৈধ প্রবেশের জন্য। আর ৬৫ শতাংশ মামলা ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ ডিস্ট্রিক্টের জন্য। আর তা একই সাধারণ দোষের জন্য। সেশন ডাকা বা ওবামার গৃহীত পদক্ষেপে যারা শিশুকালে এদেশে এসেছে তাদের ডিফেন্ড করতে অস্বীকার করেন। আর ট্রাম্পের এই ডাকা বাতিলকে প্রশংসা করেন। কিন্তু ফেডারেল কোর্ট এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষে যায়। জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আপীল কোর্টে শুনানী না করে সুপ্রীম কোর্টে তার শুনানি নিয়ে যায়। ট্রাম্পের সাথে মন কষাকষি হলেও সেশন হোয়াইট হাউজে আরেক ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী ‘ইমিগ্র্যান্ট সন্তান’ স্টিফেন মিলারের মাধ্যমে ট্রাম্পের সাথে যোগাযোগ রাখেন অনেকটা বেশরম ব্যক্তির মতো। মিলার সিনেটে সেশনের সিনিয়র স্টাফ মেম্বার ছিলেন। আর দু’জনই একই মতাবলম্বী, ইমিগ্র্যান্টদের কীভাবে পেছানো যায়। অথচ মিলারের পিতা এবং পিতামহ এ দেশের ইমিগ্র্যান্ট। তার মামা তার সব জারিজুরি ফাঁস করেছেন এক লেখায়।
লইয়াররা বলেন, সেশনের কাজ ইমিগ্রেশন কোর্টকে রাজনীতিকরণ করে ফেলেছে।
এডভোকেটস যারা ইমিগ্রেশন রিফর্মের সাথে জড়িত তারা মনে করেন নতুন এটর্নি জেনারেলকে ইমিগ্রেশন জাজের কার্যক্রমে দিতে হবে যথেষ্ট স্পেস।