এরশাদের নতুন খেলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজনীতির মহা খেলোয়াড় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আবার নতুন খেলায় মেতে উঠেছেন। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে পৃথক এক নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তাও হয়েছে। নির্বাচনের তিন, চার মাস আগে এর আত্মপ্রকাশ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, ড. কর্নেল অলি আহমদ, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে এই নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ২০ দলীয় জোটে শরিক কয়েকটি ছোট দলেরও এতে শরিক হওয়ার কথা রয়েছে। চর মোনাইর পীরের ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি ইসলামী দল এবং এরশাদের নেতৃত্বাধীন অর্ধশতাধিক নাম ও প্যাডসর্বস্ব দলও এতে শরিক হবে। বর্তমানে বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, রব, মান্নার নেতৃত্বে যুুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোট গঠিত হয়েছে। যদিও তা এখনো কাগজেই রয়েছে। এদের তৎপরতা দেখা যায়নি। এমনকি জোট শরিকদের নেতৃবৃন্দও বৈঠকে বসেননি। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকায় ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম এই জোটে থেকেও না থাকার মতো। বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠনের ব্যাপারে ড. কামাল, বি. চৌধুরী, কর্নেল অলি, রব, কাদের সিদ্দিকীসহ জাতীয়ভাবে পরিচিতি রয়েছে এমন নেতাদের এ ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গভীরভাবে প্রত্যয়ী যে সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে তাদেরই আবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দেবে। অপরদিকে ক্ষমতাপ্রত্যাশী বিএনপির নেতারা আস্থাশীল সরকারের দুঃশাসন ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে নৌকার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয় অন্য দলের প্রার্থীদের ভোট দেবে। সেক্ষেত্রে বিএনপিকেই তারা বেছে নেবে। এই ভরসা থেকেই বিএনপি গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। একই কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মানসিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছেন তারা। সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিপক্ষেও মত রয়েছে দলে। এ নিয়ে অনেকটা দোলাচলে রয়েছে বিএনপি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরই তা কেটে যাবে।
তৃতীয় ধারার উদ্যোক্তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি উভয়েই দেশের মানুষের কাছে পরীক্ষিত। এদের বিপরীতে সন্ত্রাস, দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত জনপ্রিয় প্রার্থী পেলে মানুষ তাদের সানন্দে বেছে নেবে। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী এই ধারণার উদ্যোক্তা। এরশাদের জনপ্রিয়তা ও দেশবাসীর কাছে পরিচিত নেতাদের একতাকে পুঁজি করে তারা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে চান। ৩০০ আসনেই তারা প্রার্থী দেবেন। এরশাদের জাতীয় পার্টি এককভাবে ২০০ থেকে ২২০টি আসনে এবং অন্যরা অপর আসনগুলোতে প্রার্থী দেবেন। অন্য দলগুলোর প্রার্থিতা নিয়ে বড় রকমের বিরোধ নেই। কারণ ব্যাপক সংখ্যক আসনে মনোনয়ন দেওয়ার মতো প্রার্থীই তাদের নেই। এই সমস্যা এরশাদের জাতীয় পার্টিরও রয়েছে। তবে এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তেমন কোনো বিরোধ হবে না। জোটকে বাস্তবে রূপায়ণই বড় হয়ে এসেছে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কর্নেল অলির পার্টিসহ আরো কয়েকটি দল বিএনপিমুখী। বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করতেই আগ্রহ বেশি। তবে বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত আসনে ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিএনপি তাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে বলেই তারা মনে করেন। এ ক্ষেত্রে সমস্যা এরশাদকে নিয়ে। এরশাদের ওপর আস্থাহীনতাই বড় সংকট। এরশাদ দুই নৌকায় পা রেখে চলছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সংসদও হবে ঝুলন্ত। সে ধরনের পরিস্থিতিতে এরশাদই হবেন ট্রাম্প কার্ড। তার সমর্থন ছাড়া কারো পক্ষেই সরকার গঠন করা সম্ভব হবে না। আবার সমমনাদের নিয়ে যৌথভাবে নির্বাচন করলে তারাও সরকার গঠন করার মতো অবস্থায় এলে বিস্ময়ের হবে না। অভ্যন্তরীণ কয়েকটি শক্তির সমর্থন, মদদ ছাড়াও দেশের বাইরের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী শক্তির সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে প্রস্তাবিত এই নির্বাচনী জোটের ভবিষ্যৎ। প্রতিবেশী অত্যন্ত প্রভাবশালী শক্তির দিক থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েই তারা অগ্রসর হচ্ছেন বলে উদ্যোক্তারা দাবি করছেন। প্রতিবেশী দেশটির এরশাদের ওপর যে আস্থাহীনতা ছিল, এরশাদ তার অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। অধ্যাপক বরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. অলি আহমদ, কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটির বরাবরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যথাযথ মাধ্যমে যোগাযোগও জোরদার হয়েছে।