আফিমজাত পণ্যের উপর স্টেট আরোপিত শুল্ক সংবিধান পরিপন্থী

ঠিকানা রিপোর্ট: ম্যানহাটনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট জাজ ক্যাথারিন পল্ক ফাইলা নিউ ইয়র্ক স্টেটে প্রেসক্রিপশনকৃত আফিমজাত পণ্যের উপর নতুনভাবে কার্যকর হওয়া শুল্ক বাতিল করে দিয়েছেন। হেলথকেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এলায়েন্স নামক ড্রাগ বিতরণকারীদের আমব্রেলা গ্রুপের পক্ষ থেকে রুজুকৃত মামলার প্রদত্ত রায়ে বিজ্ঞ বিচারক ফাইলা বলেন, প্রেসক্রিপশনকৃত আফিমজাত পণ্যের উপর নতুনভাবে আরোপ করা শুল্ক আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থী।
গত বসন্তকালে বর্তমান বাজেটের অংশ হিসেবে গভর্নর এন্ড্রু ক্যুমো এবং আইনসভার সদস্যমন্ডলী প্রেসক্রিপশনকৃত আফিমজাত পণ্যের উপর শুল্কারোপ ও কার্যকর করেছিলেন বিজ্ঞ বিচারক ফাইলা তার আদেশে উক্ত কার্যকারিতার বিরুদ্ধে ইনজাংশন বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন। লক্ষ্যণীয়, স্টেটের জন্য বার্ষিক লাখ লাখ ডলার এবং এডিকশন-ট্রীটমেন্ট প্রোগ্রামের (আসক্তি চিকিৎসা কর্মসূচির) জন্য কিছু তহবিল সংগ্রহের লক্ষে গত মার্চে উক্ত বাড়তি শুল্কারোপ করা হয়েছিল।
বিজ্ঞ বিচারক ফাইলা বলেন, আসক্তিজনিত সমস্যা সমাধানে প্রেসক্রিপশনকৃত আফিমজাত পণ্যের উপর করারোপ নিয়ন্ত্রণমূলক হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি বেআইনী। ২২ ডিসেম্বর প্রদত্ত ৫২ পৃষ্ঠার সিদ্ধান্তে ফাইলা বলেন, নিউ ইয়র্ক স্টেটের বাসিন্দাদের গণ-স্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে কমার্স ক্লজকে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতি মিলিগ্রামের জন্য ২ সেন্ট হিসেবে আদায় করাকে ট্যাক্স বলা যায়না বরং একে আফিমযুক্ত পণ্য উৎপাদক ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক জরিমানা। তিনি আরও বলেন, ফেডারেল আইন-কানুন লঙ্ঘন করা ছাড়াও প্রেসক্রিপশনকৃত আফিমজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রকৃতপক্ষে যাদের জন্য ড্রাগটি অপরিহার্য তাদের দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিবে। তদুপরি মূল্য বৃদ্ধির ফলে খোলা বাজারে কিংবা কাউন্টারে ওষুধটি দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠারও পুরোপুরি আশঙ্কা রয়েছে।
মামলা বিবাদী স্টেট হেলথ ডিপার্টমেন্ট এবং এটর্নী জেনারেল বারবারা আন্ডারউডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র জিল মন্টাগ বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সকল ধরনের মতামতের দিকটি বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, হেলথকেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এলায়েন্স নামক সংগঠনের পক্ষ থেকে রুজুকৃত মামলায় পরবর্তীতে অন্যান্য কোয়ালিশন এবং ম্যানুফ্যাকচারারগণও বাদির তালিকাভুক্ত হয়। এদিকে অপিয়ইড স্টুয়ার্ডশিপ নামে পাশ হওয়া অ্যাক্টের অংশ বিশেষ হিসেবে ট্যাক্স বেআইনী ঘোষণা করায় এলায়েন্সের জনৈক মুখপাত্র বিচারকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এলায়েন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন পার্কার বলেন, আফিম মহামারির সমাধানে আইনটির অসাংবিধানিকভাবে করারোপ এবং পাশÑথ্রু প্রহিবিশন সঠিক পন্থা নয়। বরং এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়বে এবং হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আদালতে নানচাকস নিষেধাজ্ঞাও বাতিল: মার্শাল আর্টস (সামরিক শিল্পকলা সংশ্লিষ্ট) মুভিগুলো বড় ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টিতে কমবয়সী যুবক-যুবতীদের ইন্ধন যোগাতে পারে আশঙ্কায় ১৯৭৪ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট নানচাকসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। দ্বিতীয় সংশোধনীর আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাটি অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিল করে দিয়েছেন ব্রুকলীন ফেডারেল কোর্টের বিজ্ঞ বিচারক পামেলা চেন।
২০০০ সালে মামলাটির বাদি জেমস মালোনীর গৃহে নানচাকস পাওয়া যাওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করা হলে তিনি নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। ২০০৩ সালে মালোনী প্রাথমিক পর্যায়ে একটি অভিযোগ দাখিল করেন এবং মামলাটি তার বিরুদ্ধে যাওয়ার পর মালোনী ইউএস সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেন। ২০১০ সালে সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্টের সিদ্ধান্তের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট অপর একটি মামলায় পুনর্বিবেচনায় আনলে মালোনী সেই বছরের শেষ দিকে একটি সংশোধনী অভিযোগ দাখিল করেন।
প্রদত্ত সিদ্ধান্তে বিজ্ঞ বিচারক চেন বলেন, নানচাকস ম্যানুফ্যাকচারিং, পরিবহন কিংবা বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা দ্বিতীয় সংশোধনী পরিপন্থী। এদিকে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের ম্যারিটাইম কলেজের অধ্যাপক মালোনী বলেন, মার্শাল আর্টস উইপন্স হিসেবে যে সকল উপকরণের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে সেগুলোর আনন্দপ্রদান ও আত্মরক্ষামূলক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা অযৌক্তিক।