আবারও অচলাবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প

ঠিকানা রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রে আবারও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে কংগ্রেস বাজেট বরাদ্দ না দিলে এই অচলাবস্থার শুরু হতে পারে বলে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে জানায় হাফিংটন পোস্ট।
গত ২৭ জানুয়ারি রোববার হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মিক মুলভ্যানি বলেন, ‘যেভাবে বিষয়টি সুরাহা হতে পারে ঠিক সেভাবেই আমরা বিষয়টির সমাধা করতে চাইছি। পুরো প্রক্রিয়াটা যাতে আমাদের সরকার আইনসিদ্ধ উপায়ে করতে পারে তাই আমরা চাই। প্রেসিডেন্ট আর কোনো অচলাবস্থা চান না। কিন্তু প্রয়োজন হলে তিনি তা করবেন। এটা মনে রাখতে হবে সীমান্ত নিরাপত্তায় তিনি যা করার দরকার তাই করবেন।’ ক্রমবর্ধমান চাপের পরিপ্রেক্ষিতে টানা ৩৫ দিনের অচলাবস্থা বন্ধে পদক্ষেপ নেন ট্রাম্প। দেয়াল নির্মাণে প্রেসিডেন্ট যে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছেন তা দিতে এখনো অস্বীকৃতি জানিয়েছে কংগ্রেস। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘নীতিবহির্ভূত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প দেয়াল নির্মাণে ছয় বিলিয়ন ডলারের কম অর্থ গ্রহণ করবেন কি না এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মুলভ্যানি। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। এদিকে ডেমক্র্যাট শিবির থেকেও বলা হচ্ছে তারা দেয়াল নির্মাণে অর্থায়ন করতে আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্পের দাবিকৃত অর্থের তুলনায় তা কম। ডেমক্র্যাটদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেয়াল নির্মাণে তারা আগেও অর্থায়ন করেছে।
সাময়িক অবসানে স্বস্তিতে নেই বিনিয়োগকারীরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রমে আংশিক অচলাবস্থা সাময়িক অবসানে অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমক্র্যাট আইন প্রণেতারা। দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম এ শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কমপক্ষে ৬০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি। শাটডাউন সাময়িক বন্ধে চুক্তির খবরে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তহবিল ব্যবস্থাপকরা আপাতত ভোক্তাসংশ্লিষ্ট শেয়ার থেকে দূরে থাকবেন এবং আত্মরক্ষামূলক বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেবেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার জানান, সরকারি কার্যক্রম তিন সপ্তাহের মতো চলবে এ পরিমাণ তহবিল ছাড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য আলোচনা চলবে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেয়াল নির্মাণের জন্য দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেলে পুনরায় অচলাবস্থা শুরু হবে অথবা জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করবেন তিনি।
শাটডাউনের আপাতত অবসান হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সমাধান সাময়িক হওয়ায় ভোক্তাসংশ্লিষ্ট শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসঅ্যান্ডপির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যদিও শাটডাউনের সমাপ্তি হয়েছে কিন্তু তা সাময়িক হওয়ার কারণে ব্যবসায় আস্থা ও আর্থিক বাজারের মনোভাবে প্রভাব ফেলবে।’
জানুয়ারির শুরু থেকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটিতে ৫ শতাংশ যোগ হওয়ার পর ফেডারেটেড ইনভেস্টরস, ব্যারন ফান্ডস এবং হজেস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের মতো তহবিল ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের ওপর শক্তিশালী প্রভাবের আশা করেছিল। কিন্তু শাটডাউনের ফলে প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মী বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে বাধ্য হওয়ায় ডিসেম্বরে তিন বছরের মধ্যে ভোক্তা আস্থা সর্বোচ্চ পরিমাণে কমে যায়। ফলে শাটডাউন আপাতত বন্ধ হলেও আস্থা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।
ফেডারেটেড ইনভেস্টরসের পোর্টফোলিও ম্যানেজার স্টিভ চিয়াভারন বলেন, তিনি একটি সম্ভাব্য রাজস্ব পতন দেখছেন। সরকারি কর্মকর্তারা ব্যয়ে লাগাম টানবে ফলে ভোক্তাদের খরচের ওপর নির্ভরশীল রেস্টুরেন্ট, হোটেল এবং রিটেইল কোম্পানির মালিক ও কর্মচারীরা এতে প্রভাবিত হবেন।
এসপ্লানাদে ক্যাপিটাল এলএলসির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা শ্যাওন ক্রাভেটজ মনে করছেন বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা কর্মীরা আরো মানভিত্তিক চেইনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ওয়ালমার্ট ইনকরপোরেশন এবং ডলার ট্রি ইনকরপোরেশনের মতো ডলার-স্টোর চেইনগুলো সুবিধা পাবে। কিন্তু ব্যয়বহুল ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং ভ্রমণসংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো শ্লথগতির মধ্যে থাকবে। তিনি আরো বলেন, ‘নগদ প্রবাহের বিষয়ে অবকাশ নেই। বেতন পাওয়ার বিষয়ে আপনি সর্বোচ্চ পরিমাণে আত্মবিশ্বাসী হলেও সাধারণ মানুষ বুঝে-শুনেই ব্যয় করবে।’
নিউইয়র্কভিত্তিক সিএফআরএর ইউএস ইকুইটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলী স্যাম স্টোভাল বলেন, অতীতে সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থায় বেঞ্চমার্ক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে খুবই কম পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরো বলেন, সত্তরের দশকের পর থেকে ২০টির বেশি শাটডাউনের প্রতিটিই গড়ে এক সপ্তাহ বিদ্যমান ছিল এবং সে সময় এসঅ্যান্ডপি ৫০০-তে কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। আর ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে ২১ দিনব্যাপী শাটডাউন চলমান অবস্থায় এসঅ্যান্ডপি৫০০ দশমিক ১ শতাংশ এবং শাটডাউনের সমাপ্তির পর সেখানে ৪ শতাংশ যুক্ত হয়েছিল।