ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

বিশ্বচরাচর ডেস্ক : ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বিক্ষোভ চলাকালে গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ১০ জন নিহত হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন গত ১ জানুয়ারি এ তথ্য জানায়। এ নিয়ে গত চার দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়াল। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ৪০০, যার মধ্যে ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলা হয়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে কয়েকটি শহরের ঘটনায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোট ১০ জন নিহত হয়। তাদের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় তুইসারকান শহরে গুলিতে ছয়জন মারা গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজেহ শহরে গুলিতে দু’জন মারা গেছে বলে জানান স্থানীয় এক আইন প্রণেতা। নিহত এই আটজন কাদের গুলিতে মারা গেছে, এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিত উল্লেখ করেনি। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে অন্য দু’জন নিহত হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় দোরুদ শহরে।
এ দু’জনের একজন পদদলিত হয়ে এবং অন্যজন বিক্ষোভকারীদের চুরি করা অগ্নিনির্বাপক গাড়িচাপায় মারা গেছে। দোরুদ শহরেই গত ৩০ ডিসেম্বর আরো দু’জন নিহত হয়। এই দু’জন নিহতের ব্যাপারে লোরেস্তান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুল্লাহ খোজেস্তারের দাবি, বিদেশি চরের গুলিতে তারা মারা গেছে এবং চলমান সহিংসতায় বাইরের শক্তির ইন্ধন রয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাসহাদ শহর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ তিন দিনের মাথায় রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে রুহানি বলেন, এটা কিছুই না। সমালোচনা আর প্রতিবাদ একেকটা সুযোগ, হুমকি নয়। দাঙ্গাকারী আর আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এ জাতি নিজে থেকেই প্রতিক্রিয়া জানাবে। প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘যেসব সংখ্যালঘু আইন আর জনতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এবং বিপ্লবের পবিত্রতা ও মূল্যবোধের অমর্যাদা ঘটাচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমাদের এ জাতি বোঝাপড়া করবে।’ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন আর সামাজিক অস্থিতিশীলতা হ্রাসের অঙ্গীকার করে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ১ জানুয়ারি বলেন, ‘বেকারত্বের চেয়ে আমাদের বড় কোনো সমস্যা নেই। আমাদের অর্থনীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের অবশ্যই একজোট হতে হবে। ’
উল্লেখ্য, জীবন যাপনের উচ্চব্যয় এবং ১২ শতাংশ বেকারত্ব মিলিয়ে ইরানের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা জনগণকে বিরূপ করে তুলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল রাহমান রাহমানি ফাজলি গত ৩১ জানুয়ারি বলেন, যারা জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে এবং আইন ভাঙবে, সেসব আচরণের দায় তাদের নিজেদেরই নিতে হবে এবং মূল্য দিতে হবে। এ ছাড়া দেশটির বিশেষ বাহিনী ইরানস রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার বার্তা দিয়েছে।