অস্ত্র ও ইমিগ্রেশন ইস্যু : কীসের সাথে কী? পান্তা ভাতে ঘি?

কাজী ইবনে শাকুর: আমেরিকায় নাজুক দুটি বিষয় ইমিগ্রেশন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। যতই বিষয় দুটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে, ততই তা নিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে আইনপ্রণেতা ও ইমিগ্রেশন বিষয়ক এডভোকেট গ্রুপ। অথচ দুটি বিষয় নিয়ে আমেরিকাব্যাপী আন্দোলন হয়েছে, এখন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। সমগ্র আমেরিকায় এবার মাঠে নেমেছে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলছাত্ররা। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিষয় দুটো নিয়ে সমাধানে পৌঁছতে অপারগ। ডোনাল্ড ট্রাম্প সস্তা জনপ্রিয়তা কুড়াতে যেভাবে কথা বলছেন, তাতে বাধ সাধছেন তার দল রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, ডেমক্রেট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসও কি তা পারবে?

ছাত্ররা বিভিন্ন সমাবেশে গত ২৪ মার্চ শনিবার বলেছেন, তারা যেসব কংগ্রেসম্যান তাদের দাবি পূরণ করবে না, তাদের ভোটের মাধ্যমে টেনে নামিয়ে আনবে। কিন্তু তারপরও কি সমাধান হবে? ডেমক্রেটিক সিনেটর ডিক ডারবিন গত ছয় মাস কাটিয়েছেন অসম্ভবকে সম্ভব করতে। ইমিগ্রেশন নাজুকতা নিয়ে তিনি সমাধানের জন্য ক্যাপিটাল হিলের ভেতরে বেশ কাজ করেছেন। কিন্তু ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার তিনি সিএনএনকে বলেছেন তার ভয় সত্যে পরিণত হয়েছে যে, কংগ্রেস ইমিগ্রেশন নিয়ে স্বল্পকালীন দর কষাকষির পর এর কোনো সমাধান না করে কংগ্রেস ইস্টার ডে’র জন্য বন্ধে চলে গেছে। ‘ডাকা’ বা শিশুকালে অন্যের মর্জির ওপর নির্ভর করে যারা এদেশে এসেছেন তাদের এদেশে থাকার কোনো প্রকার সুযোগ না করে কংগ্রেস চলে গেছে বিরতিতে।

ডেমক্রেটরা বলেছে, তারা ‘ডাকা’ নিয়ে কোর্টে মামলা করেছেন। আর কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ৭০০,০০০ ডাকা’র সুবিধাপ্রাপ্ত ইমিগ্রান্টদের ভবিষ্যৎ। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরই তা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু কোর্টে তা ঝুলে আছে। আবার ডোনাল্ড ট্রাম্প মায়া কান্না করছে ডেমক্রেটরা তা হতে দেবে না অর্থাৎ ডেমক্রেটরা তার মতো করে খরচের বিল পাস করবে না। ‘ডাকা’ দেয়া হবে। তবে তার বিনিময় চাই তার সুন্দর দেয়ালের জন্য অর্থায়ন। ‘কিসের সাথে কী? পান্তা ভাতে ঘি?’ কোথায় ‘ডাকা’, কোথায় দেয়াল?

অর্থাৎ, জনগণ যখন ইমিগ্রেশন ও দেশের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা অবসান করতে চায় তখন ক্যাপিটাল হিলের সদস্যরা স্বীকার করেছেন যে, কংগ্রেস তা করতে অপারগ এবং তারা সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে অনিচ্ছুক।

এই কংগ্রেস ধীর সুনির্দিষ্ট চিন্তায় চলছে। এটা ক্ষোভ, বিক্ষোভ বা ওয়াক আউটের মধ্য দিয়ে ভাবাবেগে কাজ করে না। আর যখন কংগ্রেস দেশের সমস্যায় ভাবাবেগে চলতে নারাজ তখন আইন পরিষদে তার নির্বাচনী এলাকায় জনগণের সমস্যা ও চাহিদার প্রতি ততটা সাড়া দিচ্ছে না বলে ধরে নেয়া যায়। তার পরিবর্তে তারা অপেক্ষা করে। কোনো কোনো সময় আশা করেন যে, আদালত, প্রেসিডেন্টে এবং রাজ্যসমূহ তাদের জন্য কাজটা করে দেবে।

জর্জিয়ার ডেমক্রেট কংগ্রেসম্যান জন লুইস বলেন, ‘আমার দর্শন বেশ সহজ। নেতাদের নেতৃত্ব দিতে হবে। কিন্তু আমরা নেতৃত্ব দিচ্ছি না।’

কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও গত শুক্রবার কংগ্রেস যেভাবে কাজ করছে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় প্যাকেজ নিয়ে, তাতে সই করতে গিয়ে তিনি তার সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন, শুধু সেনাবাহিনীর জন্য তিনি এই বিলে সই করেছেন। যদিও এই বিলের সবটুকু বিশেষ করে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত অংশ পাস না হওয়ায় পেছনে তার কারসাজি কম নেই।

অস্ত্র ও ইমিগ্রেশন সমস্যার স্বরূপ : ইমিগ্রেশন একমাত্র সমস্যা নয় যার বিহিত না করে ফেলে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে অনেক কিছুর সমাধান না করে কংগ্রেস সদস্যরা ২৩ মার্চ ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। এমনকি সরকারের অর্থায়নের জন্য ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যয় বাজেটের ২২০০ পৃষ্ঠার বিলে ভোট দিতে সময় নিয়েছে মাত্র ২৪ ঘণ্টার কিছু বেশি।
পুরো বাজেট প্রক্রিয়া এক ধরনের বিব্রতকর। লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর জন কেনেডি বলেন ‘আমার এক কুকুরের বাচ্চা সবসময় আমার স্টাফদের ব্যাকইয়ার্ডে নিয়ে যায় টেনে এবং তারপর সে ঘরের সামনে লুকোনোর জায়গায় লুকিয়ে থাকে। আর বাজেট যেভাবে করা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে লুকানোর স্থানে তিনদিন ধরে লুকিয়ে আছে কুকুর। তাতে কোনো অর্থ বহন করে না। অর্থাৎ, এখন কুকুরের মতো লুকোনোর মাধ্যমে বিল পাস করে ফেলা কোনো কিছু না বলে।’

কংগ্রেস ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিল পাস করে সরকারকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থ যোগান দিয়েছে। কংগ্রেস এছাড়া হেলা-ফেলার ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম কমানোর বিল পাস করেনি। তার মধ্যে মতানৈক্য ছিল গর্ভপাত নিয়ে। তারা বাংলাদেশের মুলতবি প্রস্তাবের মতো সংসদে যেমন কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় সে রকম অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনগণের দাবি থাকা সত্ত্বেও কোনো আলোচনা করেনি। তার পরিবর্তে তারা ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডে ১৭ জন স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষককে হত্যা করার পর স্কুল সেফটি প্রোগ্রাম ও এজেন্সিকে ইনসেনটিভ দেয়ার জন্য যাতে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিংয়ের আরও ডাটা সন্নিবেশিত করে তার অর্থায়ন করে বিল শেষ করেছে। দেশে যদি কোনো বৃহৎ বিতর্কের সূচনা করা হয় তাহলে দৃশ্যপটের বাইরে তা নিয়ে দর কষাকষির প্রয়োজন আছে। কিন্তু সদস্যরা বলেন, সব সময় কংগ্রেস সদস্যরা পরবর্তী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে একচোখ বন্ধ রেখে কাজ করেন।

সিনেটর ডারবিন বলেন, অতীতের চাইতে কংগ্রেস এখনও অনেক বেশি ঝুঁকি এড়াতে চায়।

সব সময় কংগ্রেস যে কিছু করে না তা নয়। যেমন কিছু কাজ হয়েছে ব্যাপক এবং তা আইনের ক্ষেত্রে এবং যৌথ ট্রাফিকিংয়ের ক্ষেত্রে। কংগ্রেস বাইপারটিজান ওয়েতে কোনো বড় সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ। পার্টি লাইন ভোটে রিপাবলিকানরা তাদের লক্ষ্যে গমনে সক্ষম হয়েছেন। গত বছর এফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট যা ওবামা কেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যনীতি বাতিলে ব্যর্থ হয়ে রিপাবলিকানরা হাউজ ও সিনেটে ক্রিসমাসের সময় ব্যাপক ট্যাক্স বিল পাস করেছে। যা কর্পোরেট ট্যাক্স রেট কঠিন করেছে এবং অনেকের ব্যক্তিগত ট্যাক্স কমিয়েছে। তার তা এমনভাবে পাস করেছে যে, সিনেটে যা ৬০ ভোটে পাস হতো তা তারা সাধারণ সংখ্যাধিক্যে পাশ করিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ রিপাবলিকানদের কোনো আইন পাস করতে ডেমক্রেটদের প্রয়োজন নেই সিনেটে বা হাউজে। কংগ্রেস আস্তে ধীরে হয়ে যাচ্ছে রাবার স্ট্যাম্প হাউজ।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্যাক্টর : সদস্যরা বলেন, অনেক সময় তারা সমস্যা সমাধান করতে চাইলে কিছু বিষয় থাকে যা তাদের আটকে রাখে। যেমন মান্ধাতার আমলের সিনেট রুল। নেতৃত্ব মেরুকরণ, ভয়, কংগ্রেসের বাইরের গ্রুপিং, দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক অসূয়া মনে রাখার প্রবণতা ও বদমেজাজ।

গত ২২ মার্চ বৃহস্পতিবার সিনেটে এক ব্যয় বিল কয়েক ঘণ্টার জন্য আটকে থাকে কারণ আইডডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিসচ এক ব্যয় বিলে অবজেকশন দেয় কারণ এই বিলে একটা বন এলাকার নামকরণ করা হয়েছে তার এক মৃত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর নামে। কিন্তু সদস্যরা ট্রাম্পকেও দোষারোপ করেন।

আরিজোনায় রিপাবলিকান সিনেটর জেফ ফ্লেক বলেন ‘এটা খুব সহজ নয়। আপনি জানেন না সে (ট্রাম্প) কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আপনাকে। যা তার কাছে শুনেন তা আপনি কি বিশ্বাস করতে পারেন? তা পরের দিন হয়তো পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। আর তা বিয়ষটাকে আরো কঠিন করে। ফ্লেক এ বছরের শেষদিকে অবসর নেবেন। তবে তার সব দোষ নয়। আর আমরা প্রেসিডেন্টের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করি। শুক্রবার তা আরও পরিষ্কার হয়। সকালে যখন ট্রাম্প ক্যাপিটাল হিল ছেড়ে যাচ্ছেন তখন তিনি টুইট করেন। তিনি বিলে ভেটো দেবেন। তাতে যে বিল পূর্বের রাতে পাস করার জন্য পেশ করা হয় তা অনেক সময় পর্যন্ত গড়ায়। সে বিলে অবশেষ প্রেসিডেন্ট সই করেন। তাতে তার মনগড়া, খেয়াল গড়া বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়।

কিন্তু ট্রাম্পের অনিত্যতা কংগ্রেসের জন্য বড়ই ক্ষতিকারক। যখন সামরিক ইস্যু নিয়ে কথা হয় তা আরো খারাপ। যেমন অস্ত্র ও ইমিগ্রেশন নিয়ে ট্রাম্প সব সময় বিদঘুটে বিষয় নিয়ে আসে। তিনিই সৃষ্টি করেন ফারাক। তিনি নতুন পজিশন বের করেন নিত্যদিন। আর তাতে রিপাবলিকান দলের গোড়া নড়বড়ে হয়ে পড়ে। শেকড়ে পড়ে টান। কিন্তু তার রাজনৈতিক ক্যাপিটাল এখানে ব্যয় করার রয়েছে।

ডেমক্রেটরা বলেন, অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট এক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। এক ঘণ্টা জীবন্ত জাতীয় টেলিভিশনে ট্রাম্প জাতীয় রাইফেল এসোসিয়েশনকে না মেনে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের কথা বলেন, ডেমক্রেটিক সিনেটর ডায়না ফেনেস্টাইনের মতকে সমর্থন করেন। যখন ডায়না ভারি হাতিয়ার বন্ধের কথা বলেন, তিনি রিপাবলিকানদের রাইফেল এসোসিয়েশনের কাছে ভিতু বলে অভিহিত করেন। এবং হাউজের মেজরিটি হুইপ স্টিভ স্ক্যালেইসকে রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক ফিক্স বিলের কথা বলেন। কিন্তু একই কথা সিনেটে টেকেনি। অস্ত্র নিয়ে যখন ট্রাম্প স্ক্রিপ্টের বাইরে কথা বলেন, তখন ডেমক্রেটরা হাসেন। কিন্তু পরিশেষে ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের সাথে বৈঠকে ট্রাম্প এসব কথা ভুলে যান। কানেকটিকাটের ডেমক্রেট সিনেটর ক্রীস আরকি বলেন, টেলিভিশনে প্রকাশ্যে ট্রাম্প যা বলেছেন, অপ্রকাশ্যে রাইফেল এসোসিয়েশনের সাথে সে রাতে আরেক বৈঠকে তিনি সে সবের সব অর্থই পাল্টে দিয়েছেন।

ইমিগ্রেশন সমস্যা সমাধান কংগ্রেসকে বিরত করে। ইমিগ্রেশন নিয়ে কংগ্রেস চলছে না চলার মতো। ট্রাম্প বলেন, ডিপোর্টেশন ফোর্স করা হবে। মেক্সিকোর অর্থে বর্ডার ওয়াল হবে। তার যে সমর্থক গোষ্ঠী তা তার আইনের শাসনের প্রতি সমর্থন নিয়ে কোনো প্রশ্ন করে না। তারা তাকে যেভাবে বিশ্বাস করেন সেভাবে কখনও তারা প্রেসিডেন্ট ওবামাকে বিশ্বাস করেননি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে। রিপাবলিকান পার্টিকে যিনি ইমিগ্রেশন নিয়ে কভার দিতে পারতেন তিনি হচ্ছেন ট্রাম্প। ডেমক্রেটরা আশা করেছিল যে, ডাকা নিয়ে একটা সম্মত বিল তৈরিতে ট্রাম্পের সুযোগ রয়েছে। তার পরিবর্তে তা ডেমক্রেটরা দেখেছেন ট্রাম্পের সাথে দর কষাকষি। সিনেটর চাকশুমারের ভাষায় ‘জেল ও’র সাথে (অর্থাৎ চেরী গন্ধের প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য) দর কষাকষি।

রিপাবলিকানরা বলে ডেমক্রেটরা ‘ডাকা’ থেকে চলে যায় বার বার। দর কষাকষিতে বসে না। আর ডেমক্রেটরা বলেন, ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা কঠিন। ক্যাপিটাল হিলে প্রবাদ হয়ে গেছে ‘মঙ্গলবারের ট্রাম্প বনাম বৃহস্পতিবারের ট্রাম্প। টুয়েসডে ট্রাম্প ভার্সেস থারসডে ট্রাম্প।’ একদিকে ট্রাম্প টেলিভিশনে দেখানো এক বৈঠকে ‘ডাকা’ নিয়ে খোলা মনের পরিচয় দেন।

আবার ব্যক্তিগতভাবে তিনি তা পরিহার করে আফ্রিকান দেশসমূহকে ‘শীটহোল’ বলে আখ্যায়িত করেন। এখন ট্রাম্পকে প্রখ্যাত টক্্ শো হোস্ট বিল মাহার পর্নোস্টারের সাথে ছবি দেখিয়ে ডেকেছেন ‘শীটস্টর্ম’। ফেব্রুয়ারিতে সিনেট মেজরিটি লিডার মিটস ম্যাককনেল এক বিতর্ক প্রস্তাব দেয়। ১.৮ মিলিয়ন ‘ডাকা’ গ্রহীতার বদলে ২৫ বিলিয়ন ডলার প্রাচীর নিরাপত্তা অনেকে মনে করেন কংগ্রেসের ডেডলাইন প্রয়োজন। কোন ইস্যু নিষ্পত্তিতে ডেটলাইন? সিনেটর মার্কো রুবিও ও কংগ্রেসম্যান ব্রয়ান মাস্ট দুজনই রিপাবলিকান ও ফ্লোরিডার নেতা। তারা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিতর্র্ক নিয়ে বলেছেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। রুবিও তার আগের মত পরিবর্তন করার কথা বলেছেন, তারা শীঘ্রই কিছু করতে চান। কিন্তু রুবিও’র কাছে এক গান ভায়োলেন্স থেকে রক্ষা পাওয়া ব্যক্তি প্রশ্ন রাখেন, আপনি কি ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের অর্থ পরিহার করবেন? তাতেই সারা রাষ্ট্র দমে গেলেন।
সিনেটর ফ্লেক বলেন, কখন এসব ঠিক হবে জানা নেই।

অনেক রিপাবলিকান এখন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে গবেষণায় ব্রতী হতে চান। বিতর্ক করতে চান। অনেকে মনে করেন প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার। তার মধ্যে পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রায়ান কাস্টিলো রয়েছেন। তিনি মনে করেন, ডাকা বিল ও কিছু অস্ত্র নিরাপদ বিল তিনি সমর্থন করতে চান। তিনি দল থেকে সরে আসতে চান।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেন্ডিং বিল বা ব্যয় বিল পাস হয়েছে। অক্টোবরের ১ তারিখের পূর্বে আবার ব্যয় বিল পাস করতে হবে। তখন এই বিতর্ক আবার আসবে। ম্যাককনেল হিমশিম খাচ্ছে সবাইকে রুখতে। কারণ তার চীনা স্ত্রী এলাইন চাও ট্রাম্পের কেবিনেটে। তার চাকরি দুটি। এক তার স্ত্রীর চাকরি আবার তার চাকরি দুটিই রক্ষা করা। ডোনাল্ড ট্রাম্প চেতলে বড় ভয় তার।

ট্রাম্প আবার বলে বসেছেন, আমি এ ধরনের বিল আর সই করবো না। ইমিগ্রেশন বিল ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিল কংগ্রেসের বিরতির পর আর হালে পানি পাবে কিনা তা নির্ভর করছে দেশের আন্দোলনের ওপর। আর ট্রাম্পের স্থায়ীত্বের ওপর। আর কংগ্রেস কাজ করতে পারে না এই দুই ইস্যু নিয়ে। যদিও ইমিগ্রেশন ও অস্ত্র আইন নিয়ে আমেরিকার অসন্তোষ চরমে। কারণ অর্থই নিয়ন্ত্রণ করে ইস্যু আর কংগ্রেস।