আবীর-কান্তার বৃষ্টিস্নাত অভিলাষী ভ্রুণ

নিউইয়র্ক : পরিবেশন করছেন আবীর-কান্তা

ঠিকানা রিপোর্ট : আবীর আলমগীর ও কান্তা আলমগীর প্রবাসে জনপ্রিয় মুখ, সবার খুব প্রিয়ভাজন। এই দুই গুণী শিল্পী দম্পতি যখন একমঞ্চে ওঠেন, তখন সেই মঞ্চ শুধু আলোকিত হয়ে ওঠে না, তাদের কবিতা ও গানে তৈরি হয় নৈসর্গিক-নৈবদ্য। তাদের সৃষ্টিশীলতা দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। গান ও কবিতাপ্রেমীরা এমনই এক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন ২২ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায়।
বাইরে কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া, সঙ্গে বৃষ্টি মনের উষ্ণতাকে দমাতে পারেনি। তাইতো সন্ধ্যা নামার পরই গান ও কবিতাপ্রেমীরা নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে ভীড় করেন। পরিপাটি করে সাজানো সুসজ্জিত মঞ্চে তখনো অনুপস্থিত শিল্পী দম্পতি। তারা অভ্যর্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পরই আলোকউজ্জ্বল রঙিন মঞ্চে আসন নেন তারা। ‘ও আমার দেশের মাটি’ দেশাত্মবোধক দিয়ে শুরু করেন কান্তা আলমগীর। সঙ্গে আবীর আলমগীরের কণ্ঠে বিদ্রোহী কবির ‘বাংলাদেশ’ কবিতা। এভাবে ২৩টি গান ও কবিতা পরিবেশন করেন তারা। আর তাদের এই পরিবেশনা শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়।

কান্তা আলমগীরের গানের তালিকায় ছিল ‘আমি আকাশ হবো, পরদেশী মেঘ-যাও রে ফিরে, সেই যে চলে গেলো, চলতি সময় থমকে দাঁড়ায়, ভালোবাসারই মরশুম, ও যে মানে না মানে না, যেখানে সীমান্ত তোমার, জন্মভূমি মাগো তুমি, শহরে হঠাৎ আলো চলাচল, যেভাবে বাঁচি-বেঁচে তো আছি, আমার মতে তোর মত কেউ নেই, যদি ভালোবাসো আমি মেঘ হবো এবং যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’। এছাড়াও কান্তা পরিবেশন করেন পাঁচটি রাগে নজরুল সঙ্গীতের অংশবিশেষ।
কান্তা আলমগীরের গানে আবীর আলমগীর পাঠ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পাহাড় চূড়ায় ও কেউ কথা রাখেনি, শামসুর রাহমানের তোমার নীরবতার কাছে, রফিক আজাদের প্রতীক্ষা, শহীদ কাদরীর সঙ্গতি, বুদ্ধদেব বসুর চিল্কায় সকাল, নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা উলঙ্গ কিশোর ও তুমি চলে যাচ্ছো, হেলাল হাফিজের প্রস্থান, মহাদেব সাহার তোমাকে ছাড়া এবং আবুল হাসানের চামেলি হাতে নিম্নমানের মানুষ।
অনুষ্ঠানে সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন কি-বোর্ডে তারকাশিল্পী রাজীব রহমান, লিড গিটারে নাঈম, বেজ গিটারে আকাশ আহসান ও অক্টোপ্যাডে তুষার রঞ্জন দত্ত। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী বিউটি দাশ। সাউন্ড ও লাইটে ছিলেন বিডি সাউন্ডের নিবির খান।
উল্লেখ্য, কান্তা আলমগীরের গানের শুরু ছোটবেলা থেকে। নজরুল সঙ্গীতে পারদর্শী হলেও অন্যান্য শাখাতেও তিনি সমান স্বাচ্ছন্দ্য। ১৯৯৯ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ২০০৫ সালে বিয়ে করেন আবীর আলমগীরকে।

নিউইয়র্ক : অনুষ্ঠানে সুধী।

কান্তা আলমগীর লেখাপড়া শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় তিনি আর্কিটেক্ট। এ বিষয়ে ডিগ্রি নিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি কলেজ অব আর্কিটেক্ট থেকে। বর্তমানে তিনি সিটির বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টে কর্মরত।
আবীর আলমগীর ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। অল্প বয়স থেকেই গান, আবৃত্তি, বিতর্ক ও উপস্থিত বক্তৃতায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে মঞ্চ নাটক ও আবৃত্তিতে বেশী সময় দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লেখালেখিও করেন। তার লেখা ক্যাফে হিলসাইড গানটি গেয়েছেন বাপ্পা মজুমদার।
আবীর আলমড়ীর নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক সংগঠন ড্রামা সার্কলের সভাপতি। তিনি উত্তর আমেরিকার একজন নাট্যকর্মী, আবৃত্তিকার, উপস্থাপক, সংগঠক এবং মিডিয়া কর্মী। পড়াশোনা করেছেন কুইন্স বরো কলেজ ও নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে।