এমএস-থার্টীন মোকাবেলায় ১৪ সদস্যবিশিষ্ট গ্যাঙ ইউনিট

ঠিকানা রিপোর্ট: বিগত ২ বছরে লং আইল্যান্ডে ২ ডজন তরতাজা প্রাণ ছিনিয়ে নেয়া কুখ্যাত এমএস-থার্টীন স্ট্রীট গ্রুপ মোকাবেলায় এবং সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষে প্রজেকিউটর এবং ইনভেস্টিগেটরদের (সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারীদের) সমন্বয়ে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি উৎসর্গীকৃত নতুন টীম গঠন করা হয়েছে। সাফক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী টিমোথী সিনি ১১ ফেব্রুয়ারি এই নতুন টীম গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানা যায়।
নতুন গ্যাঙ ইউনিটটি গ্যাঙ সদস্যদের নি¤œমানের অপরাধ কর্মকান্ডসহ সকল ধরনের অপরাধের উপর আলোক সম্পাত করবে এবং অপরাধী চক্রের যথোপযুক্ত সাজা নিশ্চিত করার জন্য ফেডারেল প্রসেকিউটরদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে সিনি জানিয়েছেন। আগে গ্যাঙ ক্রাইমের সেন্ট্রালাইজড ডিপো না থাকায় অনেক সময় অপরাধী চক্র পার পেয়ে যেত বিধায় নতুন টীমটি একটি গ্যাঙ ক্রাইমের একটি সেন্ট্রালাইজড ডিপো তৈরি করবে। সিনি বলেন, এ ডিপো তৈরি করা হলে কোন অপরাধীই আইনের ফাঁকফোঁকর গলিয়ে শাস্তি এড়াতে পারবেনা। সিনি বলেন, কোন গ্যাঙ সদস্যকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবেনা। যে কোন মূল্যে গ্যাঙ চক্রের সমূল উৎপাটনে আমরা সক্রিয় ভ’মিকা পালন করব।
এফবিআই কর্মকর্তা, অন্যান্য ফেডারেল কর্মকর্তা এবং সাফক কাউন্টি আইন প্রয়োগকারী এজেন্টগণের উপস্থিতিতে সিনি সাফক কাউন্টি ক্রাইমস্টপারদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। সিনি বলেন, গ্যাঙ সদস্যের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্য প্রদান করা হলে সর্বোচ্চ নগদ ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। ফেডারেল কর্মকর্তাগণ জানান, লং আইল্যান্ডে এমএস-থার্টীন স্ট্রীট গ্রুপের প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছে।
নতুন এনহেন্সড প্রসেকিউশন বিউরোর অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট গ্যাঙ ইউনিট। সাবেক ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী থমাস স্পটার কার্যকালে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর দপ্তরে অনৈতিকতার যে পাহাড় জমে উঠেছিল তার মূলোচ্ছেদের সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছেন সিনি। আর সেই লক্ষেই তিনি নতুন এনহেন্সড প্রসেকিউশন বিউরো প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে জানা যায়। সাবেক সাফক পুলিশ কমিশনার জেমস বার্কে যে সকল অপরাধ করেছিলেন তা ঢাকা দিয়েছিলেন বিধায় থমাস স্পটার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছে। অবশ্য স্পটা আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সিনি বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনয়নে নানা গাফলতির কথা তিনি অনেকের মাধ্যমে অবহিত হয়েছেন। এদিকে সাবেক ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী জেমস কেটারসন জুনিয়রের অধীনে দায়িত্বপালনকারী লেসলী এন্ডারসন বর্তমানে এক্সিকিউটিভ অফিসে অ্যাক্টিং ডেপুটি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। লেসলীও একটি ইউনিট গঠনের জন্য সিনিকে ব্যক্তিগতভাবে পত্রযোগে অনুরোধ জানিয়েছেন। জানা যায়, এনহেন্সড প্রসেকিউশন বিউরোর প্রধান হিসেবে ক্রিস্টিনা ম্যাকস্লয়ীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাকস্লয়ী ব্রঙ্কসে এবং নাশাউ ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর দপ্তরে গ্যাঙ মামলা পরিচালনা করেছেন।
আর গ্যাঙ ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটী বিউরো প্রধান হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে কেটে ওয়েগনারের। গ্যাঙ ইউনিটটি গঠিত হবে ৮জন সহকারি ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এবং ৬জন ডিটেকটিভ ইনভেস্টিগেটর নিয়ে। আর প্রসেকিউটরদের একজন থাকবেন স্প্যানিস ভাষাভাষি। সিনি জানান যে ইউনিটের সকল সদস্য হাইলী ট্রেইন্ড গ্যাঙ স্পেশালিস্ট ( উচ্চ মানের প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ) হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তিনি আরও জানান, কমপক্ষে ১জন প্রসেকিউটর গ্যাঙ অ্যারেস্টে সাহায্যের জন্য সারাক্ষণ অন-কলে থাকবেন। সিনি বলেন, সাফক কাউন্টি এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন এজেন্ট গ্যাঙ সদস্যকে গ্রেপ্তার করলে কিংবা গ্যাঙ সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হলে তারা প্রয়োজনীয় উপদেশ, নির্দেশনা ও সাপোর্টের জন্য গ্যাঙ বিশেষজ্ঞকে ডাকতে পারবেন।