অর্থনৈতিকভাবে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে

উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান অবদান থাকলেও এক অজানা কারণে নারীরা আজও অনেক পিছিয়ে। পিছিয়ে পড়া নারীদের সামনে এগিয়ে আনার জন্য যে ক’জন নারী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেলিমা আহমেদ। তিনি দেশের একজন স্বনামধন্য নারী উদ্যোক্তা। বর্তমানে তিনি নিটল নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে কর্মরত আছেন।

মহাখালীর নিটোল সেন্টারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার কথা হয়। তিনি বলেন, নারীর র্র্অথনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যখন অর্থনৈতিকভাবে নারী এগিয়ে যাবে তখন সমাজে তার অবস্থান শক্তিশালী হবে।

তার মতে, একজন মা বা স্ত্রীর লক্ষ্য থাকা উচিত পারিবারিক কাজগুলোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, আমার কাছে কাজটা হলো নিজস্ব সম্মানের জায়গা। আমার মনের চিন্তা হলো কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দেশের নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। একজন নারীর যখন ক্ষমতায়ন হয় তখন এটা তার শুধু নিজের জন্য না, তার ছেলেমেয়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৬০ সালের ৭ জুলাই ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে সেলিমা আহমেদ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায়-ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক এবং ১৯৮২ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। সেলিমা আহমেদ এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক। তিনি নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদের সহধর্মিণী।

সেলিমা আহমেদ বলেন, আমি সৌভাগ্যবান যে, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে আমার পরিবারের অনেক বড় অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, ছেলেমেয়ে যখন বোঝে তার মা সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী তখন তাদের জীবনের প্রতি অন্যতম শ্রদ্ধা আসে। আমি যখন আশির দশকে ব্যবসা শুরু করি তখন অর্থনৈতিকভাব সচ্ছল ঘরের নারীরা ব্যবসায় আসত না। কিন্তু এখন অনেক নারী নিজেই অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দিয়েছে। আমার আশপাশের নারীরা এখন ভালো অবস্থানে আছে। আমি তাদের কাছ থেকে অনেক উৎসাহ পাই।

তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা যদি তাদের শারীরিক বাচনভঙ্গির মধ্যে নিজস্ব শ্রদ্ধা রাখে, স্থির সচেতন থাকে, তাহলে আমি মনে করি না খুব বেশি অসুবিধার মধ্যে পড়বে। তবে আমি নারীদের ব্যবসার প্রতি উদ্বুদ্ধ করি, কেন না এর মাধ্যমে নারীর অবস্থান শক্তিশালী করা যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যখন ব্যবসা শুরু করি তখন ছিল ১৯৮০ সাল। তখন যে অবস্থা ছিল এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

১৯৮০ সালের বিষয়ে নিজের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে যাচ্ছিলাম। ইমিগ্রেশনে আমাকে খুব হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। কারণ আমার পাসপোর্টে পেশা ছিল ব্যবসায়ী। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা প্রশ্ন করেন, একজন নারী ব্যবসায়ী, আবার তিনি বিদেশে যাচ্ছেন? এটা আবার কেমন কথা। আপনি কী ব্যবসা করেন? এ ধরনের নানা প্রশ্ন তাদের মধ্যে।