এক নক্ষত্রের চলে যাওয়া

ছন্দা বিনতে সুলতান : কয়েক বছর আগের কথা, এস্টোরিয়া বিএস ২৩৪ স্কুলে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই প্রজন্মের এক নক্ষত্রের চলে বাচিক শিল্পী আবৃত্তিকার সোপন সাহা তার ফেসবুকে লিখেছেন ‘শিল্পী অনেক হয় কিন্তু সাধক কজন হতে পারেন কিংবা শিল্পীদের পরিবেশন হয় হাজার হাজার; কিন্তু নিবেদন হয় হাতেগোনা ক’টিই। শিল্পের জন্য শিল্পী না জীবনের জন্য শিল্প না পুরোটা জীবনই শিল্প তা দেখতে আমাদের খুব বেশি দূর যেতে হয়নি। বাংলাদেশ-ভারত কিংবা নিউইয়র্ক যেখানেই থাকে দেখেছি ধ্যানী নিমগ্ন একজন সাধক নৃত্যশিল্পী হিসাবে আমরা। জনপ্রিয় কয়েকের নিপুণ কারিগর, রবিঠাকুরের প্রতিটি নৃত্যনাট্যের সফল কারিওগ্রাফার, নৃত্যশিল্পের জীবন বাজিকর, সদা বিনয়ী নৃত্যবস্তুর মানবিক মানুষ অনুপ দাশ, অসময়ে চলে যাওয়া ক্ষতি অপূরণীয়।
এই শহরে তার কাছের মানুষদেরই একজন বাফার সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন তার সাথে আলাপকালে তিনি জানান বাফায় একসঙ্গে কাজ করতে যেয়ে তিনি কখন যে আমাদের পরিবারের একজন হয়ে গেলেন। তার মৃত্যুতে যেন ভাইকেই হারালাম। তিনি আরও জানান বাফার প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো দেখতেন। ঘড়ি ধরে কোনো কাজ করতেন না যতক্ষণ না তার কাজ মনমতো হতো তিনি করে যেতেন, বাফার শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকরাও তাকে খুব ভালোবাসতেন। অনুপ কুমার দাশ চলে গেলেও বেঁচে থাকবেন তার সুজনশীল কাজের মধ্যে। বেঁচে থাকবেন তার ছাত্রছাত্রীদের কাজের মধ্যে। তার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করবেন- এটাই আমাদের চাওয়া।
লেখক : ছন্দা বিনতে সুলতান কবি, সাংবাদিক।