আইনশৃঙ্খলার ভয়ংকর অবনতি: ডেমোক্র্যাট-শাসিত স্টেটে অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্ট পাঠাবেন ট্রাম্প

ঠিকানা রিপোর্ট : কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড পুলিশের হাতে হত্যার পর পুরো আমেরিকায় ব্লাক লাইফ মেটার আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমেরিকার রূপই বদলে যায়। প্রায় প্রতিটি স্টেটেই আন্দোলনের লাগাতার আগুন জ্বলতে থাকে। সেই আগুন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বড় বড় শহরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। পুরো আমেরিকায় টানা প্রায় একমাসের মত আন্দোলন চলে। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক স্টেটেই বেল রিফর্ম করা হয় এবং পুলিশ আইন সংস্কার করা হয়। সেই পুলিশ রিফর্ম আইনে পুলিশের হাতেই হাতকড়া পরিয়ে দেয়া হয়। এখন আর পুলিশ নিজেদের ইচ্ছামত গ্রেফতার করতে পারবে না। জোরপূর্বক গ্রেফতার করলে পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন পুলিশকে আসামী করে জেলে পাঠানো হয়েছে। অনেকের চাকরিও চলে গিয়েছে। যে কারণে পুলিশও এখন অনেকটা ভীতির মধ্যে রয়েছে। অযথা নিজেরা মানুষের উপকার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে চাচ্ছেন না। আবার বেল রিফর্মের কারণে অপরাধীকে গ্রেফতার করার পরও তাদের জেলে না পাঠিয়ে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ। যে কারণে নিউইয়র্কসহ অনেক স্টেটেই আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ মারা যাচ্ছে। এমন কি বিচারকের বাড়িতে ঢুকে গুলি করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীর গুলিতে বিচারকের সন্তান মারা গিয়েছেন এবং স্বামী আহত হয়েছে। সিয়াটলে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৫০ জনকে। অন্যদিকে টেক্সাসে গুলি চালানো হয়েছে। এতে বহু লোক আহত এবং ১ জন জন মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রতিদিন কোন কোন শহরে এখনো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

নিউইয়র্কের এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যন্ত সমালোচনা করেছেন। আবার ব্লাক লাইফ মেটার ব্লাকরাই মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন। ব্লাক মোছার কারণে নিউইয়র্কে গত সপ্তাহে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে অপরাধ দমনে ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২২ জুলাই, বুধবার, হোয়াইট হাউসে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারকে পাশে রেখে এ ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে জনগণের মন জেতার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে পোর্টল্যান্ড, ওরেগনসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর কারণে উত্তেজনা বরং বেড়েছে।
গত ২৫ মে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকান্ডের পর থেকেই আমেরিকাজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। এসব বিক্ষোভের কারণে কোথাও কোথাও সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ- ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত শহরগুলো বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া, লস অ্যাঞ্জেলস, শিকাগোসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বন্দুক সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। প্রায় সব জরিপেই প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায় ফেডারেল এজেন্ট পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছেন তিনি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা দুর্বলতা দেখাচ্ছে অভিযোগ করে গত ২২ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমাদের উগ্রবাদী আন্দোলন পরাজিত, নিষ্ক্রিয় এবং পুলিশ বিভাগ বিলুপ্ত করতে হয়েছে।’ এসব ঘটনার জন্য তিনি বন্দুক হামলা, হত্যাকান্ড, খুন আর জঘন্য অপরাধ বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করেন। অতিরিক্ত ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর মাধ্যমে এসব রক্তপাত বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকা অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার জানান, কানসাস সিটি ও মিসৌরিতে প্রায় দু’শ ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো হবে। শিকাগোকে তুলনামূলক সংখ্যক এবং নিউ মেক্সিকো ও আলবুকুয়েরকুতেও প্রায় ৩৫ জন এজেন্ট পাঠানো হবে।
এসব ফেডারেল এজেন্ট দাঙ্গা কিংবা সংঘবদ্ধ সহিংসতা মোকাবিলায় মোতায়েন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্টদের মতো ভূমিকার বদলে প্রথাগত অপরাধ মোকাবিলায় যুক্ত থাকবেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি সেবার ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। আর ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন অঙ্গরাজ্যগুলোর গভর্নর ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।