ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেয়ার আহ্বান

ঠিকানা ডেস্ক : বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অবিলম্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেয়া হোক- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ আহ্বান জানিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে সাতটি দাবিও তুলে ধরেন। গত ১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি লিখেন- ‘আল্লাহর ওয়াস্তে এই অপকর্মটি করবেন না- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে আমাদের বিনীত নিবেদন। আইন বা বিচার বিভাগও যে সরকারের শক্ত নিয়ন্ত্রণে তা যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা না বোঝেন তাহলে এও জাতির আরেকটি দুর্ভাগ্য।
যা হবার হয়ে গেছে। আপাতত তা পরিবর্তন করার বুদ্ধি বা ক্ষমতা কোনোটাই আমাদের নাই। এটি চরম বাস্তবতা। ভারত ও চীনসহ অনেক রাষ্ট্র প্রধানরা বাংলাদেশের নির্বাচন মেনে নিয়েছেন। অন্যরাও ধানাইপানাই করে মেনে নেবেন। আপনারা অযথা বাগাড়ম্বর করে বিএনপির নেতাকর্মীদের জীবন দুর্বিসহ করে দিয়েন না। এমনিতেই দলের ১০০ ভাগ নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার। আর আপনাদের নেতাগিরি দেখাতে গিয়ে বিএনপির অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে দিয়েন না।
তাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে বিনীত দাবি :
১. বিনাবাক্যে ও শর্তে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিন। ২. অবিলম্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দিন। ৩. সকল সিনিয়র নেতারা রাজনীতি থেকে অবসর নিন। ৪. আগামী ১ বছরের জন্য সকল প্রকার রাজনৈতিক তৎপরতা স্বেচ্ছায় বন্ধ করে দিন। ৫. নির্বাচন উত্তর সকল তৎপরতা স্থগিত করেন। ৬. এক বছর পরে নতুন করে রাজনৈতিক শক্তি সংগঠিত করার এবং পরবর্তী নির্বচনের জন্য নতুন যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ দিন। ৭. দেশে ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা সৃষ্টিতে সবাই সহযোগিতা করুন।’
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুজ্জামান প্রায় আড়াই লাখ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নূর মোহাম্মদের কাছে হেরে যান। নির্বাচনে নূর মোহাম্মদ পান তিন লাখ ৭৭৬ ভোট। আর আখতারুজ্জামান পান ৫৪ হাজার ৫০ ভোট।
ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল :‘আমরা যারা বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের সাথে যুক্ত সেই সব বড় নীতিনির্ধারকদের কাছে আমার একটা প্রশ্ন, আমরা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি আমাদের জীবনের নিরাপত্তা পাচ্ছি না। আর দলের কোনোই কর্মকান্ড দেখছি না। তাহলে কি আমরা বুঝে নেব আপনাদের সাথে দল করে আমরা ভুল করেছি? তাই যদি না হয়, এতো বড় অনিয়মের নির্বাচনের পরেও আপনাদের কোনোই কর্মসূচি দেখছি না কেনো?’ মো. সুজন নামের বিএনপির এক কর্মী ফেসবুকে এভাবেই তার হতাশা ও ক্ষোভের কথা লিখেছেন। এ মন্তব্য একজন সুজনের না। তার মতো বিএনপির লাখো নেতাকর্মীর। ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল। হতাশা তাদেও গ্রাস করছে। এলাকায় থাকাটাও তাদের জন্য আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় তাদের করণীয় কি- তাও জানতে পারছেন না।
নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয় নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডও কিংকর্তব্যবিমূঢ়। শোচনীয় পরাজয় হয়েছে এতোদিনকার রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির। দেশজুড়ে জনমত থাকা সত্ত্বেও বিএনপি পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। শুধু তাই নয়, দলের বাঘা বাঘা নেতারা জামানত খুঁইয়েছেন। বিরোধী দলও হতে পারছে না বিএনপি। এ নিয়ে বিএনপিতে বিরাজ করছে হতাশা। এ পরাজয়ের জন্য বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট প্রস্তুত ছিলো না, তা বোঝা গেছে নেতৃবৃন্দের কথা থেকে। তারা বলছেন, সরকার প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে নির্বাচনী ফলাফল আওয়ামী লীগের অনুকূলে নিয়েছে। তবে বিএনপির পর্যবেক্ষণ যে ভুল ছিলো তা কিন্তু স্বীকার করছেন কেউ না। বরং পুরো বিষয়টিকে সরকারের ঘাঁড়ে চাপিয়ে নিজেরদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। নির্বাচনী ফলাফল হয়েছে দুদিন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কেউ এখনো আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন কারাকর্তৃপক্ষ।
রাজনীতিক বিশ্লেষকর মনে করেন, নেতৃত্বে দূরদর্শিতার অভাব, সংকটময় মুহূর্তে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতা, প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল, কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে না পারা, জোটসঙ্গীদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা- তাদের এ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কেন এই পরাজয়? এটা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আসনভিত্তিক পরাজয়ের কারণ লিখিত আকারে কেন্দ্রে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হবে। ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসছে না বিএনপি। তবে জোট ও ফ্রন্ট করে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অতিরিক্ত ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়েছে তা বলেছেন কয়েকজন নীতিনির্ধারক।