আগামী নির্বাচনে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ

রাজনৈতিক ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো দলের বড় বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখনো নিজেদের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ভাবছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। আর এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার গঠন করে রেকর্ড গড়তে চায় ক্ষমতাসীনরা। তাদের এই হ্যাটট্রিক বিজয়ের মূল ট্র্যাম্পকার্ড হলো উন্নয়ন। দলটির নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। আগামীতেও তাই উন্নয়ন প্রশ্নে জনগণ আওয়ামী লীগের বিকল্প চিন্তা করবে না।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ নির্বাচনে উন্নয়নকে ট্যাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে দলীয় এমপি-মন্ত্রী এবং দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে নির্বাচনী প্রচারণা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী বছরজুড়ে আরো ব্যাপকভাবে এই প্রচার-প্রচারণা চালাতে চায় দলটি। তাদের মতে, সরকার যে উন্নয়ন করেছে, সেগুলো মানুষের মধ্যে প্রচার করতে পারলে তারাই আবার ক্ষমতায় আসবে।
গত মঙ্গলবার রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে আওয়ামী লীগের ফ্রান্স শাখা আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে দলের জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, আমরা আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করব, কারণ জনগণ আমাদের পক্ষে। জনগণ আমাদের ভোট দিতে প্রস্তুত। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে, যাতে কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে না পারে।
এর একদিন আগে সোমবার আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের চেয়েও আরো বড় বিজয় পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। দলের নেতাদের তিনি বলেছেন, একটা সুখবর দিতে আজকে আমি আপনাদের সঙ্গে বসেছি। সুখবর হলো- আমার জরিপে আগামী নির্বাচনে ভালো রেজাল্ট আমরা পাব। ২০০৮ সালের চেয়ে বিপুল ও বেশি ভোট পাব। দেশের মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন আমাদের প্রতি চলে এসেছে। তিনি বলেন, আমি একটি জরিপ করেছি। তাতে এই ফল পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘বিজ্ঞানসম্মত’ জরিপে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। ভোটের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দল বাংলাদেশে নেই।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও জয় বলেছিলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে, আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসবে’। হয়েছেও তাই। বহুল আলোচিত সে নির্বাচনে সংসদের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ ঠিকই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে জয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক জরিপের অবশ্যই ভিত্তি আছে। তাছাড়া দেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগের মতো দৃশ্যমান উন্নয়ন কোনো সরকার দেখাতে পারেনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, তার সততা ও আকাশসম ব্যক্তিত্ব। এসব কারণেই জরিপে ভালো ফল উঠে এসেছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে রাজনীতির মূল ফোকাসে না থাকলেও আওয়ামী লীগ ও সরকারের জন্য ছায়ার মতো কাজ করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। বিগত নির্বাচনগুলোতেও তার অবদান কম ছিল না। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের চিন্তা প্রথম তার মাথাতেই আসে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি দলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও তিনি মাঠে থাকবেন। ইতোমধ্যেই সেই ঘোষণাও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিগত নির্বাচনে দলকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে ছিলাম। এখন থেকে ধরে নিতে পারেন- আমি মাঠে নেমে পড়েছি। আগামীতে কোথায় কোথায় যেতে হবে- কি করণীয় তা আমি করব। দলকে ক্ষমতায় আনব।
ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই আত্মবিশ্বাস দলের নেতাদের উজ্জীবিত করেছে। এমন প্রত্যয় নেতাদের মধ্যে দ্বিগুণ মাত্রায় শক্তির সঞ্চার করেছে। তারা বলছেন, নির্বাচন ও ক্ষমতায় আসা নিয়ে কিছু দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও শীর্ষ পর্যায়ে থেকে এমন বক্তব্য সবার আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য মানবকণ্ঠকে বলেন, আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এ দেশের সব অর্জন। আওয়ামী লীগ যে উন্নয়ন করেছেন তাও অন্য কোনো দল বা সরকার করতে পারেনি। তাই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অবশ্যই বিজয় লাভ করবে। প্রধানমন্ত্রী ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা যা বলেছেন, আমি বলব তা আমাদের মনের কথা।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে রাখার জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জনগণ শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকেই বিজয়ী করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তা ছাড়া এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন শেখ হাসিনা, আর সবচেয়ে জনপ্রিয় দল আওয়ামী লীগ। তাই সব মিলিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।