এক ডিজিতে থেমে যাবে স্বাস্থ্যের কুকর্ম?

মোস্তফা কামাল: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে টানা কয়েক বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বলয় এক ডিজির পরিবর্তনে পাল্টে যাবে? স্বাস্থ্যখাতে লুটপাট-জালজালিয়াতি নিয়ে অনেক পানি ঘোলার পর একপর্যায়ে ধরতে হয় সাহেদ, সাবরিনা, আরিফ, শারমীনদের। বিদায় দিতে হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি আবুল কালাম আজাদসহ কয়েকজনকে। হেলথের নতুন সেনাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় ডা. এ বি এম খুরশিদ আলমকে। একজন পরিচ্ছন্ন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত যার। কিন্তু, ২৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে কাজ শুরু করতে না করতেই কথার এ কোন বোমা ফাটালেন তিনি?
ডা. খুরশিদ বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির জন্য সবাই দায়ী। সরকার একা দায়ী নয়। কী বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন? আর মানুষই-বা কী বুঝেছে? এ নিয়ে কিছু কথা চালাচালি হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কুকর্মের জন্য ‘সবাই’ কেন দায়ী হবেন? কুকর্ম করলেন সাহেদ-সাবরিনা, শারমিনরা। আর দায়ী সবাই? কেমন কথা এটা?
কোন পথে, কোন পক্ষে, কোন মতে এগুচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক? পদ-পদবিতে ডা. খুরশিদ আলম অবশ্যই মহামহিম। আগের জন ডা. আবুল কালাম আজাদের চেয়ে অবশ্যই গুন, জ্ঞান-গরিমায় মহিয়ান। কিন্তু, দায়িত্ব নিয়েই কী বললেন? কী শোনালেন এসব? আগের ধারা বা ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলার ইঙ্গিত দিয়ে যাত্রা শুরু করেননি তো? হতে পারে দুর্নীতির দায় ‘আমাদের সবার’ মানে মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি যারা সরকারের অংশ তাদেরই বুঝিয়েছেন। ১৬-১৭ কোটি মানুষের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাদে সাধারণ জনগণ দুর্নীতির অংশ হতে পারে না- তা নিশ্চয়ই তিনি জানেন। জনগণ তো কেবলই অসহায়, ভুক্তভোগী। নিজেদের দায় জনগণের উপর চাপানোর এই বক্তব্য তার কৌশলী কাজ? না-কি বাতকে বাত? দায়িত্ব-ক্ষমতা-অর্থ-লোকবল সব সরকারের হাতে। মানে ডা. খুরশিদ বা খুরশিদদেরই হাতে। তাহলে দায় সবার মানে জনগণের কেন?
প্রশ্ন কিন্তু এখানেই শেষ নয়। করোনার টেস্ট জালিয়াতি, নকল মাস্ক-পিপিই, স্যানিটাইজারের মতো ঘটনায় কোথায় নেমেছে মানুষের বিশ্বাস এবং আস্থার পারদ? এখন ভ্যাকসিন তৈরি হলেও তা কি মানসম্পন্ন হবে?- এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। টিকা বা ভ্যাকসিন কতোদিন কার্যকর থাকবে? দাম কিভাবে নির্ধারণ করা হবে? কোন প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির অনুমতি পাবে, তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই হবে? নাকি দুর্নীতি ও হাই কানেকশনেই ভাগাভাগি হবে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে ভূত ঢোকার ঘটনা ধামাচাপা রাখার অবস্থা আর নেই। ভ্যাকসিন ট্রায়ালে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ-বিএমআরসি অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জটিলতা সৃষ্টি করছে। এর আগে আইসিডিডিআরবি ইউরোপীয় কোম্পানির ভ্যাকসিন গবেষণা করেছে। তখন কোনো আপত্তি হয়নি। এখন কেন, কার স্বার্থে আপত্তি?
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; বার্তা সম্পাদক, বাংলাভিশন, ঢাকা।