ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আগতদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম করা হলো

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী: ইমিগ্রান্ট ভিসায় যারা বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকায় আসতে চাইছেন তাদের জন্য নতুন করে আরো কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সরকার থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একজনকে ইমিগ্র্যান্ট হিসাবে আমেরিকায় আসতে হলে তাকে অবশ্যই এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি সামর্থবান ও চিকিৎসা করার জন্য যত খরচ হবে তা বহন করার সক্ষমতা রয়েছে। এই জন্য একাধিক অপশনের কথা বলা হয়েছে যেমন যিনি আসবেন তাকে আগেই হেলথ ইন্সুরেন্স নিজের দেশ থেকে করে আসতে হবে, যাতে করে তারা এই দেশে আসার পর কোন ধরণের সমস্যা তৈরি না করেন। শারীরিক কোন অসুস্থতা হলে তাদের ইন্সুরেন্সের মাধ্যমে এখানে চিকিৎসা করাতে পারেন। ভিসা আবেদনের সময়ে স্ব স্ব দেশে থাকা আমেরিকান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবে। এছাড়াও তাদেরকে এটাও নিশ্চিত করতে হবে এই দেশে আসার পর তার চিকিৎসা ব্যয় বহন করার মতো সক্ষমতা আছে সেই জন্য বন্ড দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। যারা আবেদন করবেন ও আসবেন তাদেরকে বন্ড দিতে হবে। বন্ড দেওয়ার মাধ্যমে তারা এটা নিশ্চিত করবেন যে, এই দেশে আসার পর তারা সরকারের ও আমেরিকার জনগণের কোন বোঝা হবেন না।

বিভিন্ন সূত্রে খবর রয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এই দেশে আসার পর অনেকেই চিকিৎসা করান এবং সেই চিকিৎসার ব্যয় নিজেরা বহন করেন না কিংবা তাদের যারা স্পন্সর রয়েছেন তারা বহন করেন না। পুরো চিকিৎসা ব্যয়ই এই দেশের সরকার ও জনগণের উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তারা জরুরি মেডিকেল সেবা নেন। সেই জন্য সরকারকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে হয়ে। কিন্তু সরকার এখন আর সেটা চাইছে না। এই কারণে যারা ইমিগ্র্যান্ট হিসাবে আসার অপেক্ষায় আছেন ও আসার জন্য ভিসার আবেদন করবেন তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বন্ড দিতে হবে। এই বন্ড দশহাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়াও সেখানে এটাও বলা আছে যারা আসবেন তাদেরকে এটা বলতে হবে তারা কোন কারণে অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা ব্যয় কেমন করে নির্বাহ হবে এবং সেই ব্যয় কোথা থেকে হবে। অর্থ্যাৎ চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থের উৎস বলতে হবে। আর এই সব তথ্য আমেরিকান দূতাবাসের ভিসা সেকশেনের অফিসাররা খতিয়ে দেখবেন।

নতুন এই নিয়ম ৩ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে ও অন্যান্য গণমাধ্যমেও এই সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর শুক্রবার এক প্রক্লেমেশনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে নতুন নিয়মটি জানানো হয়েছে।

বর্তমানে আমেরিকাতে যারা ইমিগ্রান্ট হয়ে আসছেন তাদেরকে এখানে আসার জন্য ইন্সুরেন্স করে আসতে হয় না কিংবা বন্ডও দিতে হয় না। তবে এটা বলা আছে যে, যিনি একজনকে আনার জন্য স্পন্সর করবেন সেই স্পন্সরের দায়িত্ব হচ্ছে নতুন ইমিগ্রান্টের জন্য সব কিছুর খরচ বহন করা। যতদিন পর্যন্ত ওই ব্যক্তির কোন কর্মসংস্থান না হবে কিংবা তার যেসব খরচ আছে সেগুলো বহনের দায় দায়িত্ব তার। আসার পর সরকারের বোঝা হতে পারবেন না। এমনটি হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেই এখানে ইমিগ্রান্ট হয়ে আসার পর কাজ করেন না। পরিবারের যে ব্যক্তি তাকে এখানে নিয়ে আসেন তার উপর নির্ভরশীল থাকেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা। স্পন্সরকারীদের মধ্যে যাদের আয় কম তাদের পক্ষে অনেক সময় খরচ পুরোপুরি বহন করা সম্ভব হয় না। ফলে নতুন ইমিগ্রান্টের জন্য সরকারী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এই ক্ষেত্রে মেডিকেড ও ফুড স্ট্যাম্পই বেশি নেন। চিকিৎসা খরচ মেডিকেডের মাধ্যমেই কিংবা বিন্যামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই নেন। এতে করে সরকারের বোঝা ভাড়ি হয়। আবার চিকিৎসা ব্যয় ছাড়াও অনেকেই ফুড স্ট্যাম্প, হাউজিং সুবিধাও নেন। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সুবিধা নেন এতে করে তার জন্য বিভিন্ন খরচ বহন করতে গিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়। সরকার আর এই সব ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাইছে না। সরকার চাইছে এখানে তারাই আসবেন যারা সাবলম্বী ও সামর্থবান। এখানে আসার পর তার জন্য সরকারকে কোন খরচ বহন করতে হবে না। আর যিনি তাকে আনবেন সব খরচ তিনি ও স্পন্সর যদি অন্য কেউ কো-স্পন্সর হিসাবে থাকেন তিনি বহন করবেন।

এর আগে সরকার নতুন পাবলিক চার্র্জ রুল ঘোষণা করেছে। সেই রুল আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিভিন্ন স্টেটে মামলা করা হয়েছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮ অক্টোবর কোন মামলায় আদালত থেকে কোন আদেশ আসেনি।