ওজোন পার্কে বাংলাদেশী ও মার্কিনিরা স্বাগত জানালো নতুন বছরকে

নিউইয়র্ক : ২০১৮ এর পূর্ব সন্ধ্যায় বাংলাদেশী ও আমেরিকানরা একসাথে স্বাগত জানালো ২০১৮’কে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ন’টায় শুরু করে ২০১৮’এর ঠিক জিরো আওয়ার’এ আঠারো সাল’কে স্বাগত জানিয়ে একটানা ভোর চার’টা পর্যন্ত আনন্দের, আশা’র গান, নাচ ও খাবাবের মধ্যে দিয়ে নতুন বছর’কে বরণ করলো নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও ফিলাডেলফিয়া’র বাংলাদেশী ও আমেরিকানরা।
ওজোন পার্কের রকাওয়ে বুলেভার্ড ও ৮৩ স্ট্রিট’এর কর্নারে পুরো ব্লক জুড়ে রকাওয়ে হল ও সেখানে বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি ডিভেলপমেন্ট এন্ড ইয়ুথ সার্ভিস (বাকডিস) আয়োজন করে “নিউ ইয়ার্স ইভ এক্সট্রাভগান্জা” নামে ২০১৮’কে স্বাগত জানানোর পার্টি। বাকডিস’এর ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মিসবা আবদিন ও অন্যতম পরিচালক ওয়াল্টার ক্যাম্পবেল আশরাফুল হাসান বুলবুল’কে নিয়ে স্বাগত জানান অতিথিদের। সাজানো হয়েছিল রকাওয়ে হল অডিটোরিয়াম। পুরো হল জুড়ে বাংলাদেশের শিল্পীদের বেশ কিছু অঙ্কন ফ্রেমে বাঁধিয়ে মাউন্ট করে সৌন্দর্য বাড়িয়েছিলেন ফিলাডেলফিয়ার ফটোগ্রাফার ও শিল্পী আবুল ফজল। প্রতিটি টেবিলে ছিল সকলের জন্য উপহার। ডি.জে. সায়ীদ এর আলো আঁধারের খেলায় পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছিল ২০১৮’কে আমন্ত্রণ জানাবার জন্য এক অনন্য উপভোগ্য পরিবেশে। সকলে নিউ-ইয়ার্স ইভ’এ প্রার্থনা করেন সৃষ্টি কর্তার কাছে, যেন ২০১৮ হয়ে ওঠে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে পূর্ণ, বিশ্বে থাকে শান্তি, সকল জাতি, ধর্ম, ভাষা ও বর্ণের মানুষ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নিয়ে বসবাস করে মানুষের একমাত্র বাসযোগ্য পৃথিবীতে। রাত সাড়ে ন’টায় শুরু হয় শিল্পীদের সংগীত। এতে অংশ গ্রহণ করেন চন্দন চৌধুরী, রানো নাওয়াজ, রোকসানা মির্জা, নাজিয়া লিনা, মনিকা দাস, কামরুজ্জামান লাল্টু, নিউ জার্সি থেকে যোগ দেন ডি.জে. সায়ীদ। যন্ত্র সংগীতে ছিলেন জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড’এর মনু মির্জা, রিপন, সজীব ও ঢোলক শফিক। দুটো’র পরে একটানা চলে ডি জে সায়ীদ এর নৃত্য -বান্ধব বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি গান। সকলের প্রফেশনাল ফোটা ক্যাপচারিং’-এ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী শফিকুল হক। সকলে ২০১৮ এর সুন্দর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেমন প্রার্থনা করেন তেমনি সৃষ্টি কর্তার দেয়া নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে করেন আনন্দ উল্লাস। ও শিল্পী রোকসানা মির্জা, রানো নাওয়াজ ও নাজিয়া লিনা পৃথকভাবে সংগীত পরিবেশনের পর একসাথে গান করেন মধ্যরাতের পর। তাদের পরিবেশনা’র পর মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে রকাওয়ে হল এবং বার বার নতুন নতুন সংগীতে নেচে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। মাঝে মিসবা আবদিন ও ওয়াল্টার ক্যাম্পবেল গেলো বছর ২০১৭’তে কমিউনিটি’র উন্নয়নে অবদান রাখবার জন্য শুভেচ্ছা সহ বাকডিস এর প্ল্যাক হাতে তুলে দেন বিশিষ্ট বেক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ও ২০১৭ এর সেরা তরুণ ব্যাবসায়ী হিসেবে ফিলাডেলফিয়ার লুৎফর রহমান হিমু, নিউইয়র্কের সেরা ব্যাবসায়ী ও সমাজ হিতৈষী হিসেবে পুরস্কৃত হন এনওয়াই ইন্সুরেন্স ব্রোকারেজ এর প্রেসিডেন্ট শাহ নাওয়াজ, ওজোন পার্কের সেরা খাবার রেস্তোরা ১০১ এভিনিউ এর দাওয়াত রেস্তোরা, সেরা সুপারমার্কেট মান্নান হালাল সুপারমার্কেট ও মূলধারা থেকে কমিউনিটি’কে সহযোগিতা করবার জন্য সেরা সম্মাননা গ্রহণ করেন এটর্নি পেরি ডি. সিলভার। মান্নান সুপার মার্কেট ও দাওয়াত রেস্টুরেন্টের পক্ষে প্ল্যাক গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালক এ.জে. বাবুল ও মোহাম্মদ এ. আজাদ। এ ছাড়াও হিলসাইডের হালাল ফাস্ট ফুড রেস্তোরা কেনেডি ফ্রাইড চিকেন’এর স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন সেলিম’কে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন মিসবা আবদিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংগীত-নৃত্যের মাঝে তিনটি রাফেল পুরস্কার দেন আয়োজকগণ ও এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল এক বছরের জন্য ২৪০ টি ফ্রি চ্যানেল দেখবার সুযোগসহ রেডিয়ান্ট টেলিভিশন বক্স যেটি পান শিল্পী নাজিয়া লিনা ও তার মা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার পান যথাক্রমে বাংলা ব্যান্ড এর কিবোর্ডিস্ট রিপন ও অতিথি লিনা।
তীব্র ঠান্ডা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এসেছিলেন শিল্পী ও অতিথিরা। তাদের সকলের প্রতি নতুন বছরের শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মিসবা আবদিন ও তিনি জানান আয়োজক সংগঠনটি শতভাগ অলাভজনক ও নতুন ইমিগ্রান্ট সহ সকল নিউইয়র্কারদের সাহায্য করে বাকডিস। তিনি এ গিয়ে ইচ্ছুক সকলকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান অতিথিদের। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।