আমেরিকায় যেভাবে শুরু স্কুল হত্যাকাণ্ড

ঠিকানা ডেস্ক: আমেরিকায় স্কুল হত্যাকাণ্ডের শুরুর ইতিহাস হয়ত বা অনেকেরই জানা নেই। আমেরিকাতে স্কুল শ্যুটিংয়ের বিষাদময় যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে ১৮৫৩ সালে। কেন্টাকীর লুইসভিলের একটি হাই স্কুলেই ম্যাথৌজ এফ ওয়ার্ড নামক এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক উইলিয়াম বার্টলারকে খুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বপ্রথম স্কুল শ্যুটিংয়ের পথযাত্রা শুরু করেছিল।

এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডস্থ ডগলাস হাই স্কুলে কুখ্যাত খুনী নিকোলাস ক্রুজের নির্বিচার গুলি বর্ষণে ১৭ জনের প্রাণহানি এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে হামলার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং নিহতদের স্বজনদের উদ্যোগে আমেরিকার সকল টাউন ও সিটিসহ সারা বিশ্বের বড় বড় নগর-নগরীতে আয়োজিত হয়েছিল মার্চ ফর লাইফ ( জীবনের জন্য মিছিল)।

মিছিলে বন্দুক ক্রেতাদের অতীত ইতিহাস যাচাই-বাছাই, আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির উপর কঠোরতা আরোপ এবং সামরিক ও অ্যাসল্ট আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণের নিকট বিক্রি না করার দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। আমেরিকাতে স্কুল শ্যুটিংয়ের বিষাদময় যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে ১৮৫৩ সালে। কেন্টাকীর লুইসভিলের একটি হাই স্কুলেই ম্যাথৌজ এফ ওয়ার্ড নামক এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক উইলিয়াম বার্টলারকে খুন করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বপ্রথম স্কুল শ্যুটিংয়ের পথযাত্রা শুরু করেছিল।

কেন্টাকীর ইয়াঙ্কি অভিবাসী ২৮ বছর বয়স্ক বার্টলার লুইসভিলে একটি আদর্শ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। উন্নত মানের শিক্ষাদান, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে অল্পদিনের মধ্যেই বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার পরপরই বার্টলারের স্কুলের সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং শহরের নামী-দামী ও শিক্ষানুরাগী পরিবারের ছাত্রÑছাত্রীরা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। শহরের ঐশ্বর্যশালী ব্যবসায়ীর পুত্র উইলিয়াম ওয়ার্ডও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।

একদিন ওয়ার্ড শ্রেণীকক্ষে চেস্টনাট খেতে গেলে শিক্ষক বার্টলার তাকে নিষেধ করেন এবং ওয়ার্ড নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় বার্টলার তাকে প্রহার করেছিলেন। লক্ষ্যণীয়, তৎকালীন বিশ্বে শিক্ষণের ক্ষেত্রে রাস্কেলের- স্পেয়ার দ্য রড স্পয়েল দ্য চাইল্ড শীর্ষক নীতিকথাটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হত।

স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর ওয়ার্ড বেত্রাঘাতের কথা তার বড় ভাই ম্যাথৌজ এফ ওয়ার্ডকে জানায়। ম্যাথৌজ মনে মনে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় এবং বাজারে গিয়ে ২টি ছোট পিস্তল খরিদ করে। পরদিন মেজ ভাই বব ও শিক্ষার্থী ওয়ার্ডকে নিয়ে মেথৌজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। বার্টলার তাদেরকে স্বাগত জানান। মেথৌজ রাগতস্বরে ওয়ার্ডকে বেত্রাঘাতের কারণ বার্টলারের নিকট জানতে চায় এবং তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি বেধে যায়।

এ সময় মেথৌজ বার্টলারকে গুলি করে অন্যান্যদের নিয়ে স্কুল ভবন ত্যাগ করে। তখন চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার তেমন অগ্রগতি সাধিত হয়নি। অগত্যা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা গুলিবিদ্ধ বার্টলারকে তার গৃহে নিয়ে যায়। এর কয়েক দিন পর বার্টলার মারা যান এবং মেথৌজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়। মূলত এটি ছিল জাতীয় জীবনে সোস্যাল অর্ডার বা সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অকল্পনীয় নিদর্শন।

এরপর পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের হামলা বাড়তে থাকে। আর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে গোটা জাতি বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, তখন আমেরিকায় চলছিল সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর কার্যকাল। তখনকার সামাজিক অবস্থার পটভ’মিতে বন্দুকের মালিকানার দাবিও জোরদার হয়। অবশ্য তখন পশু-পাখি শিকার এবং বন্য জন্তুর উপদ্রব থেকে ফসল রক্ষার তাগিদে খামার মালিকরা আগ্নেয়াস্ত্র খরিদ করতেন। অবশ্য যুগের চাহিদার সাথে মানুষের রুচিবোধ, মনুষ্যত্ব ও ধ্যানধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত হয়। অ্যাসল্ট রাইফেল এবং সামরিক বাহিনীর ব্যবহার্য আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা বিদ্যালয়ে মানুখ খুনের মহড়া সূচনা করেছে।