অভিবাসীদের ক্রিমিনাল মামলা এবং ইমিগ্রেশনের প্রভাব

মোহাম্মদ এন মজুমদার

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইমিগ্র্যান্টরা এবং ভ্রমণ ও অন্যান্য ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগতরা অনেক সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত হন। আবার মাঝে মাঝে তাদেরকে অপরাধমূলক কাজে জড়ানো হয়। অপরাধকারী ইমিগ্র্যান্ট সিটিজেন বা গ্রিনকার্ডধারী কিংবা ভ্রমণকারী যেই হোক না কেন ছোটখাট অপরাধেও ডিপোর্টেশনের মত গুরুতর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। বিভিন্ন মেসি, কে মার্টের মত বড় বড় চেইন স্টোরগুলোতে অভিবাসীরা প্রায়ই শপ লিফটিং বা খরিদদার সেজে চুরির দায়ে ধরা পড়েন। এছাড়া মারামারি, পারিবারিক কলহ, ঝগড়াসহ নানাবিধ কারণে স্বামী বা স্ত্রী ও অভিবাসীরা গ্রেপ্তার ও বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ধরনের অপরাধের কারণে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্ব হারানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও গ্রিনকার্ড প্রাপ্তি চরমভাবে ব্যাহত হতে পারে।
অতএব, কোন অবস্থাতেই কোন প্রকার অপরাধের সাথে জড়িত থাকা ঠিক নয়। অপরাধ থেকে দূরে এবং অপরাধমুক্ত থাকুন। কোন কারণে অপরাধে জড়িত হওয়ামাত্রই যাথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজকে অপরাধের পরিসমাপ্তি বা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে।
অভিযুক্তরা অ্যারেস্ট হলে সরকারিভাবে নিয়োজিত বা লিগ্যাল এইড এটর্নিগণের সহায়তায় আপনি জামিন পেতে পারেন। তবে, যাদের আর্থিক সামর্থ আছে তাদের প্রাইভেট এটর্নি নিয়োগ করে মামলা পরিচালনা করা অত্যাবশ্যক। সরকারিভাবে নিয়োজিত আইনজীবীগণ আসামিদের পক্ষে সাধারণত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেন না। অভিযুক্ত অভিবাসীদের উচিত আইনজীবী নিয়োগের পূর্বে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর ক্রিমিনাল ইমিগ্রেশেন মামলা পরিচালনা করার মতো অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা আছে কিনা তা অবশ্যই জেনে নেয়া উচিত। একবার বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে আপিল করে দোষ থেকে অব্যাহতি পাওয়া বা কনভিকশান কমানো অনেকটা অসম্ভবই বলা চলে। সেজন্য কোর্টেই বিচারের সম্মুখীন হলে উপযুক্ত আইনি সহায়তা নেয়া অত্যাবশ্যক।
প্রবাসে নির্ভেজাল জীবন যাপন করতে হলে যে কোন মূল্যে চুরি-চামারি, ফ্রড, জালিয়াতি ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত । স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ পারস্পরিক আপোষরফা বা তালাকের ম্যাধমেই সমাপ্তি টানা উচিত। ডোমেস্টিট ভায়োলেন্স বা পারিবারিক কলহ আমাদের ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ব্যাপারে আমাদের কমিউনিটি লিডার, কনসুলেট এবং বিভিন্ন সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। এ লেখা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য কল দিতে পারেন ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯ নম্বরে।
লেখক পরিচিতি : এই প্রবন্ধটির লেখক মোহাম্মদ এন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং নিউইয়র্কস্থ টরো ল সেন্টার থেকে আইনে এলএলএম ডিগ্রিধারী, তিনি নিউইয়র্কস্থ একটি ল ফার্মে ১৯৯৯ সাল থেকে কর্মরত আছেন। এ ছাড়াও তিনি নিউইয়র্কের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বিজ্ঞ প্লানিং বোর্ড-৯ এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯১০ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপরোক্ত লিখাটি লেখকের সুদীর্ঘকালের ল ফার্মে কর্ম অভিজ্ঞতা ও ল স্কুলের শিক্ষা থেকেই লিখা। এটিকে লিগ্যাল এডভাইজ হিসেবে গ্রহণ না করে আপনাদের নিজ নিজ আইনজীবীর সহযোগিতা নিন। তিনি এখন থেকে নিয়মিত ঠিকানার পাঠকদের জন্য লিখবেন।