আলোচনায় জোবায়দা

রাজনীতি ডেস্ক : ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর হলেও এখন রাজনীতিতে প্রধান আলোচনার বিষয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এ রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে বিএনপি। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, এরই মধ্যে সেসব বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। গত ২৭ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর গত ২৮ জানুয়ারি জোট নেতাদের সঙ্গে বসেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের সাংগঠনিক কর্মকৌশল চূড়ান্ত করার আগে নির্বাহী কমিটিরও মতামত নিতে চান দলটির চেয়ারপারসন। এ জন্য আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের পাশাপাশি বিকল্প নেতৃত্ব নিয়েও ভেবে রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের সাজা হওয়ায় বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমানের নাম আলোচনায় আসছে বলেও জানা গেছে।
দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা ও নেতৃত্বের কৃত্রিম শূন্যতা সৃষ্টি করে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে বিএনপির মধ্যে ভাঙন তৈরি করাই হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য। মূলত এ কারণেই তড়িঘড়ি করে মামলার কাজ শেষ করে রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সেজন্য বিএনপি সবদিক থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগোবে। আইনিভাবে মোকাবেলার পাশাপাশি আন্দোলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হবে। পাশাপাশি দল কিভাবে চলবে, সেসব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রে চেয়ারপারসনের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বসংক্রান্ত (গ)(২)(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’
সূত্র মতে, চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন, রায় বা জেল নিয়ে মোটেও বিচলিত নন বিএনপি চেয়ারপারসন। নেতাকর্মীদের বিচলিত না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলেও ঘনিষ্ঠজনদের আশ্বস্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে নেতৃত্ব নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলেননি বলেও জানান তারা। জেল হলে পরবর্তী করণীয় নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিজেই আলোচনা করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে কিংবা দল ভাঙার ষড়যন্ত্র করলে কোনো ছাড় নয় বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন খালেদা জিয়া।
এ দিকে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে লন্ডন থেকেই দলের দিকনির্দেশনা দেবেন তারেক রহমান। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়সহ তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে তিনি সেখান থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ করে দিকনির্দেশনা দেবেন বলেও জানায় সূত্রটি।
অন্য দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই মনে করেন, লন্ডন থেকে ওভার ফোনে দল চালানো খুব সহজ হবে না। সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা ও দল ভাঙার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখবে। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও সরকারের ষড়যন্ত্র করার জন্য নেতার উপস্থিতি অনেক বেশি প্রয়োজন হয়ে দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান দেশে আসতে না পারলেও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে দেশে পাঠিয়ে সাময়িকভাবে তার নেতৃত্বে দল পরিচালনা করা যেতে পারে। ক্লিন ইমেজ থাকা ডা. জোবায়দা রহমানও দলের হাল শক্তভাবে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ভেতরে ভেতরে অনেক সিনিয়র নেতার এ মনোভাব থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে নারাজ।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, ডা. জোবায়দা রহমানের নেতৃত্বের বিষয়টি সময়ে আলোচনায় আসতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও প্রি-ম্যাচিউট। আলোচনার আগে ডা. জোবায়দা রহমানের রাজনীতিতে আগ্রহ আছে কি না, সেটা প্রথমে দেখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বিকল্প নেতৃত্বের কোনো প্রয়োজন দেখছেন না বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ১/১১ সময় বিএনপি নেত্রী জেল থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাই বিকল্প নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখছি না।