ইউএসসিআইএসের বাজেট সংকট: রিওপেনিংয়ে ছাঁটাই হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী

ঠিকানা রিপোর্ট : অর্থের অভাবে ইউএসসি-আইএস তাদের জনবল কমাতে পারে। জনবল কমলে ইমিগ্রেশন অফিসের কর্মকাণ্ডে আগের তুলনায় গতি কমতে পারে। ফলে বিভিন্ন মামলার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পিছিয়ে যেতে পারে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ। এতে আবেদনকারীদের অনেকেই জটিলতার মধ্যে পড়তে পারেন। যদিও ইউএসসিআইএস তাদের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কাজের গতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে জনবল ধরে রাখার প্রচেষ্টাও চলছে। এজন্য কংগ্রেস ও সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তাও চেয়েছে। কিন্তু তা মিলবে কি না, সেটা নিশ্চিত নয়। ইউএসসিআইএসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অর্থসংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তাদের ১.২ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রয়োজন। তা না হলে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে করোনায় লকডাউনের কারণে ইউএসসিআইএসে আবেদন জমা পড়ার সংখ্যা কমেছে। সে কারণে ফিও জমা পড়েছে কম। ফলে আয়ও হয়েছে কম। মার্চ থেকে আয় কমতে শুরু করেছে। এখনো তা অব্যাহত আছে। ২০২০ অর্থবছরের মার্চ থেকে জুনÑএই চার মাসের আয় কমার বিষয়টি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করবে।
অন্যদিকে নিউইয়র্কে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস খুলতে শুরু করেছে। দ্বিতীয় ধাপে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খুলেছে। তৃতীয় ধাপ শুরু হচ্ছে ৬ জুলাই। এই সময়ে আরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস খুলবে। অফিস খুললেই যে অফিসের কর্মীরা ফিরে আসতে পারবেন ও স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। প্যান্ডামিকের সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের অর্থসংকটে রয়েছে। পিপিপি, ইমার্জেন্সি ডিজাস্টার লোন, এসবিএ লোনসহ করোনার কারণে সরকার যেসব লোন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান সেসব লোন নিচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনের তুলনায় লোন পাচ্ছে বেশি কেউবা কম। যারা কম লোন পাচ্ছে, তাদের পক্ষে লোন নিয়েও অফিস পরিচালনা করা ও সব জনবল ফেরত আনা সম্ভব হবে না। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান লোন পেয়েও ফেরত দিচ্ছে। তবুও নতুন করে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলছে, তারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে কবে নাগাদ এসব প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি খুলবে, আবার খুললেও আগের লোকবল ধরে রাখতে পারবে কি না কিংবা নতুন লোক নিয়োগ দিয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে কি না, তা তারাও জানে না। এদিকে চাকরিহারা মানুষ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন কবে নাগাদ চাকরিতে ফিরে যেতে পারবেন।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে যারা চাকরিতে আছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। কেবল নিউইয়র্ক সিটি নয়, বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানও তাদের ব্যবসার পরিসর গুটিয়ে আনছে। ফলে তাদেরকে জনবল কমাতে হচ্ছে। তাই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে নিউইয়র্কের মেয়র বলেছেন, একান্ত নিরুপায় হয়ে এ কাজটি তাদের করতে হচ্ছে। মেয়র নগরের অবকাঠামোগত ব্যয় কমিয়ে আনতে চাইছেন। অর্থাভাবের কারণে সিটি জবে কর্মরত ২২ হাজার কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে। প্যান্ডামিকের কারণে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেটের আয় কমেছে। এ কারণে অনেক কর্মকাণ্ডও সীমিত করে দিতে হচ্ছে। নিউইয়র্ক নগরী বিশ্বের বাণিজ্যনগরী হলেও সেটা এখন চরম অর্থসংকটে রয়েছে। প্রতিবছর যেখানে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট ফেডারেল সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দেয়, সেখানে এই প্যান্ডামিকের কারণে রাজস্ব কমে যাওয়ায় নিউইয়র্ককে অর্থসংকটে পড়তে হয়েছে। নিউইয়র্কের অবস্থা আগামী কত মাস কিংবা বছরের মধ্যে স্বাভাবিক হবে, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। মেয়র মনে করছেন, আগের অর্থনৈতিক অবস্থায় ফিরে যেতে চার বছর সময় লাগতে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস না খুললে এবং আগের অবস্থায় না গেলে ট্যাক্সও সেভাবে আদায় হবে না। মানুষ কাজে ফিরতে না পারলে তাদের পক্ষে ট্যাক্স দেওয়া সম্ভব হবে না। ট্যাক্স না পেলে নিউইয়র্কের আয়ও বাড়বে না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরো কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।
এদিকে বড় বড় চেইন শপগুলোও তাদের পরিসর ছোট করে আনছে। অনেক স্টোর একাধিক শাখা বন্ধ করে দিচ্ছে। ফলে কমাচ্ছে জনবল। একটি সূত্র জানিয়েছে, মেসি কাস্টমারের অভাবে ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাদের লোকবল কমাতে শুরু করেছে। সাড়ে তিন হাজার কর্মী তারা বাদ দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিউইয়র্কে ইতিমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে, তারা পুরোনো সব স্টাফকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। বাধ্য হয়ে মালিকদের অনেক কর্মীকে ছাঁটাই করতে হয়েছে। কারো কারো ডে কাট কিংবা ঘণ্টা কাট করতে হয়েছে। এর পরও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না মালিকরা। নিউইয়র্কে করোনার গ্রাস সাময়িকভাবে কমলেও রিওপেন করার পর কী অবস্থা দাঁড়াবে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। রিওপেনিং শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ তেমন একটা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। কিছুু কিছু এলাকায়, বিশেষ করে জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকার মানুষজন রাস্তায় বেশি দেখা গেলও ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রোসারি শপ ও রেস্টুরেন্ট ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে তেমন ব্যবসা নেই। অনেক রেস্টুরেন্ট বাইরে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে ডেলিভারি সার্ভিস ও টেকআউট চালু রয়েছে। ৬ জুলাইয়ের পর কাস্টমারদের বসে খাওয়ার ব্যাপারে তারা নতুন করে চিন্তা করবে।