আড়াই বছরের শিশু আসামি বাদী কারাগারে

জামালপুর : বকশীগঞ্জ উপজেলার জমির দলিলসংক্রান্ত বিরোধের এক মামলায় আড়াই বছরের শিশু আরিফকে আসামি করায় জামালপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ওই মামলাটির বাদী আবুল হানিফকে তাৎক্ষণিক আটকাদেশ দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। জামালপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এ আদেশ দেন। ওই মামলার অন্য ছয়জন আসামি জামিন পেয়েছেন। আর শিশু আরিফকে তার মায়ের হেফাজতে থাকার আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা জজ আদালতে বেশ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হইচই পড়ে যায়। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বেপারিপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হানিফ ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় প্রতিবেশী ছোহরাব আলী ও তার স্বজনদের কাছ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ জমি ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দানপত্র দলিল করে নেন। পরে ওই জমির দখল বুঝে না পেয়ে আব্দুল হানিফ বাদী হয়ে ছোহরাব আলীসহ সাতজনকে আসামি করে জামালপুর জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। মামলাটির আসামিরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত গত ১৯ ফেব্রুয়ারি জামিনের শুনানির দিন ধার্য করেন। মামলাটির আসামিরা হলেনÑ ছোহরাব আলী, আহাম্মদ আলী, শাহামউদ্দিন, টালী বেপারী, জয়নাল আবেদিন, ফজলুল হক ও আরিফ। মামলার আরজিতে সাত নম্বর আসামি আরিফের নামের পাশে বয়স উল্লেখ নেই। বাকি আসামিদের বয়স উল্লেখ আছে এবং তাদের বয়স ৩০ বছর থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে। ওই মামলায় কোনো নারী আসামিও নেই। আরিফের বর্তমান বয়স মাত্র আড়াই বছর। আদালত সূত্রে জানা যায়, ওই মামলার আসামিদের জামিনের শুনানির ধার্য দিন গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শুনানির সময় মামলার সাতজন আসামির মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ছয়জন এবং শিশু বয়সের আসামি আরিফকে কোলে নিয়ে তার মা বিধবা রবিরন এজলাসে হাজির হন। এ সময় আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান ছয়জন আসামি দেখে আরেকজন আসামি কোথায় জানতে চান। ওই মামলার কোন নারী আসামিও নেই। এজলাসে হাজির বিধবা রবিরন আড়াই বছরের তার ছেলে শিশু আরিফকে দেখিয়ে আদালতকে জানান, তার এই কোলের শিশুটিই মামলার সাত নম্বর আসামি। আসামি পক্ষের আইনজীবীরাও আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেন। কোলের শিশুকে মামলার আসামি করায় এ সময় আদালতের বিচারক ওয়াহিদুজ্জামান বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মামলার বাদী আব্দুল হানিফের বিরুদ্ধে আটকাদেশ জারি করেন।