ই-সিগারেট বনাম ফুসফুসের ব্যাধি

ঠিকানা রিপোর্ট: ই সিগারেটের বিষক্রিয়া বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং ই সিগারেট পানকারীদের অনেকেই ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে , এমনকি অনেকের মৃত্যুও ঘটেছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে যে ই-সিগারেট পানের ফলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩টি স্টেটে ৪৫০ জন ফুসফুসের ভয়ানক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয় যে ই সিগারেট পানের ফলে ফুসফুসের ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় এবং অরেগনে কমপক্ষে ১ জন করে মৃত্যুবরণ করেছে।

নিউ ইয়র্ক স্টেটেও ই সিগারেট সেবনের দরুন ১৫ থেকে ৪৬ বছর বয়সী কমপক্ষে ৩৪ জন ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকে খ্যাতনামা চিকিৎসক ডানা মীনী-ডেলম্যান ঘটনাগুলো তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকে আর বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে ঠিক এ মুহূর্তেই ই সিগারেট পান থেকে বিরত থাকার জন্য ধূমপায়ীদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে সমগ্র আমেরিকায় ইসিগারেট পানের ফলে যারা দুরারোগ্য ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগই টিএইচসি নামক মারিজুয়ানার সাইকোঅ্যাকটিভ উপাদানযুক্ত ভ্যাপিং প্রডাক্ট সেবন করেছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই সিগারেট সেবনকারীর হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুসারে নিউ ইয়র্কে ই সিগারেট পানকারীর সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে ১৬০% বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী জুল ব্যবহারকারীর তুলনায় ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী জুল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ই সিগারেট বৃদ্ধির প্রবণতা জাতীয় জীবনে বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনবে বলে চিকিৎসকগণ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।