একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা: সাবেক দুই ডিসিকে কারাগারে প্রেরণ

ঢাকা : বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাবেক ডিসি মো. ওবায়দুর রহমান ও সাবেক ডিসি সাইদ হাসান আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার ১ নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

খান সাঈদ হাসান পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি, দক্ষিণ) ছিলেন। আর ওবায়দুর রহমান উপকমিশনার (ডিসি, পূর্ব) ছিলেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ঘোষিত রায়ে তাদেরকে দুই বছর করে কারাদÐ দেয়া হয়।

গত ২৮ জানুয়ারি এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান এই দুই আসামির জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুই মামলায় অধিকতর তদন্তে খান সাঈদ হাসান ও ওবায়দুর রহমানের নাম বেরিয়ে আসে। তারা মামলার তদন্তে বিঘœ সৃষ্টি করেছেন, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। ঘটনাস্থল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তারা দু’জন নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগপত্র দাখিলের পরও তারা বিচারের মুখোমুখি না হয়ে পলাতক থেকেছেন। এ অবস্থায় তাদের জামিন না দেয়ার জন্য আদালতে নিবেদন করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান। শুনানি শেষে আদালত খান সাঈদ হাসান ও ওবায়দুর রহমানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. নজরুল ইসলামও তাদের কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি জানিয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর মামলার রায়ে এ দুই আসামি পলাতক অবস্থায় দÐবিধির ২১২ ধারায় মৃত্যুদÐ বা যাবজ্জীবন কারাদÐে অভিযুক্ত আসামিদের প্রশ্রয় দেয়া এবং ২১৭ ধারায় অপরাধীদের শাস্তি হতে বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগে ও ২০১ ধারায় অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য সাক্ষ্য-প্রমাণ অদৃশ্য করার অভিযোগে প্রত্যেক ধারায় ২ বছর করে কারাদÐ দেন ট্রাইব্যুনাল। কারাদÐের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেক ধারায় ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেক ধারায় ৬ মাস করে কারাদÐ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে প্রত্যেক ধারার সাজা একযোগে চলবে বলে উল্লেখ করা হয়।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ আসামির মৃত্যুদÐ এবং লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদÐ দেয়া হয়। এ ছাড়া অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।