আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ : ১৬ দিনে রমেকে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯

রংপুর : শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ১৬ দিনে একই ধরনের ঘটনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ জনের প্রাণ গেল।
সকালে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুভাষ চন্দ্রের স্ত্রী গীতা রানী (২৫), লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার মিজানুর রহমানের স্ত্রী রংমকি (২৭), নীলফামারী সদরের মৃত তমিজ উদ্দীনের স্ত্রী আফরোজা (৭৫) এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত খোদা বকসের ছেলে মকবুল (৬২) মারা যান।
রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকে শৈত্যপ্রবাহে ঠা-া থেকে বাঁচতে আগুন পোহাতে গিয়ে রংপুর অঞ্চলে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিকেরও বেশি দগ্ধ নারী, বৃদ্ধ ও শিশু রমেকে ভর্তি হয়। তাদের শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১৯ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে মারা যান লালমনিরহাট সদর থানার শাম্মি আখতার (২৭), একই জেলার পাটগ্রামের ফাতেমা বেগম (৩২) ও আলো বেগম (২২), রংপুরের কাউনিয়ার গোলাপি বেগম (৩০), নীলফামারীর রেহেনা বেগম (২৫), রংপুর নগরীর নজিবেরহাট এলাকার বেলাল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা খাতুন (৪০), ঠাকুরগাঁও শহরের থানাপাড়ার আঁখি আক্তার (৪৫), রংপুরের জুম্মাপাড়া পাকার মাথার রুমা খাতুন (৬৫), রংপুরের মাহিগঞ্জের চান মিয়ার স্ত্রী মনি বেগম (২৫), নীলফামারী সদরের সোনারাম গ্রামের আমজাদ হোসেনের স্ত্রী মারুফা খাতুন (৩০), লালমনিরহাট জেলার রাজপুর গ্রামের শুকমনি (৭০), রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার জামেরন বেওয়া (৮০) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার হাসু বেগম (৬৫), কুড়িগ্রামের নুরিজা (৩০) ও পঞ্চগড়ের আরজিনা (২৮)।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. তৌহিদ আলম জানান, প্রচ- ঠা-া থেকে বাঁচতে মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনো অগ্নিদগ্ধ ৪৬ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসাধীন। তাদের অধিকাংশই শীত নিবারণের জন্য আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
বার্ন ইউনিটের সহকারী পরিচালক নূরে আলম বলেন, শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর সময় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু দগ্ধ হয়েছেন। এদের বেশির ভাগের শরীর ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।