‘অস্ত্রবাজ-ক্যাডার পোষণকারীরা সাবধান হয়ে যান’

ঠিকানা অনলাইন : দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাশাপাশি যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ তাদের প্রতিও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা অস্ত্রবাজি ও ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করেন—তা না হলে কঠোরভাবে এসব অস্ত্রবাজদের দমন করা হবে। পাশাপাশি দলীয় পদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীন আছে তাদেরকে আত্ম অহমিকা ও ক্ষমতার জোরে অর্থ ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

১৪ সেপ্টম্বর, শনিবার, গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এই কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিনবার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজী করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে জঙ্গী দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে।’

এছাড়াও সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বৈঠকে যুবলীগ প্রসঙ্গে আলোচনার অবতারণা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল যথাযথ মর্যাদায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে চায়। কিন্তু নেত্রী খোদ এটাতে অনীহা প্রকাশ ও অপছন্দ করেন। এক্ষেত্রে নানক যুবলীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উল্লেখ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। তার জন্য এমন মিলাদ মাহফিল দরকার নেই।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিঁয়ে চলেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উচিঁয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিনবার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজী করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে কঠোরভাবে জঙ্গী দমন করা হয়েছে, একইভাবে এইসব অস্ত্রবাজদেরও দমন করা হবে।’

এছাড়া কয়েকমাস আগে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্ত্রীর সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দেন। এ বিষয়ে দলীয় সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী একজন সদস্য বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি নিয়ে কথা বলার এখন কিছু নাই। সে তো দুঃখ প্রকাশ করেছে। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এমন কিছু হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।