ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে বেনিফিট কর্তনের ব্যবস্থা

কাজী ইবনে শাকুর : যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালানোর জন্য ফেডারেল এজেন্সি তার নিজেদের কেস ওয়ার্কারদের কাজের তদারকি আরও জোরদার করেছে। এজেন্সি এ জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ডিভিশনও সৃষ্টি করছে। এ ডিভিশন পর্যবেক্ষণ করবে- কোনো কেস ওয়ার্কার গ্রিনকার্ড বা সিটিজেনশিপের জন্য আবেদনকারীদের প্রতি অতিশয় নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গী নিচ্ছে কিনা।

গত ১৬ মার্চ শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টে এ নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ ইমিগ্র্যান্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যারা কোন ইমিগ্রেশন বেনিফিটের জন্য আবেদন করবেন, তাদের বিষয়ে আরও অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।

এই নতুন ওভারসাইট ডিভিশনের পরিকল্পনা ১৯ হাজার কর্মী ও কন্ট্রাক্টরদের, যারা ইউএস সিটিজেনশিপ ও ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএইসসিআইএস)-এর কাজ করেন তাদের অধিকাংশকে জানানো হয়। কিন্তু এজেন্সি নিরবে স্টাফদের নতুন করে এসাইনমেন্ট দিচ্ছে। কীভাবে তা করা হচ্ছে, তা নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বর্ণনা করেছেন।

ইউএসসিআইএস এবং তার পরিচালক এল ফ্রান্সিস সিসনা ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ ইমিগ্রেশন কমানোর প্রয়াসের মধ্যখানে রয়েছেন। তারা পরিবার একত্রীকরণের বিরুদ্ধে। হোয়াইট হাউজ তাকে চেইন মাইগ্রেশন বলে থাকে। বিগত ৫০ বছর ধরে এই পরিবার একত্রীকরণ ইউএস ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় মূলভিত্তি ছিল।

প্রাপ্ত সার্কুলার অনুযায়ী ইউএসসিআইএস অর্গানাইজেশন অব প্রফেশনাল রেসপনসিবিলিটি নামে একটি ওভারসাইট কমিটি গঠন করবে। এ কমিটি, এজেন্সি যে প্রতিদিন ২৬ হাজার মামলারও বেশি মামলা দেখাশুনা করে, তা তদারকি করবে। অফিসে থাকবে তিনটি ডিভিশন। তারমধ্যে একটি হচ্ছে তদন্ত বিভাগ। এ তদন্ত বিভাগ ফ্রড, বর্জনীয়, অসৎ ও অপব্যবহারমূলক ইউএসসিআইএস কর্মীর কাজ তদন্ত করে এজেন্সির কাজ ব্যবস্থাপনার সহায়ক হবে।

এই পরিকল্পনায় মন্টাকে ওয়াকিবহাল কর্মকর্তারা জানায়, অভ্যন্তরীণভাবে এ ব্যবস্থাকে কর্মকর্তাদের উপর উৎপীড়নের মত মনে করা হচ্ছে। কারণ, তাতে যেসব কর্মকর্তা গ্রিনকার্ড বা সিটিজেনশিপের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে, যেমন মিসডিমিনার অপরাধে অভিযুক্ততা এবং সরকারি সাহায্য, যেমন ওয়েলফেয়ার পেমেন্ট নিয়েছে এমন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আবেদন পেশে কোন ডিমেরিট আছে কিনা, তা যাচাই করবে। অভ্যন্তরীণ ওভারসাইট অফিসের পরিকল্পনা নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি বলে ইউসিআইএস কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইউএসসিআইএস মুখপাত্র জোনাইন উইয়িংটন এ ধরনের ওভারসাইট ডিভিশন সৃষ্টির কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি যা বলেন তা হলো- এ কার্যালয়ের ভূমিকা হচ্ছে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা। অন্যান্য ফেডারেল এজেন্সিরও তা রয়েছে। তা হচ্ছে- অপব্যয় বন্ধ করা, ফ্রড কিংবা অপব্যবহার বা অপরাধ চক্রের বা বিদেশিদের দ্বারা কোন সিস্টেমের সুযোগ যাতে অন্যায়ভাবে নিতে না পারে এবং যথাযথ খরচাদির হিসাব যাতে যথাস্থানে থাকে।

২০১৬ সালের এক রিপোর্টে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্সির অনুসন্ধানী বিভাগ সর্বোচ্চ বিভাগের এক্তিয়ারে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। রিপোর্টে দেখা গেছে, ইউএসসিআইএস এমপ্লয়ি নিয়ে পাবলিক অভিযোগ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৩ সালে ছিল ১২৪০ যা ২০১৫ সালে ৬১৯-এ দাঁড়িয়েছে।

নতুন প্রস্তাবিত ওভারসাইট অফিসে একটি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনও থাকবে, যাতে বিদেশি সরকার বা অপরাধীরা এর মধ্যে ঢুকতে না পারে। তা ছাড়া থাকবে ইন্সপেকশন ডিভিশন, যা এজেন্সি কমপ্লাইয়েন্স নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা অব্যাহত রাখবে। এ ওভারসাইট অফিস পরিচালিত হবে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা সারাহ কেনডালের নেতৃত্বে। কেন্ডাল সরাসরি সিসনার কাছে রিপোর্ট করবে। এরপর করবে ডেপুটি ডাইরেক্টর ডব্লিউ ম্যাককেমেন্টের কাছে।

সিসনা সম্প্রতি মিশন স্টেটমেন্ট থেকে ‘আমেরিকা ইমিগ্রেশন নেশন’ কথা কয়টি বাদ দেন। তিনি বলেন, মিশনের দায়িত্ব কাস্টমারদের বেনিফিট দেয়া নয়। আর বলা হয়, মিশন স্টেটমেন্ট শুধুমাত্র আবেদনকারীদের সুযোগের জন্য নয়, বরং আমেরিকার জাতীয় স্বার্থরক্ষার জন্য।

কোন দীর্ঘসূত্রতা না করে কর্মকর্তা যদি কোন (অভিযোগের) সন্দেহজনক কিছু দেখেন, তা যেন তারা সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে জানান।