এরশাদের আসনে জাপাকে ছাড় দেবে না আ.লীগ

রংপুর : জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক চেয়ারম্যান সদ্য প্রয়াত এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুর-৩ (সদর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে সংসদ সচিবালয়। এর পরই রংপুরে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড সাঁটিয়েছেন মহানগরীর দেওয়ালে দেওয়ালে। অনেকেই দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়ে পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। তবে এ আসনে ক্ষমতাসীন দল জাপাকে ছাড় দিতে নারাজ বলে জানিয়েছেন রংপুরের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতারা। ইতোমধ্যে দলের প্রায় দেড় ডজন নেতা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চেয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী খালেকুজ্জামান, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফুলু সরকার, মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু, সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করীম রাজু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক তুষারকান্তি ম-ল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, চিকিৎসক নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেন, জেলা মহিলা লীগের সাবেক সহসভাপতি রোজি রহমান, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট দিলশাদ হোসেন মুকুল, জাতীয় শ্রমিক লীগ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক শামিম তালুকদার ও জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচন এলেই এত বেশি প্রার্থী দেখা যায় যে আমরা কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। এ রকম ডজন ডজন প্রার্থী হলে হবে না। আমরা চাই দল থেকে একজন প্রার্থী ঠিক করে প্রচারণা চালানো হোক।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম রাজু সাংবাদিকদের বলেন, ‘যার সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের যোগাযোগ রয়েছে, সংসদে গিয়ে রংপুরের উন্নয়নের কথা বলতে পারবেন, তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া উচিত।’

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সাফি জানান, ‘এরশাদের অবর্তমানে রংপুর-৩ আসন আর জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এবারের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হতে না পারলে রংপুরের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই এখানে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।’

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর (১৯৭৩) এ আসনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সিদ্দিক হোসেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জয় পান বিএনপির রেজাউল হক সরকার রানা। এরপর থেকেই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে। তবে এরশাদের মৃত্যুর পর এবার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আসনটি নিজেদের করে নিতে চাইছেন।