আপিলের কথা ভাবছেন স্মিথ-ওয়ার্নার

স্পোর্টস ডেস্ক : যে অপরাধে আইসিসির শাস্তি এক টেস্ট ও ম্যাচ ফির জরিমানা, সেই অপরাধে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ড দিয়েছে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ সাজা দিয়েছিল অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ আর মাঠে বল টেম্পারিংয়ের চেষ্টা করা ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব তদন্তে বল টেম্পারিংয়ের নাটের গুরু হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সাজা দেওয়া হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারকেও। তুলনামূলক বিচারে তিনজনের সবচেয়ে কঠিন সাজা-ই পেয়েছেন ওয়ার্নার। স্মিথের মতো এক বছরের নিষেধাজ্ঞা আর কমিউনিটি ক্রিকেটে স্বেচ্ছাশ্রমের বিষয় তো আছেই, সে সঙ্গে আজীবনের জন্য দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান দলের নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞাও। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ৩১ বছর বয়সী ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন বেশ ধূসর। এমন পরিস্থিতিতে শাস্তি কমানোর জন্য কি আপিল করবেন ওয়ার্নার? সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া স্মিথ আর আটটি টেস্ট খেলা ব্যানক্রফটও কি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাবেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) কোড অব কন্ডাক্ট অনুসারে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে তারা আপিল করতে পারবেন। সিএর জেনারেল কাউন্সিল ও কোম্পানি সেক্রেটারি ক্রিস্টিন হার্মানের কাছে আপিল আবেদন করলে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে স্বতন্ত্র আপিল কমিশনার নিয়োগ করা হবে। শুনানি করে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে- পরবর্তী এক মাসের মধ্যে। স্বতন্ত্র আপিল কমিশনারের সিদ্ধান্তই সব পক্ষের জন্য সম্পূর্ণ, চূড়ান্ত বলে উল্লেখ করা আছে সিএর কোড অব কন্ডাক্টে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্মিথ-ওয়ার্নাররা কি সেই আপিলের পথে এগোবেন? ২৪ মার্চ কেপটাউন টেস্টের বল টেম্পারিং ঘটনার জের ধরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের অধিনায়ক, সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় একদিন পর। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের খবরে বলা হয়েছে, আরও বড় সাজা আসন্ন- এমন ভাবনায় তখনই আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ শুরু করেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। তবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত তারা কেউ আপিল করেননি, করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেননি। স্মিথ ও ব্যানক্রফট ইতোমধ্যেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন; ধারণা করা হচ্ছে, এখন তারা আপিলের প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছেন। কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে সামাজিকমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন ওয়ার্নারও। তবে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান বল টেম্পারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবার কথা বলেন গত ৩১ মার্চ। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা আর আপিল বিষয়ে বলার সম্ভাবনা আছে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের সংগঠন এসিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছর এবং ব্যাকক্রফটকে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়াটা বেশি হয়ে গেছে। এই তিন ক্রিকেটারের আপিলের ক্ষেত্রে এসিএরও বড় একটা ভূমিকা থাকতে পারে।
তবে আপিল আবেদন শেষ পর্যন্ত নাও হতে পারে। কারণ, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেশ ভেবেচিন্তেই সাজা ঘোষণা করেছে। মেয়াদভিত্তিক সাজা ঘোষণার ১৪ ঘণ্টা আগেই সিএর প্রধান নির্বাহী নিশ্চিত করেছিলেন, তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্য অস্ট্রেলিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মাঝের ১৪ ঘণ্টায় নতুন করে কিছু না ঘটলেও সময়টা নেওয়া হয়েছে সম্ভবত শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণের আলোচনায়। পরে সাদারল্যান্ড বলেছেনও, আমাদের সর্বোচ্চ বিবেচনা এবং হাতে আসা প্রমাণসাপেক্ষে আমরা এই সাজার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে ক্রিকেট চেতনার বিষয় জড়িত। কোনো ব্যক্তি বা ঘটনাপরম্পরার বিষয় ভাবা হয়নি।