একজন জো বাইডেন এবং আরেকজন রবার্ট মুগাবে

মুহম্মদ ফজলুর রহমান : লিখতে চেয়েছিলাম জিম্বাবুয়ের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবেকে নিয়ে। ‘মুগাবে কারও জন্য কি কোনো দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন’Ñএ রকম একটি শিরোনাম ঠিক করে লিখতে শুরুও করেছিলাম। কিন্তু পরিকল্পনার মোড় ঘুরিয়ে দিল দি নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে আমেরিকার অব্যবহিত-পূর্ব ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি আলাপচারিতা।
ক্ষমতার নিক্তিতে মাপতে গেলে নিশ্চয়ই আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের পাল্লা অনেক ভারী হবে জিম্বাবুয়ের একজন প্রেসিডেন্ট মুগাবের তুলনায়। একজন ক্ষমতাকে দেখতেন মানুষের কল্যাণ সাধনের নিয়ামক হিসেবে। একজন জনকল্যাণকামী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছায়ায় জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ৮ বছর। আরেকজন মুগাবে সর্বক্ষমতার অধিকারী হয়ে ক্ষমতায় ছিলেন ৩ যুগের অধিক সময়। একজন বিশ^নন্দিত, অন্যজন মানুষ নিধনে বিশ^নিন্দিত। একজন মানবকল্যাণে নিবেদিত, অন্যজন যুদ্ধবাজ। একজন সৃষ্টির পক্ষে, চান শান্তি ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে; আরেকজন ধ্বংসের পক্ষে। মানবিকতা, সভ্যতা সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে তিনি একাই হতে চান বিশ^বিধাতা।
বিশে যত যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রপরিচালক ছিলেন, তাদের অন্যতম জিম্বাবুয়ের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে। ক্ষমতাই তাকে স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, যুদ্ধবাজ বানিয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে হয় ‘পাওয়ার করাপ্টস, অ্যাবসল্যুট পাওয়ার করাপ্টস অ্যাবসল্যুটলি!’ তার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রবার্ট মুগাবে। জিম্বাবুয়ে তথা আফ্রিকান মুক্তিসংগ্রামে রেখেছেন সাহসী এবং স্মরণীয় অবদান। স্বাধীনতার জন্য ১৯৬০-এর দশকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মুগাবে ছিলেন জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়নের মহাসচিব। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ সাল পুরো এক দশক তাকে শ্বেতাঙ্গ শাসক ইয়ান স্মিথের সংখ্যালঘু শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অভিযোগে কারাভোগ করতে হয়। ৭৫-এ মুক্তি পেয়ে চলে যান মোজাম্বিকে। সেখান থেকেই তিনি জিম্বাবুয়েকে শে^তাঙ্গ শাসন থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে রোডেশিয়ান বুশ ওয়ারে নেতৃত্ব দেন। তাঁর এই নেতৃত্ব জনগণের সমর্থন লাভ এবং প্রশংসা অর্জন করে। তার ফলও তিনি পান ১৯৮০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী অধিকাংশ রাষ্ট্রনায়কের ক্ষেত্রে যা হয়, মুগাবের ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটে। চাটুকার, তোষামোদকারীর দল তাকে ঘিরে ফেলে। জনগণ থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ক্ষমতা তাকে অন্ধ করে দেয়। তার স্বৈরশাসনের ফলে দেশে শুরু হয় অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অসন্তোষ ও বিক্ষোভ। সেই সুযোগে ২০১৭-এর নভেম্বরে ঘটে যায় সেনা অভ্যুত্থান। রবার্ট গ্যাব্রিয়েল মুগাবে ক্ষমতাচ্যুত এবং গ্রেফতার হন। ১৪ নভেম্বর অভ্যুত্থান আর ১৫ নভেম্বর ক্ষমতা দখল সেনাবাহিনীর। সকল ক্ষমতার অধিকারী মুগাবে দুদিনেই ক্ষমতাহীন! যেন নিজের হাতেই নিজে বন্দী!
কিছুদিন আগে আর বসন্ত বাতাসে ঢলে পড়েছে একে একে মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরশাসক মিসরের হোসনি মোবারক, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি, অন্যদিকে উগান্ডার ইদি আমিন। তেমনি চলে গেলেন মুগাবে। অতীতেও গেছেন কত কত স্বৈরশাসক, একনায়ক, যুদ্ধবাজÑহিটলার, মুসোলিনি, চিয়াং কাই শেকÑতালিকা দীর্ঘ। অনেক দেশে অনেক নিন্দিত-ধিক্কৃত রাষ্ট্রনায়কের পরিণতি করুণ না হলেও কলঙ্কতিলক নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে। আবার জননন্দিত হয়ে আমেরিকায় বিদায় নিয়ে চলে গেছেন প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেইÑজর্জ ওয়াশিংটন, জেফারসন, রুজভেন্ট। চলে গেছেন আব্রাহাম লিঙ্কন। এই সেদিনের জন এফ কেনেডি, বারাক ওবামা। সবাইকেই চলে যেতে হয়। কিন্তু তারা চলে গিয়েও জনগণমন অধিনায়ক হয়ে আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। অন্যদিকে ইরাক, আফগানিস্তান ধ্বংসের দায় ও ধিক্কার নিয়ে বেঁচে আছেন বুশ জুনিয়র। আর ক্ষমতায় বর্তমান থেকেও ধিক্কৃত হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইতিহাসের পাতা থেকে এখানে আরও একজনকে তুলে ধরতে চাই, যিনি ক্ষমতার শীর্ষে না থেকেও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন মানুষের মনে ভালোবাসার আসন গড়ে। তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন না, প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন না। ছিলেন না কোনো রাষ্ট্রনায়ক। ছিলেন আমেরিকার দুদফা ভাইস প্রেসিডেন্ট। যে পদটি একান্তই আছে প্রদীপের নিচে। যেখানে আঁধারই অধিক। কিন্তু বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এমনই একজন আলোকিত ব্যক্তিত্ব, যিনি তার গুণ দিয়ে, পা-িত্য দিয়ে আর মানুষকে ভালোবাসার মহত্ত্ব দিয়ে আঁধারকে আলোয় ভরিয়ে দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেমন নিজের সংসারকে স্বর্গ ভেবেছেন, তেমনি জনগণকে দেবতাজ্ঞানে হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন।
জো বাইডেন এমন একজন মানুষ, যিনি ব্যক্তিগত সব দুঃখ-কষ্ট নিজের বুকে চাপা দিয়ে সাধারণ মানুষকে তার সুকৃতি দিয়ে সুখী করতে চেয়েছেন, সুখী দেখতে চেয়েছেন। যে সময় রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ নিয়ে মানুষের যত ক্ষোভ, অভিযোগ, নিন্দা, ভর্ৎসনা, ধিক্কারÑসে সময় জো মানুষকে দেখাতে চেয়েছেন রাজনৈতিক জীবন কতটা সম্মানের হতে পারে। এবং তিনি সেটা তার রাজনৈতিক জীবন দিয়ে যথার্থই দেখাতে পেরেছেন। কিছু রাজনীতিবিদ আছেন, যাদের কার্যকলাপ দেখে মানুষ রাজনীতি সম্পর্কেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে, রাজনীতির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে। আবার জো বাইডেনের মতো রাজনীতিবিদদের দেখে মানুষ রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়। ভরসা করে যে, রাজনীতিই পারে মানুষের কল্যাণ করতে, মানুষকে সব শৃঙ্খল, সব পরাধীনতা, শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিতে।
বাংলাদেশে আজ কতিপয় রাজনীতিকের কার্যকলাপে সাধারণ মানুষ রাজনীতির ওপর থেকেই আস্থা হারাচ্ছে। সব রাজনীতিবিদকেই এক পাল্লায় তুলে এক মূল্যে বিচার করছে। কিন্তু পাকিস্তানের চক্রান্ত থেকে রাজনীতি এবং রাজনীতিবিদরাই রক্ষা করেছেন বাংলা ভাষাকে। পাকিস্তানের শাসন-শোষণ-বঞ্চনা এবং উপনিবেশবাদের কবল থেকে স্বাধীন করেছেন বাংলাদেশকে। এই পরিসরে আমরা কি একটু শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে পারি না মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে। যারা মানুষকে ভালোবেসে, মানুষকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে রাজনীতি করে গেছেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান? তিনি তো তার সারা জীবনকেই উৎসর্গ করেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য। জেল-জুলুম সয়েছেন। কিন্তু দেশকে স্বাধীন এবং দেশের মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্য থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। তারই ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ অতঃপর স্বাধীনতা। আজ তার ৭ মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। অবশ্য এ সত্য অস্বীকার করা যায় না যে, তখন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রধানতম লক্ষ্যই ছিলÑজনকল্যাণ এবং দেশের মঙ্গল।
আজ সেখান থেকে প্রায় সব দেশের, সব রাজনীতিবিদেরই লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে। তবে কিছু কিছু রাজনীতিবিদ এতটাই নষ্ট হয়েছেন যে, মানুষ তাদের জন্য সমস্ত রাজনীতিবিদ ও রাজনীতিকেই ভয় পায়। রাজনীতির এই অন্ধকার সময়ে জো বাইডেনের মতো রাজনীতিবিদ যে এখনো কিছু আছেন, তা বিশ^াস করতেও মানুষের সংশয় জাগে। ঘর পোড়া গরুর মতো তাদের অবস্থা। সিঁদুরে মেঘ দেখলেও আগুনের আশঙ্কায় ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। কিন্তু জো বাইডেনরা মানুষের জন্য এখনো আশার আলো। জো বাইডেন মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলেন রাজনৈতিক জীবন কতটা সম্মানের হতে পারে। এটা অঙ্গীকারের বিষয়। নিষ্ঠা ও লালনের ব্যাপার। এ জন্য একজন রাজনীতিবিদকে কঠোর চর্চা করে যেতে হয় সার্বক্ষণিকভাবে। ব্যক্তিগত সব স্বার্থ ত্যাগ এবং সব প্রতিকূলতা, কষ্ট স্বীকারের মনোবল থাকতে হয়। জো বাইডেন সংসারের সব ঝড়-ঝাপ্টা, বড় ছেলে বিউ বাইডেনের মরণ অসুখ এবং অবশেষে অসময়ে তার মৃত্যু যেমন সয়ে নিয়েছেন, তেমনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার হাতছানিকেও তিনি সযতেœ দূরে সরিয়ে রেখেছেন।
জো বাইডেন কেমন মানুষÑতা তার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কথা থেকে বুঝে নেওয়া যায়। ওবামার ভাষায় : ‘জো আমেরিকার ইতিহাসে এক সিংহপুরুষ।’ অন্য অনেকেই বিশ^াস করেন, ২০১৬-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারির পরিবর্তে যদি জো বাইডেন ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হতেন, তবে নির্বাচনের ফল এবং আমেরিকার ইতিহাস অন্য রকম হতো।
জো বাইডেনকে নিয়ে অনেক কিছু জানা যায় তার নতুন স্মৃতিকথা ‘প্রমিজ মি ড্যাড’ বই থেকে। বইটিতে পাওয়া যায় জোর সন্তান বাৎসল্য। পরিবারের সদস্য, নাতি-নাতনি নিয়ে তার যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে, তার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় মানুষ জো এবং রাজনীতিবিদ জোকে। সেখানেই পার্থক্য গড়ে দেয় জো বাইডেন ও রবার্ট মুগাবের মধ্যে। ওবামা তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্পর্কে এত স্বচ্ছভাবে জানতেন যে তিনি জোকে বলেছিলেন, ‘জো’ যদি আমার কখনো নিয়োগের ক্ষমতা আসে, আমি তোমাকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করব। তোমার নেতৃত্বের দক্ষতা আমি জানি এবং আমি মনে করি তুমি একজন সেরা প্রেসিডেন্ট হবে।’ এর চেয়ে ভালো স্বীকৃতি একজন ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য আর কী হতে পারে!
রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ নিয়ে মানুষের কী অদ্ভুত ভাবনা। কারও পতনে মানুষ স্বস্তির নিশ^াস ফেলে। দেশ ও জাতি মুক্তি পেল বলে নাগরিক জীবন উচ্ছ্বসিত হয়। আবার কারও বিদায়ে দুঃখে কাতর হয়, হতাশায় ভেঙে পড়ে। কারও পতনে রাজপথে আনন্দ মিছিল বের হয়, উল্লাসে মানুষ মিষ্টি বিতরণ করে। আবার কারও জন্য মানুষ বুক চাপড়ায়। শোকের মাতম তোলে। কারও কারও কথা ও কর্মে মানুষ দুঃস্বপ্নের অতলে নিমজ্জিত হয়। কেউ কেউ মানুষকে নতুন স্বপ্নে, নতুন আশায় উজ্জীবিত করে তোলেন। আমরা ইতিহাসে পাশাপাশি পাঠ নিয়েছি যেমন প্রজ্ঞাবান শাসকের, তেমনি প্রজা নিপীড়ক শাসকের। বাদশা হারুন অর রশিদ যেমন ইতিহাসকে আলোকিত করে আছেন, তেমনি ইতিহাস বিকৃত এক শাসক চিয়াং কাই শেক। আমাদের জীবদ্দশাতেও তা দেখলাম একদিকে নেলসন ম্যান্ডেলা, হো চি মিন, পাবলো নেরুদা। আবার আরেক দিকে ইদি আমিন, গাদ্দাফি। তেমনি ইতিহাসের দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে আছেন রবার্ট মুগাবে এবং জো বাইডেন।
ঠিকানার একই সংখ্যায় দুটি প্রতিবেদন। ২৪ নভেম্বরের ৩৭ পৃষ্ঠায় জো বাইডেন এবং ১৭ পৃষ্ঠায় রবার্ট মুগাবে। একজন আলোকিত, একজন কলঙ্কিত। একজন যুদ্ধবাজ গণবিরোধী নিন্দিত। একজন জননন্দিত, শান্তি ও সভ্যতায় বিশ^াসী। একজন মানুষের লক্ষ-কোটি বছরের সাধনায় গড়ে তোলা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। একজন মানুষের প্রতি পরম ভালোবাসা নিয়ে তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একজনের মন্ত্রÑবিদ্বেষ, ঘৃণা। অন্যজনের ভালোবাসা, মায়া, মমতা। একজন গণতন্ত্রী, অন্যজন স্বৈরাচারী। একজন নিষ্ঠুর ক্ষমতালিপ্সু। অন্যজন মানবিক, দেশপ্রেমিক। একজন আদর্শবাদী, অন্যজন আদর্শহীন।
ইতিহাসে ভালো-মন্দ, আদর্শবাদিতা
এবং আদর্শহীনতার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। আদর্শহীন ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতিকদের কাছে ক্ষমতার অঙ্কই শেষ কথা। আর যারা মানুষকে ভালোবেসে, সভ্যতায় বিশ^াস রেখে একটি সুন্দর বাসযোগ্য বিশ^ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতি করেন, তাদের কাছে মানুষই শেষ কথা। তাদের কাছে সবার উপরে মানুষ সত্য। ইতিহাস সব সময় সত্য ও সভ্যতার পক্ষেই দাঁড়ায়। ইতিহাসের আলোকিত অধ্যায়ে তাই জো বাইডেন জায়গা পান। মুগাবেদের জায়গা হয় অন্ধকার আস্তাকুঁড়ে।
একজন মানুষের মৌলিক পরিচয় ভালো মানুষ অথবা মন্দ মানুষ। সবার উপরে যে মানুষ সত্য, তা ওই ভালো মানুষ। ভালো মানুষ না হলে ভালো কিছুই হওয়া যায় না। ভালো গণতন্ত্রী হওয়া যায় না। ভালো সমাজসেবক এবং ভালো রাষ্ট্রনায়কও হওয়া যায় না। ভালো শিল্পী কবি সাহিত্যিক প্রাবন্ধিকও হওয়া যায় না। সবকিছু ভালো হওয়ার পূর্বশর্ত ভালো মানুষ হওয়া। মুগাবেরা পারেন না, জো বাইডেনরা পারেন। জো বাইডেনরা ইতিহাসের দায় মেটান সততা, ন্যায়, নিষ্ঠতা দিয়ে। মানুষকে ভালোবেসে, মানুষের জন্য কাজ করে। ধোঁকা দিয়ে নয়। ইতিহাসের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করে, সত্য লুকিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, জো বাইডেনরা বিশ^াস করেন, ইতিহাসের দায় মেটে না। ও রকম বিশ^াস মুগাবেদের। কিন্তু দলবাজি করে, ঠগবাজি, রাজশক্তির অপব্যবহার করে, কায়েমি চক্রের স্বার্থের পাহারাদার এবং অসত্য, অন্যায়ের পূজারি হয়ে আসলে এবং ইতিহাসের দায় মেটানো যায় না।
মুগাবেরা ইতিহাসের কলঙ্ক। তারা মনে করে ইতিহাস তাদের ভৃত্য। ক্ষমতা তাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত। মুগাবেদের মতো গণতন্ত্র ও মনুষ্যত্বের শত্রুরা ক্ষমতার অন্ধকারে ডুবে থেকে মনে করে, আজ তাদের প্রতিপক্ষ কিংবা বিকল্প না থাকলে কোনো দিনই থাকবে না। চিরদিনের জন্য তারা নিরাপদ। তারা মূর্খ, ইতিহাসের পাঠ নেয় না। তারা জানে না অথবা বিশ^াস করতে চায় না, বিকল্প বা প্রতিপক্ষ না থাকলে, ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই নিজেদের মধ্যে জন্ম নেয় প্রতিপক্ষ। নিজেদের ভেতরে সৃষ্ট দ্বন্দ্বেই একসময় তাদের পতনের রাস্তা তৈরি হয়। তখন আর প্রতিরোধের পথ থাকে না।
জো বাইডেনরা ইতিহাসের শিক্ষা মেনে চলেন। তারা মানুষকে ভালোবেসে, মানুষের ওপর আস্থা রেখে সত্য ও সুন্দরের পথে চলেন। সে কারণেই জো বাইডেনরা নন্দিত আর মুগাবেরা নিন্দিত। ইতিহাসই মানুষের স্থান নির্ধারণ করে দেয়।
প্রধান সম্পাদক, ঠিকানা।
৫ জানুয়ারি, ২০১৮।
নিউইয়র্ক।