‘আমিই জাতিসংঘে মিয়ানমারের বৈধ দূত’

জান্তাসরকার দ্বারা বরখাস্ত জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত কিয়াও মোয়ে তুন

ঠিকানা অনলাইন : সেনাঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ায় জান্তাসরকার দ্বারা বরখাস্ত কিয়াও মোয়ে তুন নিজেকে জাতিসংঘে মিয়ানমারের বৈধ দূত দাবি করেছেন।

এ দাবি করে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট ভলকান বজকির এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি লিখেছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই চিঠির একটি অনুলিপি রয়টার্সের হাত পড়েছে।

গত শুক্রবার জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও তার দেশে সামরিক অভ্যুত্থানকারীদের থামাতে প্রয়োজনীয় যে কোনো ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি ‍অনুরোধ জানান।

এক আবেগময় বক্তৃতায় কিয়াও বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত কারও সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করা উচিত নয়।

যার প্রতিক্রিয়ায় পরদিনই মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা এক বার্তায় কিয়াওকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয়, তিনি ‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সরকার স্বীকৃত নয় এমন একটি সংগঠনের পক্ষে বলেছেন যারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে না’। তিনি রাষ্ট্রদূতের ‘ক্ষমতা ও দায়িত্বের’ অপব্যবহার করেছেন।

সোমবার বজকির ও ব্লিংকেনকে লেখা চিঠিতে কিয়াও বলেন, ‘‘মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে অবৈধ অভ্যুত্থানের হোতাদের আমার দেশের প্রেসিডেন্টের নিয়োগ দেওয়া বৈধ কর্তৃপক্ষকে প্রত্যাহার করার কোনো অধিকার নেই।

‘‘তাই আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই, আমিই এখনো জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি আছি।”

চিঠিতে তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি গত বছর তাকে জাতিসংঘে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং তারা দুইজনই এখনো বৈধভাবে নির্বাচিত হয়ে নিজ নিজ পদে বহাল আছেন।

এ বিষয়ে জানতে রয়টার্সের থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতার দখল নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করে প্রেসিডেন্ট মিন্ট এবং সু চিকে।

ক্ষমতা দখলের পর সেনাবাহিনী দেশজুড়ে এক বছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। জাতিসংঘ এখনো মিয়ানমারের নতুন জান্তাসরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।

মিয়ানমারের জান্তাবাহিনীও দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে বা জাতিসংঘের দূত প্রত্যাহারের বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

এ বিষয়ে সোমবার জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, ‘নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূত পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বা আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি।”

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও ‘মিয়ানমারের অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করতে’ আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ঠিকানা/এসআর