অসাম্যে চ্যাম্পিয়ন হতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র!

ঠিকানা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশ এটা যেমন সত্যি, তেমনই দেশটির জনগণ চরম অসাম্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেটাও সত্যি, যেটার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের প্রকাশিতব্য এক প্রতিবেদনে সেকথাই বলা হয়েছে।
নতুন বছরে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হবে।
জাতিসংঘের চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ফিলিপ অ্যালস্টন বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো ধনী দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক গতিশীলতা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ’ তাঁর মতে, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের গোড়াপত্তনকারী নেতারা ইতিবাচক স্বাতন্ত্র্যবাদ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখনকার যুক্তরাষ্ট্র স্বাতন্ত্র্য প্রকাশ করছে নানামুখী সমস্যার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে এমন কোনো উন্নত দেশ নেই, যেখানে এত বেশিসংখ্যক ভোটার বঞ্চনার শিকার এবং যেখানে হাতে গোনা কয়েকজন দরিদ্র ভোটার ভোট দেওয়ার আগ্রহটুকু দেখায়। ’
অ্যালস্টন তাঁর খসড়া প্রতিবেদন তৈরির প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিনের সফর করেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে আইনের অধ্যাপনায় ব্যস্ত অ্যালস্টন ঘুরে দেখেছেন লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্র্যান্সিসকো, আলাবামা, জর্জিয়া, পুয়ের্তো রিকো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব জায়গায় তিনি নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাটলার ও লাওন্ডেস কাউন্টিতে তিনি দেখেছেন অস্বাস্থ্যকর পয়োনিষ্কাশন ও শৌচাগারব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের শুমারি ব্যুরোর গত সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে তিনি জানান, প্রতি আটজনে একজন আমেরিকান অর্থাৎ সব মিলিয়ে চার কোটির বেশি আমেরিকান দরিদ্র জীবন যাপন করে। তাদের মধ্যে এক কোটি ৮৫ লাখ মানুষ চরম দরিদ্র, যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার চেয়ে আরো ৫০ শতাংশ কম। আমেরিকায় শুধু সংখ্যালঘুরা দারিদ্র্যের শিকার নয়, বরং দারিদ্র্যকবলিত শ্বেতাঙ্গের সংখ্যা দরিদ্র আফ্রিকান-আমেরিকানদের চেয়ে ৮০ লাখ বেশি। ‘আমেরিকায় দরিদ্র মুখ শুধু কৃষ্ণাঙ্গ বা হিসপ্যানিকদের মধ্যে নয়, বরং শ্বেতাঙ্গ, এশীয় আর নানা বর্ণের মানুষের মধ্যেও আছে। ’ অ্যালস্টনের বলেন, ‘প্রস্তাবিত কর সংস্কার কর্মসূচি আমেরিকাকে বিশ্বের সর্বাধিক সামাজিক অসাম্যের দেশে পরিণত করার দিকে নিয়ে যাবে। আমেরিকার সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ এবং সবচেয়ে দরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদ ও আয়ের মধ্যে যে বিরাট পার্থক্য ইতিমধ্যে বিদ্যমান, প্রস্তাবিত কর কর্মসূচির কারণে সেটা আরো অনেক বাড়বে। ’ সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট।