আসন্ন নির্বাচন একাত্তরের অসমাপ্ত স্বাধীনতাযুদ্ধেরই অংশ

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

মাত্র গত ২৬ মার্চই আমরা স্বাধীনতার ৪৮তম দিবস উদযাপন করেছি। ঠিক এই সময় যদি বলা হয় আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, বরং যুদ্ধরত অবস্থাতেই আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করে আসছি, তাহলে অনেকে হয়তো চমকে উঠবেন। এই সত্যটির দিকে প্রথম আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, ‘আনফিনিশড রেভল্যুশন’ বা ‘অসমাপ্ত বিপ্লব’ নামক গ্রন্থে মার্কিন সাংবাদিক লরেন্স লিফসুজ।

এই সত্যটির দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়ার আনন্দে আমরা তখন তার গুরুত্ব উপলব্ধি করিনি। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে আসার পর এক দিন পুরনো গণভবনের চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে বসেছেন, তখন সাংবাদিক মরহুম গিয়াস কামাল তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বঙ্গবন্ধু, আপনি ৭ই মার্চের ভাষণে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বললেই তো স্বাধীনতার ঘোষণাটি হয়ে যেত। সেই সঙ্গে মুক্তির সংগ্রাম কথাটি কেন লাগিয়েছিলেন?

বঙ্গবন্ধু জবাব দিয়েছিলেন, স্বাধীনতা তো আমরা ১৯৪৭ সালেও পেয়েছিলাম। তা কি জনগণের মুক্তি এনেছিল? সেটি ছিল শাসক বদল। ব্রিটিশ শাসকদের বদলে পাঞ্জাবি শাসকেরা আমাদের ঘাড়ে এসে বসেছিল। এবারের স্বাধীনতাতেও পাঞ্জাবিদের বদলে দেশি শাসক ও শোষকেরা যে এসে ঘাড়ে চাপবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? সে জন্যই বিদেশিদের তাড়িয়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি, তার আনন্দে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। জনগণের প্রকৃত মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সে জন্য প্রথম বিপ্লব একটু স্থিতিশীল হলেই আমাকে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিতে হবে। সেই বিপ্লব সফল করা হবে আরো দুঃসাধ্য।

লরেন্স লিফসুজ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে বিপ্লব আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু বলেছেন, অসমাপ্ত বিপ্লব। কারণ এই বিপ্লবে বিদেশি শাসকদের তাড়ানো গেছে। আওয়ামী লীগও সরকার গঠন করেছে। কিন্তু দেশি কায়েমি স্বার্থ ও ঔপনিবেশিক চরিত্রের সামরিক ও অসামরিক আমলাতন্ত্রের ভিত্তি রয়ে গেছে অটুট। ব্রিটিশ বাম চিন্তাবিদ জ্যাক ওয়াদিস এ সময় লন্ডনে বসে লিখেছিলেন, ‘অধিসর খবধমঁব যধং পড়সব ঃড় ড়ভভরপব, নঁঃ হড়ঃ রহ ঃযব ঢ়ড়বিৎ’ অর্থ ‘আওয়ামী লীগ অফিস-আদালতে বসেছে; কিন্তু ক্ষমতায় বসতে পারেনি।’

তাহলে স্বাধীন রাষ্ট্রের আসল ক্ষমতা (ঢ়ড়বিৎ) গেল কাদের হাতে? জ্যাক ওয়াদিস এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন তাঁর লেখায়। বলেছেন, ‘ক্ষমতা রয়ে গেছে দু-দুটি বিদেশি শাসনামলে (ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি) তৈরি এবং তাদের মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত সিভিল-মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির অক্ষশক্তির হাতে। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী রাজনীতি সম্মুখ সমরে পরাজিত হয়েছে। এটি মিলিটারি ডিফিট, পলিটিক্যাল ডিফিট নয়। এই পরাজিত শক্তির সঙ্গে আছে আইয়ুবের আমলে ডিকেড অব ডেভেলপমেন্টের ব্যাপক দুর্নীতি ও অসাধুতা দ্বারা গড়ে ওঠা চরিত্রহীন নব্য ধনীর দল।’

জ্যাক ওয়াদিসের মতে, এই বাঙালি নব্য ধনীর দল শেখ মুজিবকে তাঁর স্বাধীনতাযুদ্ধে সমর্থন দিয়েছে পাকিস্তানের বিগ বিজনেসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে তাদের অবাধ লুণ্ঠনের বাজারে পরিণত করার জন্য। এখন শেখ মুজিবের সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের রাজনীতি ও অর্থনীতি তাদের অবাধ লুটের বাজার তৈরি করার পথে যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে শেখ মুজিবকেও ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ অথবা হত্যা করতে তারা দ্বিধা করবে না।

১৯৭৫ সালে প্রমাণিত হয়েছে, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করতে এই অক্ষশক্তি দ্বিধা করেনি। তাদের সহযোগী হয়েছে একাত্তরের পরাজিত সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী চক্র এবং একটি পশ্চাদমুখী সমাজের কায়েমি স্বার্থ। স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি তখনো সংগঠিত নয়। কিন্তু গণশত্রুদের শিবির দ্রুত সংগঠিত হয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বহিঃশক্তিরও সহায়তা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু দেশে পরিস্থিতির এই মোড় ফেরা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোটনিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলনে তাঁকে এ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো, তানজানিয়ার জুলিয়াস নায়ারে, এমনকি ভারতের ইন্দিরা গান্ধীও।

দেশে একটি প্রতিবিপ্লবী অভ্যুত্থান রোখার জন্য তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা ও আমলাতন্ত্রের বদলে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। আমাদের বর্তমান একটি সুধীসমাজের অতি প্রিয় পশ্চিমা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের বদলে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু তত দিনে আওয়ামী লীগের ভেতরেও প্রতিক্রিয়াশীল ডানপন্থীরা শক্তিশালী জোট গঠন করে ফেলেছে। তাদের সহায়তায় পাকিস্তানের কায়দায় গঠিত ‘মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি অ্যালায়েন্স’ বঙ্গবন্ধুর সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে। ক্ষমতা দখল করে আসলে একাত্তরের পরাজিত শক্তি।

ফলে একাত্তরের জাতীয় বিপ্লব রয়ে গেল অসমাপ্ত। স্বাধীনতা রয়ে গেল খ-িত। অনেকের মতে, ১৯৭৫ সালের পর থেকে আমরা যে স্বাধীনতা দিবস সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসনামলে পালন করেছি, তা খ-িত স্বাধীনতা দিবস। একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা ক্ষমতায় থাকার স্বার্থে এই দিবসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। সে জন্য চেষ্টা করেছে তার চরিত্র ও রঙ বদলের। একই উদ্দেশ্যে তারা এক খলনায়ককে স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর জন্যও অসত্য প্রচার অভিযান চালিয়েছে। স্বাধীনতার ইতিহাস-বিকৃতির কাজেও পিছপা হয়নি। এর পেছনে ছিল পরাজিত পাকিস্তান ও তার মিত্র দেশগুলোর মদদও।

আজ একটু খোলামেলাভাবেই লিখি, একাত্তরের এই পরাজিত শক্তির রাজনৈতিক ফ্রন্ট হচ্ছে বিএনপি। এই ফ্রন্টে এসে ধীরে ধীরে যোগ দিয়েছে মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম, জামায়াত, ভেঙে পড়া ভাসানী ন্যাপ প্রভৃতি। ভাসানী ন্যাপের একমাত্র মওলানা ভাসানী ছাড়া অন্য নেতারা যেমন মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আনোয়ার জাহিদরা মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদারদের কোলাবরেটর ছিলেন।

স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পোলারাইজেশনটা ঘটে দুই ভাবে। এক দিকে অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাযুদ্ধের শরিক দলগুলো এবং অন্য দিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধী সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো। স্বাধীনতাযুদ্ধের সমর্থক কিছু বিভ্রান্ত রাজনৈতিক নেতাও স্বার্থ ও সুবিধার লোভে এই দ্বিতীয় ফ্রন্টে গিয়ে জোটেন।

ফলে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর যে যুদ্ধ শুরু হয় তা কোনো দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, যেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে ব্রিটেনে টোরি ও লেবার পার্টির এবং আমেরিকায় ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে। তাদের ভেতর জাতীয় নীতিতে ঐকমত্য আছে। বিরোধ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের মধ্যে জাতীয় নীতিতে কোনো ঐকমত্য নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও নয়। আওয়ামী জোট সেক্যুলার। এই জোটে অনেক ত্রুটিবিচ্যুতি আছে। কিন্তু তারা স্বাধীনতার আদর্শগুলো রক্ষায় যতœবান। অন্য দিকে বিএনপি জোট স্বাধীনতার কোনো আদর্শে বিশ্বাসী নয়। সেগুলো ভাঙায় যতœবান। চরিত্রে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী হওয়ায় বিএনপি জোট পাকিস্তানের অনুরাগী এবং বাংলাদেশটাকেও পাকিস্তানি মদদে ও পাকিস্তানি আদলে গড়ে তুলতে চায়।

বিএনপি জোট (জামায়াতসহ) যে গণতন্ত্র চায়, তা পাকিস্তানি স্টাইলের গণতন্ত্র। তাদের জাতীয়তাবাদও পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ। তাই ক্ষমতায় বসে তারা প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ভিত্তি বাঙালি জাতীয়তাবাদের বদলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রচলনের চেষ্টা করে। জাতির পিতাকে অস্বীকার করে। মুক্তিযুদ্ধের জয়ধ্বনি জয় বাংলার বদলে পাকিস্তানের জিন্দাবাদ স্লোগান প্রবর্তন করে। মুক্তিযুদ্ধের মিত্র দেশগুলোকে শত্রু বানিয়ে শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে আঁতাত তৈরি করে।

এককথায় বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের পর শুরু হয় পাকিস্তানপন্থী ও স্বাধীনতাপন্থীদের মধ্যে লড়াই। পাকিস্তান রণক্ষেত্রে পরাজিত হয়ে বাংলা ছাড়তে বাধ্য হয় বটে; কিন্তু থেকে যায় তাদের দেশীয় অনুসারীরা। তারা পাকিস্তানের হয়ে এ লড়াই এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। কখনো সন্ত্রাসের মাধ্যমে, কখনো নির্বাচনের মাধ্যমে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জার্মানির ফ্যাসিবাদী নাৎসি দলও নির্বাচনে জয়ী হয়েই ক্ষমতা দখল করেছিল। এরপর তারা কী করেছে, তা এখন ইতিহাস।

বাংলাদেশে বিএনপিও তাদের নেতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গণতান্ত্রিক দলের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় বসে। এরপর শুরু হয় পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের নীলনকশা অনুসরণ করে দেশের স্বাধীনতার মূল আদর্শগুলোকে ধ্বংস করার অভিযান। বিএনপির শাসনামলে পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনেরও গোপন অপচেষ্টা শুরু হয়েছিল। একাত্তরের এই পরাজিত শক্তিকে শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে হটানো গিয়েছিল তা নয়। তাকে হটানোর জন্য ১৯৯৬ সালে একটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হয়েছে। ২০০১ সালে আবার এই চক্রের হিংস্র থাবায় নিপীড়িত হয়েছে অসংখ্য নর-নারী, বিশেষ করে আওয়ামী সমর্থক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নারীসমাজ।

বাংলাদেশের রাজনীতি তাই এখন পর্যন্ত দুটি দল বা জোটের মধ্যে যে বিরোধ তা একটি গণতান্ত্রিক দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, তা গৃহযুদ্ধ। এক দিকে স্বাধীনতার পক্ষের জোট, অন্য দিকে তার শত্রুপক্ষের জোট। এই দ্বিতীয় জোট জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা না দেখলে নানা অজুহাতে নির্বাচনে আসতে চায় না; রাজপথে নেমে মানুষ হত্যার অভিযান চালায়। এটি গৃহযুদ্ধ ছাড়া আর কী হতে পারে?

আর এই গৃহযুদ্ধ তো একাত্তরের যুদ্ধ যে অসমাপ্ত রয়ে গেছে তারই প্রমাণ। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে এখন লড়াই চালাচ্ছে পাকিস্তানের বদলে দেশের পাকিস্তানপন্থীরা। তারা কখনো সামরিক অভ্যুত্থান, কখনো রাজনৈতিক চক্রান্ত, কখনো সন্ত্রাস এবং কখনো নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতা দখল করা ও দখলে রাখার চেষ্টা চালায়। ক্ষমতায় গেলে তাদের আসল চেহারা দেখা যায়।

এ জন্যই এ বছরের আসন্ন সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে দেশের মানুষ ভীত। বিএনপি জোট জয়ী হলে আশ্রিত জামায়াতের সঙ্গে মিলে দেশে কী ভয়াবহ প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করবে, রক্তের বন্যা বইবে, তা ভেবে সচেতন মানুষ মাত্রই শঙ্কিত। কিন্তু শঙ্কিত নয় আমাদের একটি তথাকথিত সুধীসমাজ। তারা আওয়ামী লীগ জোট ও বিএনপি জোটকে একই কাতারে রেখে দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি তোলার নামে প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপি জোটের পক্ষাবলম্বন করেছে।

এই নির্বাচনে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় এলেও তাদের আপত্তি নেই। এতে যদি দেশের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়, তাতেও সম্ভবত তাদের আপত্তি থাকবে না। কারণ তাদের শৌখিন গণতন্ত্র তো বহাল রইল। কিন্তু এই নির্বাচনী লড়াইও যে দুটি গণতান্ত্রিক দলের মধ্যে স্বাভাবিক নির্বাচনযুদ্ধ নয়, বরং একাত্তরের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধেরই পরিবর্তিত ও প্রলম্বিত অংশ, এই সত্যটি তারা বুঝেও না বোঝার ভান করছে।

পঁচাত্তর-পরবর্তী দেশের রাজনীতিতে পক্ষ-অপক্ষ বিচারের কোনো সুযোগ নেই। সেই সুযোগ আসবে যখন দেশের অসাম্প্রদায়িক ও স্বাধীন অস্তিত্ব নিরাপদ হবে এবং নির্বাচনী লড়াই হবে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গণতান্ত্রিক দলের মধ্যে। সেক্যুলারিজম ও ফান্ডামেন্টালিজমের মধ্যে গৃহযুদ্ধকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের একটি মুখোশ পরালেও এটি যে একাত্তরের অসমাপ্ত যুদ্ধের প্রলম্বিত অংশ এবং এই যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে জয়ী হতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র যে টিকবে না, সুশাসন প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা এই সত্যটি আমাদের মনে রাখা উচিত। বর্তমান বছরের সাধারণ নির্বাচনটিও একাত্তরের অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধেরই প্রলম্বিত ও পরিবর্তিত অংশ। এই যুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তির পরাজিত হওয়া চলবে না।