এ কেমন চলে যাওয়া

আবদুস শহীদ

(মার্জানের স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদিত)

এ কেমন চলে যাওয়া হৃদয়ে দুহাত চেপে ধরে বলি
নিশ্বাসের কেন এত অবক্ষয় কেন অবসান।
কাল যে ছিল যুবা উন্নত বক্ষের উঁচু করা শির
আজ হয়ে গেলে লাশ মাতমের শিখা জ্বেলে
জনক-জননীর ক্লান্ত দেহে।

ধূলিঝড়ের মতো শুকনো অশ্রু গড়াবে চিরকাল
যেভাবে তুমি সমাহিত হলে লুবান জলের গহিনে
হৃৎপিণ্ডের চিৎকারও শুনল না কেউ।
হয়তো ছিল না কেউ সহমর্মী আত্মার আত্মীয়।
কী ছিল তোমার অন্তর্দাহ, যা নিভিয়ে দিলে
হিমশীতল জলাশয়ে?

যারা ছিল সহোদর, জননী, ভ্রাতা সান্নিধ্যে ছিল না
কেউ বাড়িয়ে দেবে জীবনরক্ষা সঞ্জীবনী।
সেদিনও বাবার জন্যে এনেছিলে বাবা দিবসের
শেষ উপহার শত ডলারের চেক কিংবা প্যাকেট
বন্দী নেমব্র্যান্ড টি-শার্ট।

ব্যথাতুর হাহাকার নিয়ে বাবা হাত বুলাবে প্যাকেটের
গায়ে। খুলবে না কখনো ঝুলিয়ে রাখবে স্মৃতির
ওয়ার্ডরোবে। মা দেখবে তাকিয়ে আঁতুরঘরের ছবি,
নাড়িছেঁড়া ধন রে আমার কেন এ অভিমান!
সটান ঘুমিয়ে আছিস সফেদ কফিনে।
পঁচিশটি বছর লালন করেছি, দিইনি কখনো ফুলের
আঘাত, করিনি উপেক্ষা সাক্ষাতে বা নেপথ্যে
তবুও এ কেমন চলে যাওয়া পাঁজরে দুহাত চেপে
নির্লিপ্ত পাষাণে চলে যাওয়া।
-নিউইয়র্ক।