‘আমার বেটা লাখে একটাও হয়না রে…’

ঠিকানা অনলাইন : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের এমন নির্মম মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে কুষ্টিয়া জেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে। পরিবার পরিজন থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন, গ্রামবাসীর কান্নায় ভারি হয়ে আছে চারপাশ। ছেলেকে হারিয়ে পাগলের দশা মা রোকেয়া খাতুনের।

৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ফাহাদের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি রায়ডাঙ্গায় পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

ছেলের অকাল মৃত্যুতে আহাজারি করতে করতে ফাহাদের মা বলেন, আমার বেটা লাখে একটাও হয়না রে…। সবার ঘরে বেটা থাকতে পারে, আমার বেটার মতো বেটা ছিল না। আমার বেটা কোনো দিনও জোরে কারো সাথে কথা বলে নাই। কোনো রাজনীতির মিছিলে যায় নাই। যেইখানে রাজনীতির আলাপ করে সেইখানেও যায় নাই। আমার বেটা শুধু লেখাপড়া নিয়াই থাকতো।

ফাহাদের স্মৃতি আওড়াতে আওড়াতে রোকেয়া খাতুন জানান, তার ছেলে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চারটিতেই সুযোগ পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মেধা তালিকায় ১৩ নম্বরে ছিলেন। সরকারের কাছে ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের যথাযথ শাস্তির আর্জি জানান এ মা।

এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
অপরদিকে ছেলের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহও। তার ছেলেকে কয়েকজন পিটিয়ে মেরে ফেলেছে, এটি তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন,‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকেল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছাল, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালাল, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত।’

এদিকে আবরারের চাচা বলেন,‘এ ঘটনায় কোনো নেতার ইন্ধন রয়েছে। কেননা দু-একজন নয়, সেখানে ১৫ জনেরও বেশি ছেলে হত্যায় অংশ নিয়েছে। পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া এতজন কাউকে মারতে পারে না। হাইকমান্ডের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে নিহত আবরার ফাহাদের লাশ কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আবরারকে শেষ দেখা দেখতে সেখানে হাজারও মানুষ জড়ো হন। প্রতিবেশী-স্বজনদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদেরও কাঁদতে দেখা যায়।

সকাল ১০টার দিকে রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে ফাহাদের তৃতীয় ও শেষ জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফাহাদের মরদেহবাহী গাড়িটি কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের বাড়িতে পৌঁছায়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টায় আল হেরা জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গায় নেওয়া হয়।

এদিকে ফাহাদের মৃত্যুতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।