একুশ শতকে বিকল্পহীন নেত্রী শেখ হাসিনা

একুশ শতকে বিকল্পহীন নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা অনেক আগেই বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেলের স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘মানবতার জননী’র। এই স্বীকৃতি পেয়েছেন রোহিঙ্গাদের দুর্দিনে বাংলাদেশের সংকট ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান থাকা এবং বর্তমানে যে সমস্যা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেখা দিয়েছে, সে শঙ্কা সেদিনও জানা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে।
‘কী যাতনা বিষে বুঝিবে সে কীসে’- এই বোধে ঋদ্ধ শেখ হাসিনা। এক রাতের মধ্যে তিনি পিতা-মাতা, ভাই-ভাবি, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে হারিয়েছেন। আজও সে ব্যথা বুকে নিয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। এই অনুভূতিও তার বুকে জমে রয়েছে যে, ১৯৭১-এ নিষ্ঠুর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার মুখে যখন প্রাণভয়ে কোটি মানুষ ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের কষ্ট এবং দুর্দশার। তাইতো বিশ্বের যে প্রান্তের মানুষই দুর্দশায় পতিত হয়, তিনি নীরব থাকতে পারেন না। তিনি দুর্দশাগ্রস্ত মানুষদের জন্য কিছু করতে পারলে শান্তি পান। নিজের অভাব, সংকটের কথা ভুলে যান।
তিনি নিজের সব দুঃখ-বেদনা ভুলে থাকতে চান দেশের মানুষের মুক্তির মধ্যে। মানুষের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দের মধ্যে তাই তিনি নিজের সব সুখ-শান্তি-স্বস্তি উৎসর্গ করেছেন দেশের মানুষের জন্য সকাল-সন্ধ্যা ছুটে বেড়ান দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে, মানুষের সেবায়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ছুটে বেড়ান বিশ্বময়, ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে। শেখ হাসিনার মডেল মেনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দও বিশ্বকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন। তাইতো বিশ্ব নারী নেত্রীদের মধ্যে তার জায়গা সর্বশীর্ষে। তিনি একাধারে দেশকে দিয়ে চলেছেন, অন্যদিকে বিশ্বকেও দিয়ে চলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ৩৮ বছর। বাংলাদেশ পরিচালনা করছেন এক নাগারে ১১ বছর, সর্বমোট ১৬ বছর। এই দীর্ঘ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি ক্রমাগতভাবে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং যাচ্ছেন। নিজের চিন্তা চেতনাকে শাণিত করছেন। চিত্তে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় জনকল্যাণে অধিক থেকে অধিকতর নিবেদিত হচ্ছেন এবং গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে চলেছেন। এবং সেই জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা তাকে অর্জন করতে হয়েছে প্রতিনিয়ত অধ্যায়ন, অনুশীলন, পরিচর্যা, নির্ভয়-নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে। তিনি ক্রমাগতভাবে নিজেকে বিকশিত করে চলেছেন- কী রাজনীতি, কী রাষ্ট্র পরিচালনায়, কী সমাজ উন্নয়নে।

তাই শেখ হাসিনার চিন্তা, তাঁর নেতৃত্ব, তাঁর সমাজ ভাবনা, দেশ ও দশের উন্নয়ন কর্ম দেশের গ-ি ছাড়িয়ে বিশ্বময় দৃষ্টি কেড়েছে। বিশ্ব শেখ হাসিনাকে ‘রোল মডেল’ মেনে তাঁকে অনুসরণ করে বিশ্বকে অগ্রসর করে নিতে চাচ্ছে। তিনি এখন শুধু বাঙালি হিসেবে আমাদের গর্বিত করছেন না, বিশ্ব সভ্যতা, বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ববাসীর কল্যাণেও অবদান রাখছেন। তাই তো বিশ্বময় তার সুনাম, তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও জয়গান। তারই স্বীকৃতি মেলে আন্তর্জাতিক সংস্থা উইকিলিকসের এক জরিপে। যা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম- ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়া (ইউএনআই) গত ৯ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে তুলে এনেছে। সেখানে বলা হয়েছে- বিশ্বে নারী নেতৃত্বের শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বময় নারী নেতৃত্বের এ এক নয়া দৃষ্টান্ত। দীর্ঘসময় দেশ শাসনে থাকা নারী নেতৃত্বের নতুন তালিকায় শেখ হাসিনা। পেছনে ফেলে দিয়েছেন ভারতের শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও শ্রীলংকারর কুমারতুঙ্গার মতো বিশিষ্ট বিশিষ্ট নারী নেত্রীদের। ঐ জরিপে আরো বলা হয়- শক্তিশালী নেতৃত্ব, দক্ষতা আর দূরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপশি বিশ্বে নারী পুনরুত্থানের প্রতীকও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন পরিস্থিতি ও পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তা বাংলাদেশের মানুষ কোনদিন ভোলেনি, কোনদিন ভুলতেও পারবে না। ঘাতকের বর্বরতায় মাত্র ৬ বছর আগেই হারান বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবাইকে। তাঁর জনক এমনই একজন জনক ছিলেন, যিনি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে, দীর্ঘ কারাজীবন খেটে উপনিবেশিক শৃঙ্খলে বাঁধা ৭ কোটি বাঙালিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ ঢাকার সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁর ভাষণ বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকটি ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে একটি। স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়েই তিনি নিজে প্রায় একাই গড়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তাঁর সঙ্গের সাথী অনেকেই লক্ষ্যচ্যুত হলেও তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন থেকে কখনোও এক চুলও সরে যাননি। মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও বঙ্গবন্ধু মুজিব কখনো নিজে পিছু হটেননি। তিনি সেই স্বপ্ন দেশের সব মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দিয়ে বাস্তবেও তার রূপ দেন, ধাপে ধাপে লড়াই-আন্দোলন করে। মা, বেগম ফজিলাতুন্নেছা ছিলেন স্বাধীনতার লড়াইয়ে উপযুক্ত সহধর্মিনীর মতোই ছায়াসঙ্গী যাকে বলে। সেই সঙ্গে নববিবাহিত দুই ভাই-ভাবি, শিশু ভাই রাসেল, আপন চাচাসহ কতো কতো নিকটাত্মীয়। বিদেশে অবস্থানকালীন সময়ে হঠাৎ বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো এক রাতেই সর্বহারা! সঙ্গী কেবল ছোট এক বোন, শেখ রেহানা। যিনি তাঁর সঙ্গেই বিদেশে ছিলেন।
সে অবস্থায় ৬ বছর বিদেশে কাটিয়ে দেশের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে এক রকম জীবনের ঝুঁকি নিয়েই দেশে এসে পিতার হাতে গড়া দলের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেন পিতার স্বাধীনতা এনে দেয়া দেশের মানুষকে সামরিক শাসকের শাসন থেকে মুক্ত করার। এই দায়িত্ব পূর্ণ করার পথে শেখ হাসিনা নিজেও বারবার ঘাতকদের নিশানায় পতিত হন। কিন্তু কোনভাবে সেদিন ঘাতকের নিশানা ব্যর্থ হলেও তিনি তাঁর পিতার মতোই মৃত্যু ভয়ে ভীত হয়ে পিছু হটে যাননি। অবশেষে তিনি ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে দেন। এবং যারা ভাবতো আওয়ামী লীগকে জনগণ চিরতরে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের আর কখনো ক্ষমতার কাছে যেতে হবে না- শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই কতিপয় মানুষের ধারণা মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনে প্রথম তাঁর নেতৃত্বের পরীক্ষায় পাশের স্বীকৃতি মেলে। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের ঘাতক ও পেছনের কারিগরদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দেন। আর প্রিয় বাংলাদেশকে সম্ভাবনার এক নতুন সূর্যের সন্ধান দেন। অনেক নারী নেতৃত্বই দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু যারা দেশ ও বিশ্বে নেতৃৎেত্ব দিয়ে আলোকিত হয়েছেন, রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি পেয়েছেন, শেখ হাসিনা আজ তাঁদের সবাইকে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসেছেন।
তিন দফা ক্ষমতার মেয়াদ পূর্ণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ দফায় সরকার পরিচালনায়। দেশে এবং বিশ্ব পরিসরে তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে এক মেয়াদ থেকে আরেক মেয়াদে। উন্নয়নের রেসে তিনি এতোটাই এগিয়ে যে এখন তাঁকে সবাই উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ ধরে নিয়ে সবাই তাঁকে অনুসরণ করেন। বিশ্ব পরিসরেও শেখ হাসিনা এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিকল্পহীন নেত্রী।
অনেকেই বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের পেছনের রহস্য কী? শেখ হাসিনার এ প্রশ্নে নিজের জবাব কী, জানা না গেলেও বিশ্লেষকরা যা বলেন, তা খুব জটিল নয়। তাদের পর্যবেক্ষণের ফল হচ্ছে- ‘পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অনুসরণ করা। দেশ ও মানুষকে সবার উপরে স্থান দেয়া। লোক দেখানো বা কৃত্রিম নয়, সততার সঙ্গে হৃদয়ের গভীর থেকে মানুষকে ভালোবাসা।’ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর কর্মসাধনা, বঙ্গবন্ধুর জাতির প্রতি অঙ্গীকার, কাজের ধারা, তাঁর দৃঢ়তা ও সংকল্প যারা লক্ষ করার এবং অনুসরণ করে আত্মস্থ করার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা বড় মানুষ হবেই। সেক্ষেত্রেই তাঁরই আত্মজা শেখ হাসিনা, যিনি পিতার কোলে কোলে, চোখে চোখে বড় হয়েছেন। তাঁর আদরে, সোহাগে, ভালবাসায়, তাঁর রাজনৈতিক দীক্ষা নিয়ে মানুষ হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছন যিনি- তাঁর পক্ষেই তো এমন নেতা, এমন বিশ্ব জোড়া প্রভাব বিস্তারী নেতা হয়ে ওঠা সম্ভব।
এবং বাংলাদেশের মানুষের সৌভাগ্যের সেখানেই যে, পিতার স্বপ্ন চোখে নিয়ে, পিতার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কন্যা আজ তাদের রাষ্ট্র পরিচালক, তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও যথার্থভাবে পিতার কর্তব্য নিভাতে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা, রাষ্ট্রনায়কের স্বীকৃতি এমনি এমনি কারো ভাগ্যে জোটে না। ভাগ্যের জোরে এসব মেনে না। বিষয়টি ভাগ্যনির্ভর নয়, কর্মনির্ভর। কর্ম দিয়ে, নিষ্ঠা দিয়ে, সাধনা দিয়ে, জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিলে তিলে, দিনে দিনে সেই গুণ অর্জন করেছেন। তিনি পিতার মতোই বাঙালির একজন স্বপ্ন সারথী। পিতা বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতার, তিনি বাঙালিদের সেই আরাধ্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি সেই স্বপ্নের স্বাধীন দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, পারেননি। তাকে সময় দেয়নি ঘাতকরা। সেই স্বপ্ন পূরণ করার দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিয়েছেন কন্যা শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
সে কারণেই তাঁর অগ্রাধিকার আব্রাহাম লিংকনের ‘গভর্নমেন্ট অব দি পিপল, বাই দি পিপল এবং ফর দি পিপল’ নয়। লিংকনের সংজ্ঞাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, আর অগ্রাধিকার দিয়েছেন উন্নয়নকে। সে পথে তিনি সফল ও সার্থক। আর আব্রাহাম লিংকনের সংজ্ঞা মেনে চললে লী কুয়ান আজকের সিঙ্গাপুর গড়ে তুলতে পারতেন না। মাহাথির মোহাম্মদ বর্তমান মালয়েশিয়াকে উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হিসাবে গড়তে পারতেন বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন না। বিশ্বের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেভাবে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন, আব্রাহাম লিংকনের গণতন্ত্র মেনে দেশ শাসন করলে তা কখনো সম্ভব হতো বলে কেউ মনে করেন না। বাংলাদেশের সবার মুখে ভাত, সবার শিক্ষা-বস্ত্রের ব্যবস্থা করতে পারতেন না। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতো না। অচিরেই উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারতো না।
শুধু বইয়ের সংজ্ঞা এবং মুখস্থবিদ্যায় দেশ ইন্দোনেশিয়া-সিঙ্গাপুর হয় না। দেড় শতাধিক বছরের পুরনো সংজ্ঞা মেনে চললে আজকের অনুন্নত, দরিদ্র, পশ্চাৎপদ বাংলাদেশের কপালে উন্নয়নের এই রাজতিলক জুটতো না। যতোটা মনে হয়, গণতন্ত্র কেবলই বইয়ের পাতা খুলে পড়া বা মুখস্ত করার বিষয় নয়। আত্মস্থ করার বিষয়। প্রথাগত প্রচলিত ধারায় গণতন্ত্র চর্চা করে বাঙলির ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি, ঘটতে পারতোও না। প্রতিবাদ এবং বিদ্রোহের সংস্কৃতি দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, ভাগ্যেরও পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের পথেই আমাদের চূড়ান্ত মুক্তি এবং সোনার বাংলার স্বপ্নপূরণের পথ। আজকের গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র পরমত সহিষ্ণুতা নয়, সহমত সহিষ্ণুতা। জনগণ, জনগণ এবং জনগণই গণতন্ত্রের শেষ কথা- মূলমন্ত্র হলে সাম্প্রতিক ইতিহাসে আমেরিকায় অন্তত দুজন প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। একজন জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র এবং আরেকজন এখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুজনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। আমেরিকার ইতিহাসের বুঝি নির্মম পরিহাস হচ্ছে যে, দেশের একজন প্রেসিডেন্ট জনগণকে সরার উপরে স্থান দেবেন, সেই দেশেই জনগণ তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারেন না।

সুতরাং, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই সংজ্ঞায়িত পথে গণতন্ত্রের চর্চা না করে, উন্নয়ন অর্জনে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। তিনি জানেন- উন্নত দেশের উন্নত মানুষ উন্নত গণতন্ত্র চর্চা উন্নয়ন ছাড়াই করতে পারেন। তাই বাংলাদেশের মানুষের উন্নতির জন্য তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছেন। ‘তোরা যে যা বলিস ভাই, আমি সাধারণ মানুষের উন্নয়ন সবার আগে চাই।’ বঙ্গবন্ধুও এই সাধারণ মানুষের রাজনীতি করতেন। সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তিনি যে ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ বলেছিলেন, সে এই সাধারণ কৃষক, মজুর খেটে খাওয়া মানুষ। সময়ের চাহিদা মিটিয়ে রাজনীতি করেন যারা, তারাই প্রকৃত রাজনীতিবিদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই রাজনীতি করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাও পিতার সেই সাধারণ মানুষেরই রাজনীতি করে যাচ্ছেন। যেসব দেশ আজ শিল্প, কৃষি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতিতে উন্নত, ইতিহাসচর্চা থেকে মেলে- তারাও তাদের উত্থানকালে উন্নয়নের উপরই জোর দিয়েছেন। উন্নয়ন সম্পন্ন হলেই কেবল গণতান্ত্রিক চর্চা সঠিক অর্থে, সঠিক পথে অগ্রসর হয়।
আবারো বলছি, আমরা সৌভাগ্যবান যে আমাদেরকে, বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর পথ ধরে তার আত্মজা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সৌভাগ্য যেনো অটুক থাকে, নিজেদের সেই স্বার্থ নিয়ে তাঁর সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি আমরা।
লেখক : প্রধান সম্পাদক, ঠিকানা।
নিউইয়র্ক।