একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রিফিউজি পুনর্বাসন কার্যক্রম

কাজী ইবনে শাকুর : আমেরিকায় ক্রমাগতভাবে রিফিউজিদের (উদ্বাস্তু) প্রবেশাধিকার রুদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিগত ৫৭ বছর যাবৎ ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস রিসেটলমেন্ট অফিস আমেরিকায় আসা রিফিউজিদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে আসছে। স্বদেশে তাড়া খাওয়া রিফিউজিদের পুনর্বাসনে এ অফিস অবিরাম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছে একসময়। একদল রিফিউজি পুনর্বাসিত হতে না হতে আরেক দল, যারা ইতিমধ্যে পুনর্বাসিত হয়েছে, তারা ফিরে আসত নবাগতদের সাহায্যার্থে। কিন্তু রিফিউজি সেটেলমেন্টের এ অফিস চলতি মাসের শেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে দুস্থ কিছু মানুষকে সাহায্য করার যে মার্কিন নীতি, তা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বৈধ মাইগ্রেশন। এ ব্যবস্থাকে ইতোমধ্যে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। আর সে কারণে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে রিফিউজি পুনর্বাসন কার্যালয়ও।

যে নয়টি পুনর্বাসন এজেন্সি স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাথে কাজ করে, হয় তাদের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে, নতুবা কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। এসব এজেন্সি রিফিউজিকে শুধু পুনর্বাসনই করত না, বরং তাদের সারাদেশে কমিউনিটির সাথে সমন্বিত করার কাজ করত।

২০১৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১০০টি কার্যালয় হয় তাদের পুনর্বাসন কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করেছে অথবা স্থগিত করেছে। আমেরিকার রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, এ সংখ্যা মোট অফিসের এক-তৃতীয়াংশ।

ট্রাম্পের শাসনের বিগত দুই বছর রিফিউজি পুনর্বাসনের কার্যালয়সমূহ এক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছে। চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের পরিচালক জন বাউম্যান বলেন, গর্বিত জাতি হিসেবে একসময় আমেরিকা বিশ্বে উদ্বাস্তু পুনর্বাসন করত। তিন বছর আগে যেখানে বছরে ৮৫ হাজার লোক পুনর্বাসিত হতো, এখন সেখানে তার এক-তৃতীয়াংশ হয় না। চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস গত নভেম্বরে রিমান্ডে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করে। একই সময় তারা নিউইয়র্কের অফিস বন্ধ করে।
গত বছর প্রশাসন ৩০ হাজার রিফিউজি নির্ধারণ করে। ১৯৮০ সাল থেকে এ সংখ্যা সর্বনি¤œ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে ছিলেন। ২০১৬ সালে তা ছিল ৮৫ হাজার আর ২০১৯ সালের জন্য টার্গেট ছিল ১,১০,০০Ñযা সিরিয়ার সংকটের কারণে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২৮ হাজার এর কিছু বেশি উদ্বাস্তু আমেরিকায় এসেছে বলে রিফিউজি প্রসেসিং সেন্টার জানিয়েছে।

তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা সম্প্রতি সিএনএনকে জানান, আমেরিকায় ধর্মীয় কারণে নির্যাতিতসহ অন্যদের, আমেরিকানদের নিরাপত্তা সাপেক্ষে, পুনর্বাসন করা হবে।

২০১৭ সালে চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস তার ৭টি অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০১৬ সালে সাড়ে ৬ হাজার রিফিউজি সেটেল করা হয়েছে। এ বছর এ সংখ্যা ২৪০০-এ নেমে এসেছে।

এই রিফিউজি সেটলমেন্টের কর্মসূচি ট্রাম্পের আমলে শূন্যের কোটায় নেমে আসছে। এ বছর চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন্য মহাদুর্যোগের অবস্থা, সংস্থাটির ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি কর্মসূচির পরিচালক জেন স্মায়ারস এ কথা বলেন। পুনর্বাসন এজেন্সি রিফিউজিদের আসার পর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করত। কিন্তু এখন রিফিউজি আসছে না। কাজেই কোনো কাজও নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে পুনর্বাসন কর্মসূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে এজেন্সিসমূহকে তাদের অফিস বন্ধ বা কর্মসূচি কমিয়ে পরিস্থিতির সাথে সমন্বয় সাধন করে চলতে হয়েছে। কিন্তু আরেক বছর কম রিফিউজি আসলে তাদের কাজ আরো কমে যাবে।

এই গ্রীষ্মের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও পেন্টাগন মিলে সম্ভাব্য মতামত দিয়েছে- আগামী বছর আমেরিকা কোনো উদ্বাস্তু নেবে না। তবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা এর বিরোধিতা করেছেন।
২৪টি বেসরকারি সংস্থায় কোয়ালিশন রিফিউজি কাউন্সিল ইউএসএ জানায়, পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি ডেমোক্রেট সদস্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসের কাছে আগামী বছরে রিফিউজির সংখ্যা নির্ধারণে চিঠি দিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে এ মাসের শেষ দিকে সম্ভবত তা নির্ধারণ করা হবে।
চার্চ ওয়ার্ল্ড সার্ভিস বলেছে, ২০১৬ সালে অন্তত ১০০ বেস রিফিউজি এসেছে। কিন্তু এখন ৫ বেসের বেশি আসে না।
জাতিসংঘ রিফিউজি এজেন্সি বলেছে, বিশ্বে এখনো ২০ মিলিয়ন রিফিউজি রয়েছে। রিটায়ার্ড জেনারেলরাও এ কর্মসূচি বাঁচিয়ে রাখতে ট্রাম্পের কাছে চিঠি লিখেছেন।
প্রশাসন অবশ্য ২০১৮ সালে প্রতিশ্রুত ৯টি এজেন্সিকে ২০১৯ সালের ফান্ড দিয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালের জন্য আবারও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে ফান্ড পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে।
শিকাগোতে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের যে পুনর্বাসন, সেখানেও দেখা যাচ্ছে ক্রমাগত রোহিঙ্গাদের আগমন কমে গেছে। যারা আছে তাদের পুনর্বাসনও মন্থর হয়ে গেছে।