এমটিএ পরিচালকের জীবন বাঁচালেন পুলিশ অফিসার আজহারুল চৌধুরী

ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের অফিসার বাংলাদেশি আমেরিকান আজহারুল চৌধুরীর সাহসিকতায় প্রাণ বেঁচে গেছেন এমটিএ’র পরিচালক ৬৫ বছর বয়সী ডেনিস রুশোর।
গত ১ সেপ্টেম্বর দিনে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ডাউন টাউন সাবওয়ে স্টেশনে কাজ করছিলেন এমটিরএ’র পরিচালক ডেনিশ রুশো। কর্মরত অবস্থায় তিনি এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের হামলার শিকার হন। কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি হঠাৎ করেই পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে রুশোকে ট্রেন লাইনের মধ্যে ফেলে দেয়। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। তিনি কোনোভাবেই উঠে দাঁড়াতে পরছিলেন না। অন্যদিকে ট্রেন আসছিল। ট্রেন অনেকটা রুশোর কাছাকাছি চলে আসে। সে যেন মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন। এ অবস্থায় স্টেশনে কর্মরত দুই পুলিশ অফিসারের সাহসিকতায় বেঁচে যান ডেনিশ রুশো। দুই পুলিশ অফিসার তাকে উদ্ধার করার পর তাকে ব্রুকলিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে রুশো বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান তিনি কীভাবে নতুন জীবন ফিরে পেলেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্টেশনে কাজ করছিলাম। এই সময় হঠাৎ করেই কৃষ্ণাঙ্গ এক যুবক আমাকে ধাক্কা দিতে দিতে লাইনে ফেলে দেয়। আমি কোনোভাবেই আমার শরীরের ব্যালেন্স রক্ষা করতে পরছিলাম না। এ সময় আমি দেখি একটা ট্রেন আসছে, আমি নিশ্চিত ছিলাম যে মৃত্যু আমার অবধারিত। হঠাৎ করেই কোথা থেকে পুলিশ অফিসার এসে আমাকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনেন।’ রুশো আরো বলেন, ‘আমি ২৩ বছর ধরে এমটিএতে কাজ করছি। চিন্তাও করতে পারিনি কেউ আমার সাথে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে। এ ঘটনায় আমার হাড় ভেঙে গেছে। কবে আবার কাজে ফিরে যেতে পারবো আমি তা নিশ্চিত নই। তবে আমার কাছে প্রচণ্ড ভয় লাগছে।’
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসার আজহারুল চৌধুরী ট্রেন আসার ঠিক আগে রুশোকে উদ্ধার করেন এবং আরেক পুলিশ অফিসার আলেক্সজান্ডার ট্রেনটি থামিয়ে দেন। তাদের এই দুঃসাহসিক কাজের প্রশংসা করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এবং নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন গণমাধ্যম। এ দিকে পুলিশ কৃষ্ণাঙ্গ ওই যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। তারা সিসি টিভি ফুটেজ দেখে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে চিহ্নিত করেছে। তার নাম ক্যাভিন, তার বয়স ৫৫ বছর। তবে কেন কৃষ্ণাঙ্গ ওই লোকটি রুশোকে ধাক্কা দিয়েছে তা কারো বোধগম্য নয়।
এমটিএ’র ইউনিয়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা খুকই ভয়ঙ্কর। আমাদের যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আমরা কাজ করবো কীভাবে।’