একটি অসাধারণ নির্বাচন

জুনায়েদ আকতার

অসাধারণ নির্বাচন নামটি দিলাম একটি কারণে। কারণটির মূলে আছে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগে ঘটেনি বলে অভূতপূর্ব এবং একই কারণে এবারের বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন অসাধারণ হয়ে দাঁড়াল।
দু’জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করছি। একজন ড. কামাল হোসেন অন্যজন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। ড. কামাল হোসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর এবং বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতাও তিনি । অন্য দিকে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের অনুগত ও বিশ্বস্ত ছিলেন। ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কেউ কোনোদিন ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে ড. কামাল হোসেন এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরী নিজেদের মতাদর্শ ছেড়ে অন্য মতাদর্শের অনুসারী হবেন। অথচ তাই হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন সমর্থন দিলেন বিএনপিকে আর ডা. বদরুদ্দোজা জোট বেধেছেন আওয়ামী লীগের সাথে। একটু গভীরে গিয়ে চিন্তা করলেই বোঝা যায় এই মেরুকরণ অভূতপূর্ব কেন। ড. কামাল হোসেন বিএনপির সাথে জোট বাধার সাথে সাথে তার কিছু মৌলিক বিশ্বাসের ব্যাপারে প্রশ্ন জাগতেই পারে। প্রথম প্রশ্ন, তিনি কি বিশ্বাস করেন জে. জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, বঙ্গবন্ধু নন? তিনি কি মনে করেন জে. জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি? তিনি কি মনে করেন মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত নন; তিনি কি মনে করেন কর্নেল তাহেরের সাথে জে. জিয়াউর রহমানের প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্র এবং পরিশেষে কর্নেল তাহের ফাঁসির সাথে জে. জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা অযৌক্তিক এবং মিথ্যে?
অন্য দিকে ডা. বরুদ্দোজা চৌধুরী কি অবশেষে মেনে নিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশের জাতির জনক? যদি তাই হয় তবে ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচন একটি অসাধারণ অভূতপূর্ব নির্বাচন।
আরো একটি কারণ উল্লেখ্য, প্রবাস থেকে ৯০ দশকে দেশে ফিরে যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম কণ্ঠস্বর এম এম শাহীনের ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নেন। জনাব শাহীন ছিলেন অকুতোভয়, আদর্শের সাথে আপসহীন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। সেই ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে বিশ্বাসী ও অনুগত থেকেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক কূটচালের কারণে দল থেকে মনোনয়ন না পেলেও নিজের কর্মবলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ দশকের প্রথম দিকে তাকে আওয়ামী লীগ যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তিনি তা গ্রহণ করেননি। এবারের নির্বাচনে বিএনপি তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আওয়ামী লীগের সাথে একাত্মতা ঘোষণাকারী ডা. বদরুদ্দোজার দলের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার। একই এলাকায় সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে ড. কামাল হোসেনের দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দু’জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নিজেদের চিরায়ত রাজনৈতিক বিশ্বাসের পরিপন্থী ধারার দল থেকে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যাপারটা এবারের সাধারণ নির্বাচনে শুধু অসাধারণই নয় অভূতপূর্বও বটে।
ফ্লোরিডা।