আমেরিকানদের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ পোহাতে হবে

এম এস হক : প্রাণঘাতী ওমিক্রনের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট ছাড়াও ফ্লু এবং শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের কারণে শিশু-কিশোরসহ সর্ববয়সী আমেরিকানদের এবার দীর্ঘস্থায়ী চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার যুক্তরাষ্ট্রে শীত মৌসুমের আগমন ঘটেছে অনেকটা আগেভাগে এবং পুরো শরৎকাল ও শীত মৌসুমজুড়ে আমেরিকানদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কোভিড-১৯ এর তাণ্ডব ছাড়াও এবারের শীত ও ফ্লু মৌসুম শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং রিনোভাইরাস/এন্টারোভাইরাস (আরভি/ইভি) সাথে নিয়ে আসায় হাজার হাজার শিশু ইতিমধ্যে ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর তাণ্ডবও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি সপ্তাহে পূর্ববর্তী সপ্তাহের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা এবং করোনায় মারা যাওয়া আমেরিকানের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর সঙ্গে অন্যান্য ফ্লু আমেরিকানদের জনজীবনকে শরৎকাল ও শীতকালের গোটা মৌসুমই অতিষ্ঠ করে তুলবে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়বে।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সপ্তাহের ৮০টির স্থলে চলতি সপ্তাহে ৮৩টি কাউন্টি, ডিস্ট্রিক্ট কিংবা টেরিটরী হাই কোভিড-১৯ কমিউনিটি লেভেল; ৭৩০টির স্থলে ৭৪০টি কাউন্টি মিডিয়াম কোভিড-১৯ কমিউনিটি লেভেল এবং ২ হাজার ৩২৪টি কাউন্টি লো কমিউনিটি লেভেল স্তরে রয়েছে। অ্যারিজোনা, ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া, হাওয়াই, নিউ মেক্সিকো, রোড আইল্যান্ড ও ইউটাহর সকল কাউন্টি লো কমিউনিটি লেভেল জুরিসডিকশনে রয়েছে। আর নিউইয়র্ক স্টেটের করোনা পরিস্থিতিরও অধিকতর অবনতির খবর জানিয়েছে স্টেট স্বাস্থ্য বিভাগ। সিডিসির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে করোনার বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে মৃতের হার পূর্ববর্তী সপ্তাহের গড় হারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ৪০০ জন হারে পুরো সপ্তাহে ২৮ শতাধিক আমেরিকান প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিদিন নতুনভাবে করোনায় সাড়ে ৪১ থেকে ৪২ হাজার হারে পুরো সপ্তাহে ২ লাখ ৯৫ হাজার আমেরিকান নতুনভাবে করোনায় আক্রান্ত এবং প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৪৫০ জন হারে কমপক্ষে পুরো সপ্তাহে ২৫ সহস্রাধিক করোনা রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ২২ হাজার করোনা রোগী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
অপর এক পরিসংখ্যান অনুসারে, শুরু থেকে এ পর্যন্ত সমগ্র আমেরিকায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮২.২ শতাংশ বা ২৭ কোটি ৯০ লাখ আমেরিকানকে কমপক্ষে ভ্যাকসিনের একটি ডোজ প্রদান করা হয়েছে। আর পুরোপুরি ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে মোট জনসংখ্যার ৬৮.৯৫ শতাংশ বা ২৩ কোটি ২৪ লাখ আমেরিকানকে। সর্বমোট প্রথম বুস্টার দেওয়া হয়েছে ১৫ কোটি ৩০ লাখ ডোজ। ৫ বছর বয়সী মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশকে প্রথম বুস্টার দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৯২ লাখ ডোজ। আর ৫০ থেকে ঊর্ধ্ব বয়সী মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশকে প্রায় ৩ কোটি ৯ লাখ দ্বিতীয় বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ওমিক্রনের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ শতভাগ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ এর সর্বমোট ৯৯ কোটি ১০ লাখ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
কোভিড ডাটা ট্র্যাকার এবং কোভিড ডাটা ট্র্যাকার উইকলি রিভিউর পরিসংখ্যান অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১১ কোটি আমেরিকান কোভিড-১৯ এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ, হাসপাতালে রোগী ভর্তি এবং করোনায় মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও নতুন বাইভ্যালেন্ট বুস্টার গ্রহণে আমেরিকানরা তেমন আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। ৫ থেকে ঊর্ধ্ব বয়সী সর্বোচ্চ ২ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকান নতুন বাইভ্যালেন্ট বুস্টার গ্রহণ করেছেন, যা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ৮.৪ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি।