আমেরিকায় করোনার ভয়ংকর তাণ্ডব: দেউলিয়া হচ্ছে একের পর এক কোম্পানি

ঠিকানা রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের ভয়ংকর তাণ্ডব এখনো চলছে আমেরিকায়। নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্টেটে করোনার তাণ্ডব কিছুটা কমলেও প্রায় ৩২টি স্টেটে করোনা মহামারি রূপ নিয়েছে। করোনার আঘাতে লন্ডভন্ড কয়েকটি স্টেট। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। থমকে দাঁড়িয়েছে স্বাভাবিক জীবন। আমেরিকার করোনা বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে বলেছেন, আমেরিকায় দৈনিক এক লাখ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি বøাজিও। একসময় গভর্নর ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিউইয়র্ক সিটির রেস্টুরেন্টগুলোতে সীমিত আকারে বসে খাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা। কিন্তু অন্যান্য স্টেটে করোনাভাইরাস লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্কসহ অনেক স্টেট সীমিত আকারে খোলা হলেও আমেরিকার অর্থনীতির চাকা সচল নয়। আমেরিকার অর্থনীতি সচল হতে আরো কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠানেই কর্মচারী ছাঁটাই করা হচ্ছে। যে কারণে আমেরিকান জনগণের বিরাট অংশ বেকার হয়ে পড়েছে। এই কঠিন সময়েই পিৎজা হাট ও উইন্ডিজের মতো বড় ফাস্টফুড কোম্পানি ব্যবসায়িক মন্দার কারণে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করতে যাচ্ছে। অনেক বাঙালি প্রতিষ্ঠানও বন্ধের পথে।
আমেরিকার বড় ফাস্টফুড ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো করোনাকালে ডেলিভারি, টেকআউট করে বিক্রয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। এনপিসি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, আমেরিকায় ১২০০ পিৎজা হাটের অপারেটর ও প্রায় ৪০০ উইন্ডিজ ব্যাংকক্র্যাপ্সির জন্য আবেদন করেছে। অবশ্য পিৎজা হাট ও উইন্ডিজ কয়েক বছর ধরেই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
সিএনএন বিজনেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চ্যাপ্টার ১১ নামে পরিচিত আইনগত দেউলিয়া প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত খাবারের দোকানগুলো সক্রিয় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এতে আমেরিকার ২৭টি স্টেটের বিপুলসংখ্যক লোক কাজ হারাবে। আমেরিকায় পিৎজা হাটের ৭১০০ রেস্তোরাঁ বা দোকান রয়েছে। কিন্তু গত মার্চ মাস থেকে এ রেস্তোরাঁগুলোতে বেচাকেনা এত কমে গেছে যে তাদের পক্ষে আর নতুন করে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত মার্চেই ব্যাংকক্র্যাপ্সির জন্য আবেদন করেছিল নিউইয়র্ক নগরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিন অ্যান্ড ডেলুসা। নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স পার্কস, ব্রাভো ও ব্রায়ো রেস্টুরেন্ট চেইনের প্যারেন্ট কোম্পানি ফুডফার্স্ট গ্লোবাল হোল্ডিংস, কাপড়ের ব্র্যান্ড টরু রিলিজিয়ন অ্যাপারেল, চেইন মুভি থিয়েটার সিএমএক্স সিনেমাস, রুবি’স কস্টিউম কোম্পানি, সাত শতাধিক জিমের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান গোল্ড’স জিম, শত বছরের পুরোনো ডিপার্টমেন্ট স্টোর নাইম্যান মার্কাস, স্টেজ স্টোরস, হার্টজ করপোরেশনসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এ আবেদন করেছে। এ তালিকায় রয়েছে চাকি ই চিজের মূল সংস্থা, জিএনসি, টোয়েন্টি ফোর ফিটনেস, জে ক্রুর মতো প্রতিষ্ঠানও।