এবিবিএ’র ইমিগ্রেশন ও ট্যাক্স নিয়ে সেমিনার

ঠিকানা রিপোর্ট: আমেরিকান বাংলাদেশী বিজনেস এলায়েন্সের আয়োজনে ইমিগ্রেশন এবং ট্যাক্স বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা দেয়ার লক্ষ্যেই এবিবিএ ফ্রি এই সেমিনারের আয়োজন করে। মাস্টার অব ল ও মূলধারার রাজনীতিবিদ এন মজুমদারের সঞ্চালনায় সেমিনারটি গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. বশির আহমেদ। কি নোট স্পীকার ছিলেন এটর্নী ব্রুস ফিসার। সেমিনারের স্পীকার হিসাবে ছিলেন সিপিএ ইয়াকুব এ খান, এটর্নী এ্যালেন, এটর্নী হাসান মালিক, এটর্নী খায়রুল বাশার প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবিবিএ’র সভাপতি ও মূলধারার রাজনীতিবিদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।
এটর্নী ব্রুস ফিসার বলেন, গত ২০ বছর ধরে আমি এই পেশায় রয়েছি এবং ২০ বছর বাংলাদেশী কম্যুনিটির সাথেই কাজ করছি। আমার অধিকাংশ গ্রাহকই বাংলাদেশী। আমি বাংলাদেশী কম্যুনিটির জন্য কাজ করছি। আমার কাছে ছোট বড় সব কেইসই সমান। আমি সব ধরনের কেইসই নিয়ে থাকি। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় পতিত হলে অবশ্যই কিছু ডকুমেন্ট রাখতে হবে। গাড়ি দুর্ঘটনা হলে অবশ্যই গাড়ির ছবি নম্বর প্লেটসহ রাখতে হবে। অবশ্যই মেডিক্যাল ডকুমেন্ট লাগবে। গাড়ি দুর্ঘটনা হলে ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে। সাইড ওয়ার্কে দুর্ঘটনায় পতিত হলে অবশ্যই ৯০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে। সিটির কোন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার হলে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে।
এটর্নী এ্যালেন সুকানি বলেন, বর্তমানে আমেরিকার ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তবে আমেরিকায় বৈধ এবং অবৈধদের অধিকার সমান। আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী সবার সমান অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া কেউ আপনার ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং আপনাকে চার্জ করতে পারবে না। আপনি পুলিশের সামনে বা আইসের সামনে চুপ থাকতে পারেন। তাদের কোন কথার জবাব দিতে আপনি বাধ্য নন। এ ছাড়া পুলিশের সাথে কথোকথনের সময় চিৎকার বা তাকে আক্রমণমূলক কথাবার্তা বলবেন না। কারণ এখন পুলিশের সাথে ক্যামেরা রয়েছে। তারা সব কিছুই ভিডিও করে। কোর্টে আপনার বিরুদ্ধে সেই ভিডিও যেন ব্যবহার করতে না পারে। তিনি বলেন, আপনি পুলিশ বা আইসের সাথে কথা না বলেন, তাদের আপনার আইনজীবীকে ফোনে ধরিয়ে দেবেন।
ড. বশির আহমেদ বলেন, সব দেশেই বলতে গেলে আইন একই রকম। তবে দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনের ব্যবহার ভিন্ন। আমেরিকার আইনের প্রয়োগের সাথে বাংলাদেশের আইনের তুলনা করা যাবে না।
সিপিএ ইয়াকুব এ খান বলেন, ২০১০ সাল থেকেই আমেরিকায় ফ্যাটকা চালু করা হয়। বিশ্বের প্রায় ১০৫টি দেশ এই ফ্যাটকার প্রথম মডেলটি সাইন করেছে। বাংলাদেশ দ্বিতীয় মডেলটির আওতায় রয়েছে। এই মডেলে বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংক প্রবাসীদের তথ্য দিতে বাধ্য। তিনি বলেন, যারা আমেরিকার পাসপোর্ট এবং গ্রীণ কার্ড হোল্ডার তাদের যদি বিদেশে ৫০ হাজার ডলারের উপর থাকে (একক), যৌথ ১ লাখ ডলার থাকে তাহলে ট্যাক্স ফাইলের সময় তা অবশ্যই জানাতে হবে। এ ছাড়াও যদি সম্পত্তি বা ব্যবসা বাণিজ্য থাকে তাও জানাতে হবে। তা না হলে কখনো ধরা পড়লে মোটা অংকের (৪০%) জরিমানা হতে পারে। যে কারণে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ সিপিএ’র মাধ্যমে ট্যাক্স ফাইল করবেন।
এটর্নী হাসান মালিক বলেন, একজন এটর্নীর কাজ হচ্ছে আপনাকে সেবা প্রদান করা। কারণ আপনি আমাকে অর্থ দিয়ে আপনার এটর্নী নিয়োগ করেছেন। তিনি বাড়ি বিক্রয় বিষয়ে বলেন, আমাদের এখানে সাধারণত দেখা যায়, আমরা প্রথমে এজেন্টের কাছে যাই, পরে আইনজীবীর কাছে আসি। আমি মনে করি প্রথমেই আইনজীবীর কাছে যাওয়া উচিত এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী বাড়ি ক্রয়- বিক্রয় করা উচিত। তিনি অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমেরিকা থেকে যারা ল’ পাশ করেন গুগুলে গেলেই তাদের তথ্য পাবেন। অন্যের কথায় বিভ্রান্ত হবার কোন সুযোগ নেই।
এটর্নী খায়রুল বশার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে অর্থ আনতে গিয়ে কীভাবে সমস্যায় পড়েন তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথেই অর্থ আনা যায়। কারণ আপনি যদি বাড়ি বা বিল্ডিং বিক্রি করেন তাহলে অর্থের সাথে সেই দলিল নিয়ে আসবেন।
এন মজুমদার বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লিজ সম্পর্কে বলেন, লিজটি অবশ্যই পড়ে দেখবেন। কারণ লিজ ছাড়া আপনি বাড়ি বা ব্যবসা বাণিজ্যের অধিকার পাবেন না। অনেক সময়ই ব্যবসার ক্ষেত্রে দেখা যায়, লিজের কাগজ অনেক বেশি, অনেকেই তা না পড়ে স্বাক্ষর করেন। তা কখনো করবেন না। ব্যবসা ক্রয় বা লিজ করার পর তা অবশ্যই আইনজীবীর মাধ্যমে পড়িয়ে নেবেন। ব্যবসা বিক্রির সময়ও আইনজীবী নিয়োগ করবেন।
সেমিনারের শেষ পর্বে ছিলো প্রশ্ন উত্তর পর্ব।
ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার এই ধরনের সেমিনারের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।