আগে ঐক্যবদ্ধ হোন, পরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি

দেশে ফেরার আগে শেখ হাসিনার নির্দেশ

নিউইয়র্ক : ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঠিকানা রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় তিনি সরকারের উন্নয়ন এবং বিএনপি আমলের অপশাসন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার নেতাদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নেতৃবৃন্দ মূলধারায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে সবাই যখন খোঁজ মেজাজে, ঠিক তখনই মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি দাবি করেন এবং প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করার চেষ্টা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা বিরক্ত হন বলে জানা গেছে।
সাক্ষাতে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন নেতা ঠিকানাকে জানান, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের ওই নেতার কমিটি নিয়ে কথা বললে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন যে আগে আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, পরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে কমিটি হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথার পর সবাই চুপ হয়ে যান এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ঠিকানাকে বলেন, দলীয় প্রধান আমার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট। আমি সবসময় চেষ্টা করি, দলীয় প্রধানের নির্দেশ মেনে চলতে। ভবিষ্যতেও মেনে চলবো। তিনি বলেন, নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মূলধারায় সরকারের উন্নয়ন এবং বিএনপি আমলের অপশাসন তুলে ধরতে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে আরো বেশী বেশী কাজ করবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিন্ন আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদেশিরা জানুক, দেশের বিরুদ্ধে বিদেশে অপপ্রচার চালানো বিএনপির এখন প্রধান কাজ। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব কেএম শাখাওয়াত মুন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকায় উন্নত দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি।
নির্বাচনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তার দল দেশে নির্বাচনের নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। এর ফলে জনগণ এখন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে। অন্যদিকে বিএনপি ভুয়া ভোটার তালিকা তৈরি করে এবং ভোটের দিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন উপায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, বিএনপি গত সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৭০০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং আসন বাণিজ্যের কারণে জনগণ তাদের ভোট দেয়নি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সংক্ষিপ্তভাবে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি মাতৃভূমিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন থাকবে না।
নিউইর্য়কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশন ও উচ্চপর্যায়ের অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ২ অক্টোবর রোববার ঢাকার উদ্দেশে ওয়াশিংটন ডিসি ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।