আমেরিকান যুবকদের আত্মহত্যার হার ৫০ গুণ বেশি

এম এস হক : আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে কম বয়সীদের আত্মহত্যার প্রবণতা সম্প্রতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাউজ ইকোনমিক কমিটির চেয়ারম্যান নিউইয়র্কের ডেমক্র্যাটিক দলীয় রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যারোলিন মেলনি ক্যাপিটল হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩০ সেপ্টেম্বর বলেন, উন্নত বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর তুলনায় আমেরিকায় ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে আত্মহত্যার হার ৫০ গুণ বেশি। ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রুকলিন থেকে ডেমক্র্যাটিক দলীয় টিকিটে নির্বাচিত রিপ্রেজেনটেটিভ মেলনি আরও বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে আমেরিকাসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আত্মহত্যাকারীদের ৯০ শতাংই হচ্ছে আমেরিকান উঠতি বয়সী যুবক-যুবতী।

আমেরিকায় গান ভায়োলেন্স এবং ম্যাস শুটিংয়ে হাজার হাজার তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া সত্ত্বেও গান রাইটস প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করছেন যে আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এরই প্রতিবাদস্বরূপ রিপ্রেজেনটেটিভ মেলনি আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষতিকর দিকগুলোর ভয়াবহ চিত্র সর্বসম্মুখে তুলে ধরেছেন। মেলনি বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র যদি আমাদের অধিকতর নিরাপত্তা দেয়, তাহলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা সর্বাপেক্ষা নিরাপদ জনগোষ্ঠী। কারণ আমাদের ঘরে ঘরে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে : আমাদের রাশি রাশি আগ্নেয়াস্ত্রের দরকার নেই; দরকার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের।

গান ভায়োলেন্সের বার্ষিক ব্যয় ২২৯ বিলিয়ন ডলার
এদিকে বাহ্যিক চাকচিক্য এবং ঠাঁট বজায় রেখে চললেও বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সমৃদ্ধশালী আমেরিকা কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার দেনার দায়ে জর্জরিত। অর্থনীতিবিশারদদের বর্ণনানুসারে কয়েক হাজার ডলার দেনার বোঝা মাথায় নিয়েই আমেরিকায় প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণ করছে।

অথচ দেনার দায়ে জর্জরিত আমেরিকায় যদি অসংখ্য প্রাণহানি ছাড়াও বার্ষিক ২২৯ বিলিয়ন ডলার গান ভায়োলেন্সের (আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতার) পেছনে ব্যয় হয়, তখন লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে আধুনিক বিশ্ব এবং সভ্য সমাজ কোনোক্রমেই অকারণ প্রাণহানি এবং প্রতিকারবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতাকে মেনে নিতে পারে না। তাই আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় লাগামবিহীন প্রাণহানি এবং ব্যয়কে কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া যায় না।

১ অক্টোবর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেস ইকোনমিক কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদনেই হাজার হাজার অকারণ প্রাণহানির পাশাপাশি বার্ষিক ২২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। শুধু গান ভায়োলেন্সের পেছনে প্রতিটি স্টেটের আর্থিক ব্যয়ের ওপর আলোকসম্পাৎ করেননি। পাশাপাশি নিউইয়র্কসহ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর কঠোর আইন প্রণয়নকারী স্টেটগুলোতে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা সংশ্লিষ্ট প্রাণহানি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও কম বলে উল্লেখ করেন।

প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইভালুয়েশন, দ্য জিফোর্ডস ল সেন্টার টু প্রিভেন্ট গান ভায়োলেন্স এবং দ্য ফেডারেল সেন্টারস ফর ডিজিক কন্ট্রোল এবং প্রিভেনশনের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে মেলনি বলেন, গান ভায়োলেন্সের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বার্ষিক ব্যয় ২২৯ বিলিয়ন ডলার। মেলনি আরও বলেন, এছাড়া স্বাভাবিক আয় এবং নিয়োগকর্তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়। অধিকন্তু হেলথ কেয়ার, পুলিশ এবং ক্রিমিনাল জাস্টিস ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় আশাতীত বৃদ্ধি পায়।

২০০৭ সালে ভার্জিনিয়া টেক ভয়াবহ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর কোনোক্রমে বেঁচে গিয়েছিল গান ভায়োলেন্স অ্যাক্টিভিস্ট লরি হাসের কন্যা। সম্মেলনে অ্যাক্টিভিস্ট হাস বলেন, আমেরিকার অপরাপর স্টেটগুলোর তুলনায় নিউইয়র্ক, হাওয়াই ও ম্যাসাচুসেটসে গান ভায়োলেন্সজনিত প্রাণহানি এবং ব্যয় অনেক অনেক কম।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা বাবদ নিউইয়র্কে বার্ষিক ব্যয় হয় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্টেটের গান ভায়োলেন্স মাথাপিছু সর্বনিম্ন ব্যয়ের তুলনায় নিউইয়র্কের অবস্থান তৃতীয় এবং স্টেটের মোট জিডিপির ০.৩ শতাংশ। আর সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ ৫টি স্টেট হচ্ছে আলাস্কা, মন্টানা, আলাবামা, লুইজিয়ানা ও মিজৌরির রুরাল এরিয়া। এর মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে আলাস্কায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু ম্যাস শুটিংয়ে যে এ ৫টি স্টেটে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে তা নয়, বিভিন্ন অপরাধী চক্রের হাতেও অনেকে প্রাণ হারায়। প্রতিবেদন অনুসার আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে আত্মহত্যাকারী আমেরিকানের সংখ্যাও ঢের বেশি। আলাস্কায় আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় প্রাণহানির ৭০ শতাংশ হচ্ছে গানের সাহায্যে আত্মহত্যা।