ইলিশও নকল?

মোস্তফা কামাল : বাজার থেকে সহি ইলিশ কিনে ঘরে ফেরার গ্যারান্টি আছে? জাল-ভেজাল ইলিশ এতোদিন মালুম হয়নি। ধারণাও করা যায়নি। সম্প্রতি টুকটাক জানাজানি হচ্ছে। বাজার থেকে এক জোড়া ইলিশ কিনে খাওয়ার পর দুইটাতে দুই স্বাদ। অথবা দুইটার স্বাদই বিষাদ। কেসটা কী?
আসলে ইলিশ এখানে নিরাপরাধী। ইলিশের স্বাদ হারায়নি। হারিয়েছে মানুষের নৈতিকতা। ইলিশ আর ইলিশের লুক এলাইকের। সাগরে এখন সারা বছরই কম-বেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। তার ওপর আমদানি হয় বিদেশ থেকেও। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আড়ত থেকে রাতের আঁধারে চলে যায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে। বড় বড় পাতিলে এসব মাছ পদ্মার খাঁটি ইলিশ নামে ঢুকছে অলিগলিতে। মাওয়া ও দৌলতদিয়ার পাশাপাশি চাঁদপুরের মেঘনার মোহনায়ও যাত্রীদের কাছে বিক্রি হচ্ছে এসব নকল ইলিশ। তুলনামূলক কম দামে পেয়ে ধন্য ক্রেতারা। অনেক ব্যবসায়ী টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, উখিয়া ও কক্সবাজার উপকূল থেকে এই মাছ কিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাই দিচ্ছেন। বাধা আছে কোথাও?
না একটুও বাধা নেই। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিতেও বাধা নেই। এক সময় মেডিটারেনিয়ান দ্বীপ সার্ডিনিয়ার আশপাশে এ মাছের আধিক্য ছিল বলে এদের নাম পড়েছে সার্ডিন। স্থানীয় ও জেলেদের কাছে পরিচিতি চন্দনা, যাত্রিক, টাকিয়া, পানসা, খায়রা, সাগর চাপিলা ইত্যাদি নামে। এ মাছ বেশিরভাগ সাগরপথে আমদানি করা হয়। এর বাইরে আর দেশে ধরা হচ্ছে চৌক্কা। এদের মিলিয়ে মিশিয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে ইলিশের সঙ্গে। হয়ে যাচ্ছে পদ্মার খাঁটি ইলিশ। সার্ডিন আর চৌক্কা বোঝার উপায় আছে?
আস্ত দেখলে তফাতটা বোঝা যায়। আর কেটে টুকরা করার পর গন্ধ-বর্ণ এক হয়ে যাওয়ায় বোঝা কঠিন। তফাত মালুম হবে খাওয়ার সময়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটেরও কেসটা জানতে-বুঝতে সময় লেগেছে। সার্ডিন আকারে অনেকটা জাটকার মতো। আর চৌক্কা বেশ বড়। লম্বায় অনেকটা ইলিশের কাছাকাছি। এসব মাছ ইলিশের চেয়ে চওড়ায় কম এবং চোখের আকার বড়। চৌক্কার মাথা লম্বাটে ও সুঁচালো। সার্ডিনের মাথা বড় ও সামনের অংশ ভোঁতা। সাইজ-ডিজাইন যা-ই হোক এসব নকল ইলিশ মানবদেহের কোনো সর্বনাশ করছে কি-না; কে জানে? বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কি কোনো বক্তব্য আশা করা যায় না?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন।